প্রেরণা
বার বার ফেল করেও আমি ঘুরে দাঁড়িয়েছি
জ্যাক মা ছবি : সংগ্রহ
আরমান খান
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
জ্যাক মা। চীনা ধনকুবের। ১৯৯৯ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত আলিবাবার বর্তমান বাজারমূল্য ৫০০ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে! ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা এ কিংবদন্তি বিজনেস ইনসাইডার, ইউএসএ টুডে, সিক্সটিন মিনিট, রয়টার্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণামূলক কথা তুলে এনেছেন আরমান খান
আমি প্রায়ই সহপাঠীদের সঙ্গে ঝগড়া করতাম। প্রতিপক্ষ যতই বড় হোক আমি কখনও ভয় পেতাম না। কিশোর বয়সে আমি শহরের প্রধান হোটেলে ঘুরতে যেতাম। এর পেছনে ছিল ভিন্ন এক উদ্দেশ্য। এজন্য প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতাম। মূলত ইংরেজি শেখার বিনিময়ে দর্শনার্থীদের ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করতে ওই হোটেলের আশপাশে ঘুরতাম। একজন পর্যটকের সঙ্গে আমার দারুণ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তিনিই আমাকে ‘জ্যাক’ ডাকনাম দিয়েছিলেন। কারণ আমি জানতাম, অর্থ বা যোগাযোগ ছাড়া আমার এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায় শিক্ষা।
পরীক্ষায় ফেল ও ঘুরে দাঁড়ানো
হাইস্কুল শেষ করে আমি কলেজে ভর্তির আবেদন করি। কিন্তু দুবার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ফেল করি। এরপর প্রচুর প্রড়াশোনা শুরু করি। অবশেষে তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় উত্তীর্ণ হই এবং হাংঝু টিচার্স ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই। ১৯৮৮ সালে স্নাতক শেষ করি। এরপর শুরু হয় চাকরির লড়াই। আমি ইচ্ছে মতো চাকরির জন্য আবেদন করতে থাকি। ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের আগে আমি কেএফসিসহ এক ডজনেরও বেশি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যাখ্যাত হই। অবশ্য শিক্ষক হিসেবে আমি খুব সাবলীল ছিলাম এবং নিজের কাজকে ভালোবাসতাম। যদিও মাসে মাত্র ১২ ডলার বেতন পেতাম।
অনলাইনে খোঁজা প্রথম শব্দ
কম্পিউটার বা কোডিং নিয়ে আমার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সময় প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটের প্রতি আকৃষ্ট হই। তখন আমি অনুবাদ ব্যবসা শুরু করি এবং একটি চীনা কোম্পানির অর্থ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে ওই ভ্রমণ যাই। আমার প্রথম অনলাইনে সার্চ করা শব্দ ছিল ‘বিয়ার’। কিন্তু দেখি যে, ফলাফলে কোনো চীনা বিয়ার আসেনি; যা আমাকে রীতিমতো অবাকই করেছিল। তখনই আমি চীনের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিই। যদিও আমার প্রথম দুটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। চার বছর পর আমার অ্যাপার্টমেন্টে ১৭ জন বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানাই। তাদের ‘আলিবাবা’ অনলাইন মার্কেটপ্লেসের জন্য বিনিয়োগ করতে রাজি করাই। সাইটটিতে রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্য পোস্ট করতে পারতেন, আর গ্রাহকরা সেখান থেকে সরাসরি কিনতে পারেন। খুব দ্রুত ওয়েবসাইটটি সারা বিশ্বের মানুষকে আকৃষ্ট করতে শুরু করে। ১৯৯৯ সালের অক্টোবরের মধ্যে কোম্পানিটি গোল্ডম্যান স্যাকস থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার ও সফটব্যাংক থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেয়ে যায়। একবার কর্মীদের এক সমাবেশে আমি বলেছিলাম, ‘আমরা এটা করব, কারণ আমরা তরুণ ও কখনোই হাল ছেড়ে দিই না!’
ভালোর জন্যই প্রযুক্তি
ভালো এবং খারাপ সব কিছুতেই থাকে। আমি বিশ্বাস করি প্রযুক্তি কেবলই ভালোর জন্য। এটি মানুষের হতাশা তাড়িয়ে নতুন গতির সঞ্চার করে। স্বপ্ন দেখায় নতুন করে। ভাবতে শেখায় তুমুল গতিতে। আলিবাবার যেই জার্নি তাতে চোখ রাখলে বলতেই পারি যে, আগামীর দিনগুলোতেও এই প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিতে ভর করে তুমুল গতিতে ছুটে চলবে। গতির এই ট্র্যাকে আলিবাবা তুলে আনবে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান ও তাদের কর্মীদের।
নিজস্ব জগতে সবাই স্বপ্নবাজ
প্রত্যেকের নিজস্ব জগৎ থাকে। সেই জগৎজুড়ে ছড়িয়ে থাকে রাজ্যের স্বপ্ন। আলিবাবা আমার তেমনি অসংখ্য স্বপ্নের একটি। মানুষ সেই স্বপ্নের পেছনে ছোটে। আমিও ছুটব। আলিবাবার চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছি। সেই ছেড়ে দেওয়া মানেই হাত-পা গুটিয়ে অবসরে চলে যাওয়া নয়। নতুন করে ব্যস্ততায় ডুব দেওয়া। শিক্ষা, পরিবেশ রক্ষা এবং মানুষের মধ্যে মানবিকতা জাগিয়ে তোলার কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চাই। এই কাজগুলোর অপেক্ষাই যেন করেছি এতদিন ধরে।
- বিষয় :
- প্রেরণার কথা