ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

শীতেও চাই রোদচশমা

শীতেও চাই রোদচশমা
×

ছবি : শৈলী

রোজী আরেফিন

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

শীত মানেই ভারী পোশাক, নরম রোদ আর ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে একটা আলাদা মুড। এ মৌসুমে সবাই জ্যাকেট, সোয়েটার, কোট, স্কার্ফ এসব নিয়ে যতটা ভাবেন, চোখ সুরক্ষার কথা ততটা ভাবেন না। অথচ শীতে সানগ্লাস বা রোদচশমা এখন শুধু একটি স্টাইল অ্যাকসেসরিজ নয়, বরং চোখের আরাম ও সুরক্ষার অন্যতম অংশ। 
গরমের মতো ঝাঁজালো রোদ না থাকলেও শীতের রোদ কিন্তু অনেক তীক্ষ্ণ হয় আর আলোর প্রতিফলন চোখে বেশ বিরক্তি তৈরি করে। ঠান্ডা বাতাসে চোখ দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং বাইরের ধুলাবালুও চোখে সমস্যা করতে পারে। তাই শীতে রোদচশমা ব্যবহার বাস্তবিক প্রয়োজন এবং স্টাইল দুইয়েরই সমন্বয় ঘটায়। 
এ বছরের শীতের রোদচশমা ট্রেন্ড আগের বছরের তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময়। সবচেয়ে সামনে আছে ওভারসাইজড ফ্রেম। বড় ফ্রেমে চোখ ঢেকে থাকে ভালোভাবে, আবার একই সঙ্গে একটি বোল্ড ও কনফিডেন্ট লুকও পাওয়া যায়। শীতের ভারী জ্যাকেট বা কোটের সঙ্গে বড় ফ্রেমের রোদচশমা বেশ মানিয়ে যায়। কারণ পুরো আউটফিট ব্যালান্সড দেখায়। এরপর আসে ভিনটেজ বা রেট্রো অনুপ্রাণিত রোদচশমা। গোলাকার, ওভাল, ক্যাটস-আই বা পুরোনো দিনের স্কোয়ার ফ্রেম সবই এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা সাধারণ কিন্তু ক্লাসি চায়, তারা এ স্টাইল বেছে নিলে ভুল হবে না। 
শীতের আলো তুলনামূলক নরম; তাই হালকা রঙের টিন্টেড লেন্স এবার গ্রাহকদের দৃষ্টি কাড়ছে। নীল, সবুজ, ব্রাউন, অ্যাম্বার, গ্রে–এই রংগুলোয় চোখের আরামও পাওয়া যায়, আবার ফটো বা সেলফিতেও লেন্সের রংটা বেশ সুন্দর দেখা যায়। শীতে অনেক সময় ছবি তুললে চোখ ছোট করে রাখতে হয়। হালকা টিন্ট লেন্স সেই সমস্যা কমায়। ফ্যাশনের দিক থেকেও টিন্ট লেন্স পোশাকে একটু উজ্জ্বলতা যোগ করে। এ ছাড়া পোলারাইজড লেন্সও খুব জনপ্রিয়, বিশেষ করে যারা বাইক চালান বা বাইরে বেশি চলাফেরা করেন তাদের জন্য। পোলারাইজড লেন্স আলোর প্রতিফলন কমিয়ে দেয়। ফলে চোখ আরও রিলাক্সড থাকে। শীতে রোদের প্রতিফলন রাস্তা বা বিল্ডিং থেকে বেশি আসে। তাই এই লেন্স খুব কাজে লাগে। 
এবার আসা যাক দাম নিয়ে। বাংলাদেশে রোদচশমার দাম বিভিন্ন স্তরে পাওয়া যায়। এ কারণে নিজেদের বাজেট অনুযায়ী কেনাকাটা করা যায়। সাধারণ বাজেটের মধ্যে ৫০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকার মধ্যে যে রোদচশমা পাওয়া যায়, সেগুলো সাধারণত ফ্যাশন-ফোকাসড। এতে আলট্রা ভায়োলেট (ইউভি) প্রোটেকশন থাকে। তবে পোলারাইজড লেন্স খুব কম থাকে। মাঝারি স্তরে এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকার ভেতর সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই দামে পোলারাইজড লেন্স, ভালো মানের ফ্রেম আর সুন্দর ডিজাইন সবই পাওয়া যায়। যারা নিয়মিত সানগ্লাস ব্যবহার করেন বা বাইরে বেশি থাকেন, তাদের জন্য এই স্তর সবচেয়ে উপযোগী। ব্র্যান্ড পছন্দ করলে তিন হাজার টাকার ওপর বাজেট রাখতে হবে।  
শীতের পোশাকের সঙ্গে কোন সানগ্লাস মানাবে এটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেমন হুডি, সোয়েটশার্ট, ক্যাজুয়াল জ্যাকেটের সঙ্গে ওভারসাইজড বা স্পোর্টি ফ্রেম ভালো লাগে। ব্লেজার বা কোটের সঙ্গে ভিনটেজ গোল ফ্রেম, সোয়েটার ও স্কার্ফের সঙ্গে হালকা রঙের টিন্টেড লেন্স আর ডেনিম জ্যাকেট, কার্গো প্যান্ট বা স্ট্রিট-স্টাইল আউটফিটের সঙ্গে রেট্রো ফ্রেম দারুণ মানিয়ে যায়। 
এ ছাড়া মুখের আকৃতি কেমন তার ওপরও রোদচশমার ফ্রেম নির্ভর করে। গোলমুখের জন্য  আয়তাকার ফ্রেম ভালো, বর্গাকার মুখে গোল বা ওভাল ফ্রেম নিন। ওভাল মুখে প্রায় সব ফ্রেম মানায়। লম্বা-পাতলা মুখের জন্য মাঝারি বা ওভারসাইজড ফ্রেম ভালো মানিয়ে যায়। 
শীতে রোদচশমা বাছাইয়ের সময় আরেকটা বিষয় মাথায় রাখা উচিত–ফ্রেমের ওজন। শীতকালের পোশাকগুলো ভারী হয়। তাই হালকা ফ্রেম আরামদায়ক। মেটাল ফ্রেম পাতলা হলে ব্যবহার সহজ হয়, আবার প্লাস্টিক ফ্রেমে রঙের বৈচিত্র্য পাওয়া যায়।  
সব মিলিয়ে শীতের ফ্যাশনে রোদচশমা এখন এক ধরনের স্টাইল স্টেটমেন্ট। টুপি, জ্যাকেট, স্কার্ফের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে পুরো পোশাকটাই আরও আকর্ষণীয় দেখায়। আবার চোখের আরাম ও সুরক্ষার দিক থেকেও এটি খুব বাস্তবিক প্রয়োজনীয়। বাজারে এখন রোদচশমার এত বৈচিত্র্যভরা কালেকশন ও দাম আছে যে সবাই নিজের পছন্দ, বাজেট এবং স্টাইলমতো একটি রোদচশমা সহজেই বেছে নিতে পারেন। 
রোদচশমা সংক্রান্ত টিপস: 
লেন্স পরিষ্কার রাখুন, নরম কাপড় ব্যবহার করুন। 
রোদচশমা হার্ড কেসে রাখুন। 
রুক্ষ বা অতিরিক্ত রোদে রাখবেন না। 
ইউভি-পোলারাইজড লেন্স ব্যবহার করুন। 
স্ক্রু লুস থাকলে সময়মতো টাইট করুন। 

আরও পড়ুন

×