ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

প্রেরণা

পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে এগিয়ে যান

পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে এগিয়ে যান
×

শেরিল স্যান্ডবার্গ

আরমান খান

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৭:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

শেরিল স্যান্ডবার্গ। আমেরিকান প্রযুক্তি নির্বাহী, সমাজসেবী এবং লেখক। তিনি মেটা প্ল্যাটফর্মের চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০২২ সালের আগস্ট পর্যন্ত। এই হার্ভার্ড গ্রাজুয়েট তাঁরই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের সামনে দেওয়া এক বক্তব্য থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন আরমান খান

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়; আপনারা আজ যেখানে বসেছেন, ঠিক সেখানেই বসে ছিলাম আমি। সময়ের ব্যবধানে পৃথিবীটা দারুণভাবে বদলে গেছে। আমার সেকশন ছিল বি। এই সেকশনে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল প্রথম তাদের অনলাইন ক্লাস শুরু করে। ১৯৯০ দশকের শুরুতে মানুষ এমন পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রস্তুত ছিল না। তবু আমরা যেন ভবিষ্যতের জানালায় উঁকি দিচ্ছিলাম–এ এমন এক ভবিষ্যৎ, যেখানে টেকনোলজি আপনাকে সেই ক্ষমতা দেবে, যাতে আপনি আপনার পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে মুহূর্তেই যোগাযোগ করতে পারবেন।

মানুষ মানুষের জন্য 
১৭ বছর আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক বিপণন নিয়ে অধ্যাপক বিকাশ রঞ্জনের কাছে পড়তে গিয়ে জেনেছি, যদি মানুষ মৃত্যুর আগে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করে যেত, তাহলে প্রতিদিন গড়ে 
১৮ জন করে মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হতো। আমি এ আইডিয়াটি ফেসবুকে প্রচার চালিয়ে আসছি। এর ফলে যাদের জীবন বেঁচে যাচ্ছে, তারা সেদিনের 
শিক্ষার ফল পাচ্ছেন।

আজকের বদলে যাওয়া সময়
সেই সময়টাতে নিজের কথা সবাইকে শোনাতে গেলে আপনাকে ধনী কিংবা শক্তিশালী বা বিখ্যাত ব্যক্তি হতেই হতো। আপনাকে হতে হতো রাজনীতিবিদ, সেলিব্রিটি বা কোনো কোম্পানির সিইও। আজ এই ধারণা বদলে গেছে। সাধারণ মানুষেরও আজ বলার অনেক ক্ষমতা। এই ধারণার জন্য হার্ভার্ডে আসতে হবে না সাধারণ মানুষকে। আজ ফেসবুক, টুইটার বা সামান্য মোবাইল ফোন ভেঙে দিয়েছে সেই দেয়াল। সমাজের ক্ষমতার চিরাচরিত কাঠামো, নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আজ এর কল্যাণেই প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তির নাগালে এসে পৌঁছেছে।

ক্যারিয়ারে ঝুঁকি নিতেই হবে
২০০১ সালে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর আমি সিলিকন ভ্যালিতে আসি চাকরির খোঁজে। সময়টা ভালো ছিল না। অর্থনৈতিক মন্দার সঙ্গে নতুন ধরনের কাজে নিজেকে মানানোর কোনো নিশ্চয়তাও ছিল না। ফলে আমি একের পর এক আবেদন করতে থাকি নানা প্রতিষ্ঠানে; যাদের অনেকক’টিতে কাজ করার সুযোগ পেলেও আমার চাহিদার সঙ্গে না মেলায় গুগলে প্রথম বিজনেস ইউনিট ম্যানেজারের পদে কাজ শুরু করি। যদিও তখন কেউ ভাবেনি, গুগল আজকের অবস্থানে আসবে। আমার ক্যারিয়ারের শুরুটা ভালোই ছিল। তবু সাড়ে ছয় বছর পর ফেসবুকে চলে আসি আরও অনেক অফার উপেক্ষা করে। ‘ক্যারিয়ার জিনিসটা অনেকটা মইয়ের মতো।’ 

বিশ্বাস আর সম্মান আদায় করুন
নিজেকে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি করুন। সিভি ভারী না করে, বেশি সময় পরিকল্পনায় নষ্ট না করে নিজের যোগ্যতা বাড়ান। ডিগ্রি আপনাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করবে না। যেখানে কাজ করবেন, সেখানে সবার ভালোবাসা, বিশ্বাস আর সম্মান আদায় করুন। আপনার শক্তি আপনার পদ থেকে আসে না; বরং যাদের সঙ্গে কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্কের ওপর এই শক্তি নির্ভরশীল। ফলে নিজের আশপাশের মানুষের কথাও শুনুন। তাদের কাছ থেকে নিন উদ্দীপনা।

ভালোবাসুন নিজেকে, গুরুত্ব দিন মনটাকে
আমরা যত বড় হই, ততই ছোটবেলার সরলতা আর সততা হারিয়ে ফেলি। যারা কোথাও নেতৃত্ব দেবেন, তাদের সত্য কথাগুলো বুঝতে ও বলতে হবে। যদিও সবক্ষেত্রে কাজের জায়গায় সত্য বলা কঠিন। আপনার মতামত সরাসরি বলাটা ভালো ফল এনে দেয়; যেমনটা আমরা করি মেটায়। যারা আজ এখানে গ্রাজুয়েশন করছেন, তাদের উৎসাহী হতে হবে তাদের ভালোবাসার জিনিসটা থেকে। কাজকে ভালোবাসতে হবে। যাদের সঙ্গে কাজ করছেন তাদের পছন্দ-অপছন্দটাও বুঝতে হবে। আপনার মনটাকে ব্যবহার করে 
নেতৃত্ব দিন। 

আরও পড়ুন

×