ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নিজেকে উপস্থাপনের প্ল্যাটফর্ম

নিজেকে উপস্থাপনের প্ল্যাটফর্ম
×
×

গিটার হাতে অর্ণবের সঙ্গে গলা মেলান–‘তুই গান গা/ ইচ্ছেমতো/ বাতাসকে খুশি করে বাঁচ...’ মডেল: অমৃতা, সাজনিয়া ও তারেক; ছবি: সাহস

 জান্নাতুল ফেরদৌস ফারিয়া

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

আপনি ছবি আঁকেন, কবিতা লিখেন, গলা ছেড়ে গান গেয়ে আড্ডা মাতিয়ে তোলেন। কিংবা ক্যামেরা হাতে দুনিয়া জয়ের স্বপ্ন দেখেন; অথচ নিজের এই সৃজনশীলতা প্রকাশের মাধ্যম পাচ্ছেন না বলে গুটিশুটি বসে আছেন। সামাজিক মাধ্যমকেও পাত্তা দিতে চান না। আপনার জন্যই সৃজনশীলতা প্রকাশের বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাইট নিয়ে লিখেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ফারিয়া

মেধা নামক বস্তুটি নিশ্চয়ই আপনাকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায়। আপনার সেই মেধা যদি হয় সৃজনশীল; তবে তো কথাই নেই! আপনার সৃজনশীল মেধাকে কাজে লাগিয়ে যদি আলোচনায় আসতে চান, তবে আপনাকে বলছি। একটু থামুন। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, আসলেই আপনি সৃজনশীল? আপনার মেধাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ক্ষমতাটা আছে আপনার? আপনার মধ্যে কি আত্মবিশ্বাস, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা এবং ব্যর্থতা মেনে নতুন উদ্যমে পথ চলার শক্তি আছে?
এসবের উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে আসুন, এবার সৃজনশীল মেধাটাকে ঘষামাজার কাজে নামুন। 

পেশা এক, কাজ করছেন আরেক?
একেকজনের ভাবনা যেমন একেক রকম, তেমনি একেকজনের পছন্দও একেক। তাই আপনার সব কিছুই সবার ভালো লাগবে বা লাগতে হবে- এমন কিন্তু নয়! তাই নিজের ভালোলাগা বা পছন্দের বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করুন। ধরুন, আপনি কবিতা লিখতে ভালোবাসেন, কিন্তু পেশায় চিকিৎসক। তাই বলে কবিতা লিখেই যে আপনাকে ক্যারিয়ার টেনে নিতে হবে, তা কিন্তু নয়। তাই বলে আবার আপনি কবি পরিচিতিটা উপভোগ করবেন না, তাও হতে পারে না। বলছিলাম, পেশা-নেশায় হট্টোগোল না বাঁধিয়ে মেধাটা কাজে লাগিয়ে যান। তবেই সাফল্য ধরা দেবে আপনার বুড়ো আঙ্গুলে!
চলুন, যে সব সৃজনশীলতা দেখিয়ে আপনি নিজেকে নতুন করে চেনাতে পারবেন, তেমন কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক।

গানের সুরে মনের কথা
আমরা জাতিগতভাবে আবেগী। এই আবেগী মনে সুনামির মতো এসে ধরা দেয় কবিতা আর গান। আর আপনি যদি ভাবনাটাকে আরেকটু ঝালিয়ে নিতে পারেন, সুর দিয়ে তুলে নিতে পারেন সুরের হাইওয়েতে; তবে অন্য পথে হাঁটবেন কোন দুঃখে? জীবনটাকে টেনে নিতে যদিও আপনি অন্য পথে হাঁটছেন। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ব্যাংকিং। কিংবা চিকিৎসক হিসেবেও নাম কুড়িয়েছেন বেশ। তাতে কী! চলে আসুন গানের রাজ্যে। সুর তুলুন চটপটি-ফুচকার গায়ে। বাদামের খোসাও বাদ যাবে কেন আপনার সুরের ছোবল থেকে? শুরুতে এ ঘর-ও ঘর না দৌড়ে নিজেকে ঝালাই করুন ব্যাকরণ মেনে। তারপর বাইরে যেতে মন না চাইলে মনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার দরকার নেই। ঘরে বসে তাতে বারবার চোখ বোলান। তারপর আপনার গানের কথা এবং কম্পোজিশন নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামুন– 
soundcloud.com
www.bandlab.com
www.youngcomposerinitiative.org
নিতে পারেন এই সাইটগুলোর সহযোগিতা। 

