ত্রাণের ঘরে বেড়ে ওঠা নাদিয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে?
নাদিরা আক্তার
রুবেল মিয়া নাহিদ
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৯ | আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ | ০৭:৪০
| প্রিন্ট সংস্করণ
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার উত্তর পৈকখালী গ্রামের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে একটি ছোট্ট ত্রাণের ঘর। বাইরে থেকে দেখলে হয়তো এটি আর দশটি সাধারণ ঘরের মতোই মনে হবে। এই ঘরের ভেতরেই বেড়ে উঠছে এক অসাধারণ স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের নাম নাদিরা আক্তার। বয়স কম, সামর্থ্য সীমিত, স্বপ্ন আকাশছোঁয়া। জাতীয় নারী ফুটবল দলের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চান !
নাদিরার দিনমজুর বাবা দুলাল আকন সংসারের চাকা ঘোরাতে প্রতিদিনই কঠোর পরিশ্রম করেন। মা শাহিদা আক্তার চার সন্তান আর পরিবারে নিত্যদিনের অভাব-অনটন মেটাতেই ব্যস্ত! বড় ভাই অষ্টম শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে বাবার সঙ্গে কাজ করছেন। মেজ ভাই এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ছোট ভাই পড়ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এমন বাস্তবতায় অনেক শিশুর স্বপ্ন থেমে যায়। নাদিরা থামেনি। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার দুর্বলতা। গ্রামের মাঠে ছেলেদের সঙ্গে খেলতে খেলতেই ফুটবলের প্রতি আগ্রহ। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথমবার স্কুল দলের হয়ে মাঠে নামে সে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিরা। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত ফুটবল অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকলেও মাঠে তার আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রম কখনও কমেনি।
সম্প্রতি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর জেলা পর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় নিজের অসাধারণ নৈপুণ্যে সবার নজর কেড়েছে নাদিরা। পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নকআউট, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচে ছিল তার দাপুটে উপস্থিতি। মাত্র তিন ম্যাচে একাই ছয় গোল করে আলোচনায় আসে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে একের পর এক গোল করে দর্শকদের মুগ্ধ করে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতার পাশাপাশি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতিও পেয়েছে নাদিরা।
জেলা পর্যায়ে সাফল্যের পর বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়েও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে নাদিরা। তার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী ধাপের প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে; যা তার ফুটবল ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় অর্জন।
তবে স্বপ্নপূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা অর্থনৈতিক সংকট। ভালো প্রশিক্ষণ, উন্নত সরঞ্জাম কিংবা পেশাদার কোচিংয়ের সুযোগ তার নাগালের বাইরে। তবুও হতাশ নয় নাদিরা। বলে, ‘আমার খুব ইচ্ছা দেশের হয়ে জাতীয় নারী ফুটবল দলে খেলতে। কিন্তু আমাদের পরিবারের অবস্থা ভালো না। বাবার পক্ষে কোচিং করানো সম্ভব না। যদি ভালো প্রশিক্ষণ আর একটা সুযোগ পাই, তাহলে অনেক দূর যেতে পারব।’u
- বিষয় :
- স্বপ্ন
