ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিল্পকলায় শুরু মর্যাদাপূর্ণ উৎসব ‘ছবি মেলা’

অংশ নিচ্ছেন পাঁচ মহাদেশের ৫৮ শিল্পী

শিল্পকলায় শুরু মর্যাদাপূর্ণ উৎসব ‘ছবি মেলা’
×

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা অডিটোরিয়ামে গতকাল আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থী সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

শীতের দুপুরের মিষ্টি রোদ তখনও মিলিয়ে যায়নি। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের ব্যস্ত রাজপথ দেখল এক অন্যরকম শোভাযাত্রা। স্লোগানহীন, অথচ দৃপ্ত সেই পদচারণায় শামিল হয়েছিলেন দেশ-বিদেশের আলোকচিত্রী, শিল্পী আর সংস্কৃতিপ্রেমীরা। লক্ষ্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এশিয়ার আলোকচিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উৎসব ১১তম ‘ছবি মেলা’। 

গতকাল শুক্রবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন করা হয় আন্তর্জাতিক এই আলোকচিত্র উৎসব। দৃক পিকচার লাইব্রেরি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে ২০০০ সাল থেকে চলে আসছে এই আয়োজন। উৎসবটি এখন আর নিছক প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ নেই, পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম অন্তর্ভুক্তিমূলক এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।

জাতীয় চিত্রশালা অডিটোরিয়ামে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এই আয়োজনের মর্মার্থ তুলে ধরেন গভীর দর্শনের জায়গা থেকে। তিনি বলেন, ছবি মেলাকে উৎসব হিসেবে দেখা ভুল হবে। আমি এটিকে একটি আন্দোলন হিসেবে দেখি, একটি প্রতিরোধ হিসেবে দেখি; একটি জাগরণ হিসেবে দেখি। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে পথ চলছি। 
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর কণ্ঠে আলোকচিত্র শিল্পকে এতদিন রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক চর্চায় অবহেলা করার আক্ষেপ ঝরল। তবে তিনি সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে শোনালেন নতুন দিনের কথাও। ফারুকী বলেন, শিল্পকলা একাডেমিতে বিভাগ বাড়ানো হবে।  এ ব্যাপারে সম্প্রতি একটি অধ্যাদেশ পাস হয়েছে। আলোকচিত্র বিভাগ এখন থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করবে। ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগে এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে তিনি দৃক ও পাঠশালাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং উৎসব পরিচালক এএসএম রেজাউর রহমান। কিউরেটরিয়াল নোট উপস্থাপন করেন আর্টিস্টিক ডিরেক্টর মুনেম ওয়াসিফ ও সরকার প্রতীক।

এবারের ছবি মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘পুনঃ’। শব্দটি ছোট, কিন্তু এর ব্যাপ্তি বিশাল। ‘পুনঃ’ মানে আবার, নতুন করে কিংবা অন্যভাবে শুরু করা। এই ভাবধারার আলোকেই সাজানো হয়েছে এবারের ক্যানভাস। পাঁচটি মহাদেশের ১৮টি দেশ থেকে ৫৮ জন শিল্পী তাদের কাজ নিয়ে সমবেত হয়েছেন এই ঢাকার বুকে। আর উৎসবটি ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার পাঁচটি প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। সেগুলো হলো– বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, দৃকপাঠ ভবন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (সাউথ প্লাজা)। ১৬ দিনব্যাপী এই উৎসবে মোট ৯টি প্রদর্শনী হবে।
উদ্বোধনের পর বিকেলেই ‘আর্ট অ্যাজ রেজিস্ট্যান্স’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয় এক প্রাণবন্ত আলোচনা। এতে শহিদুল আলমের সঙ্গে অংশ নেন প্রখ্যাত আলোকচিত্র সাংবাদিক গ্যারি নাইট, আলোকচিত্রী মুহাম্মদ সালাহ আব্দুল আজিজ, কিউরেটর তানভি মিশ্রা এবং ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট ইয়াসমিন ইদ-সাব্বাহ।

উৎসবে একক ও দলীয় প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকছে আর্টিস্ট টক, প্যানেল আলোচনা ও লেকচার। তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে ২৫ থেকে ২৯ জানুয়ারির মধ্যে স্থানীয় স্কুলগুলোতে চলবে বিশেষ শিক্ষামূলক প্রচার কর্মসূচি, যেখানে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এ ছাড়া ছয়টি ইনটেনসিভ কর্মশালা আলোকচিত্রের কারিগরি ও নন্দনতত্ত্ব নিয়ে গভীর জানাশোনার সুযোগ করে দেবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে ছবি মেলা। নাগরিক কোলাহলের ভিড়ে একটুখানি নান্দনিক প্রশান্তি আর চিন্তার খোরাক পেতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকছে এই আলোর উৎসব।

আরও পড়ুন

×