ফ্রেমের মায়ায় ফটোগ্রাফিতে 
ফ্রেমের ছলাকলা আপনার মেধায় আসন করে নিলে তা না থামিয়ে উস্কে দিন। ক্যামেরায় যদি আপনার ভাবনাকে কথা বলাতে পারেন, নিজের সৃজনশীল দেখাটাকে ক্যামেরায় ধরে তা যদি মানুষের সামনে উপস্থাপনের ক্ষমতা থাকে, তো ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়ুন সৃজনশীলতা ফ্রেমের খোঁজে। একসময় ফটোগ্রাফিকে ছোট চোখে দেখা হলেও এখন সবার দৃষ্টি পাল্টেছে। মেনে নিয়েছে, এটাও সৃজনশীলতার অনেক বড় একটি মাধ্যম। তাই বলি, আপনার মধ্যে যদি ফটোগ্রাফির নেশা ভর করে, তবে ভাগ্যটাকে একবার হাওয়ায় ঝুলিয়ে দিন। এর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন অনলাইনের সহযোগিতা নিয়ে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বের হওয়া ফটোগ্রাফিক ম্যাগাজিন, সেমিনার আর প্রতিযোগিতার খোঁজও মিলবে নেটে। পাবেন রাজ্যের তথ্যও। এ সব তথ্য সামনে রেখে কাজটিকে আরেকটু সিরিয়াসলি নিন। নিজেকে পোক্ত করুন। তারপর আবার কাজে নামুন। তোলা ছবি নিয়ে কোথাও যেতে মন না চাইলে যাবেন না। ঘরে বসে তা অনলাইনে সাবমিট করুন। সাফল্য খুঁজে নেবে আপনাকেই। এই সাইটগুলোর সহযোগিতাও নিতে পারেন–
500px.com 
500px.com/licensing
www.photocrowd.com
www.lensculture.com
www.freelancer.com

সিনেমা তৈরি
আমরা অনেকেই আছি যারা এইটুকুন বয়স থেকে সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখছি। পেশা বদল হলেও কিন্তু সেই স্বপ্ন প্রতিনিয়ত তাড়া দিয়ে যাচ্ছে আপনাকে। এই তাড়নাটাকেও আপনি বেশ দরদ দিয়ে দেখেন। একা মুভি দেখতে বসে কত কি ভাবেন! মুভির স্ক্রিপ্ট, ফ্রেমিং, লং ও ক্লোজ শর্ট নিয়ে কত কী খেলে যায় আপনার ভাবনায়! সেই ভাবনার গায়ে ভর করে আপনার আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো। তাছাড়া আপনি আশপাশে যা দেখেন, তা খুব দরদ দিয়ে দেখেন। আপনার এই অন্যরকম দেখাটাকে অন্যদের দেখাতে চান। মূক বস্তুকে কথা বলানোর ক্ষমতা যদি থাকে আপনার, তবে ক্যামেরা নিয়ে নেমে পড়ুন। আজকাল মুভি বানাতে অনেক টাকা লাগে না। ছোট থেকে শুরু করুন! শুরুটা হতে পারে ডকুমেন্টারি বা শর্ট ফিল্ম দিয়ে। তাছাড়া পৃথিবীজুড়ে তো এখন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল লেগে আছে। সেসবে পাঠান আপনার কাজ। আর ফিল্ম জমা দেওয়ার জন্য যেসব সাইটের সহযোগিতা নিতে পারেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে–
filmfreeway.com
vimeo.com
www.filmaka.com।

লেখার হাতে ফুল ফুটেছে
সৃজনশীলতার আরেক নাটাই হয়ে মাথায় ঘাপটি মেরে বসে থাকে লেখালেখি। সুযোগ পেলে সুতা ছাড়তে শুরু করে। আর ভাবনার ঘুড়ি ধেই ধেই ছুটতে ছুটতে হারিয়ে যায় নীড়ের ভিড়ে। স্কুল, কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা চাকরিতে এসে নিজের একান্ত গহীন-গোপন-গহ্বরের কথা ডায়েরি বা খাতার পাতায় লিখেনি এমন মানুষ খুঁজে পাবে না গুগল সার্চেও! আর এখন তো ফেসবুকে সবাই মনের বাসনা। গহীনের সব কথা লিখে যাচ্ছেন অনলাইনে। বলি, আপনার লেখাটা যদি অন্যকে নাড়া দেয়, মনের ভেতর তাড়া দেয়, তবে কেন এই লেখালেখিটাতে মন না দিয়ে অন্য কাজে বুঁদ হয়ে থাকবেন? আর লেখালেখিতে তো এখন কোনো বর্ডার নেই। বাংলা ছাড়াও ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষায় লিখতে পারলে ইউরোপ, আমেরিকায় অনেক পত্রপত্রিকা আছে, সে সবে পাঠান। দেখবেন, আপনার ভাবনার কদর ঠিকই পাচ্ছেন। তবে এই ক্ষেত্রে আপনার ট্যালেন্টের মার্কেটিংটা আপনাকে করতে হবে। এতে করে আপনার ফলাফল ভালো হতে পারে। আপনার লেখা এসব সাইটে পাঠাতে পারেন–
reedsy.com/resources/writing-contests/ 
www.teenink.com
www.writersdigest.com
medium.com

ছবি আঁকা ও ডিজাইনিং
এ ক্ষেত্রেও গল্প আগেরটা। দেশের আনাচে-কানাচে অনেক আর্ট গ্যালারি আছে, সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। পাশাপাশি নিজের একটা ওয়েবসাইট তৈরি করেও নানা সুযোগ-সুবিধা পকেটে পুরতে পারবেন। আপনি আপনার ডিজাইন বা আঁকাগুলো যদি অ্যাসেম্বল করে একটা গ্যালারি বানাতে পারেন, তবে তা খুব সহজে মানুষের চোখে পড়বে। জানেনই তো, এখন অনেক দেশি-বিদেশি আর্ট প্রোমোটার ও বিশেষজ্ঞ নতুন প্রজন্মের আর্টিস্টদের নিয়ে কাজ করে থাকে। এতে করে আপনার কাজ কিন্তু খুব সহজেই বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারছেন। এক্ষেত্রে কিছু ওয়েবসাইটের সাহায্য নিতে পারেন
www.behance.net
www.artstation.com
www.saatchiart.com

তবে আপনার ট্যালেন্ট তুলে ধরার জন্য কখনও ছল-চাতুরির আশ্রয় নেবেন না। একটু খাটুন আর একটু কাজে লাগান মেধাটাকে। তাহলেই পায়রা উড়াতে পারবেন আপনার মেধার! এখন ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব-এর চেয়েও এআই আমাদের জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছে। সঙ্গে আমাদের চিন্তাভাবনারও। এতদিন আমরা যেসব নিয়ে ভাবতাম, সেসবকে এখন ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিচ্ছে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। তাই সৃজনশীলতার সংজ্ঞাটিও এখন 
আর আগের মতো নেই। তাই বদলাতে হবে আমাদের। আমাদের চারপাশে বদলে 
যাওয়া এসবের সঙ্গে আপনার সৃজনশীলতা মিশিয়ে দিন! 

আরও পড়ুন

×