ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রয়োজনে সঙ্গী ছাতা

প্রয়োজনে সঙ্গী ছাতা
×

মডেল: নীলা ছবি: মঞ্জু আলম

রোজী আরেফিন  

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ০৭:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

এই সময়ে আবহাওয়া কিছুটা অনিশ্চিত। সকালে ঝকঝকে রোদ থাকলেও বিকেলে নামতে পারে ঝুমবৃষ্টি, আবার তীব্র রোদে বাইরে বের হওয়াও হয়ে ওঠে কষ্টকর। ছাতা এখন তাই শুধু বর্ষাকালের প্রয়োজনীয় জিনিস নয়, বরং সারাবছরের নিত্যসঙ্গী। স্কুল-কলেজ, অফিস, বাজার কিংবা ভ্রমণ–প্রায় সবক্ষেত্রেই একটি ভালো ছাতা মানুষকে দেয় স্বস্তি ও সুরক্ষা। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ছাতার ব্যবহারেও এসেছে আধুনিকতা ও ফ্যাশনের ছোঁয়া। 
একসময় ছাতা মানেই ছিল সাধারণ কালো কাপড়ের বড় আকৃতির একটি প্রয়োজনীয় জিনিস। এখন ছাতা হয়ে উঠেছে ব্যক্তিত্ব, রুচি ও স্টাইল প্রকাশেরও একটি অংশ। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন রং, নকশা, আকার ও ফিচারের অসংখ্য ছাতা পাওয়া যাচ্ছে। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ এখন নিজের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ছাতা বেছে নিচ্ছেন। 
বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ফোল্ডিং বা ভাঁজ করা যায় এমন ছাতা। এ ধরনের ছাতা আকারে ছোট হওয়ায় সহজেই ব্যাগে রাখা যায় এবং বহন করতেও সুবিধা হয়। অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন দীর্ঘসময় বাইরে থাকেন, তারা হালকা ও কমপ্যাক্ট ছাতাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। 
এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোলা এবং বন্ধ হয় এমন ছাতাও এখন বেশ ট্রেন্ডে রয়েছে। একটি বোতাম চাপলেই ছাতা খুলে বা বন্ধ হয়ে যায় বলে এটি ব্যবহার করতে খুবই সহজ ও ঝামেলাহীন। বৃষ্টির মধ্যে দ্রুত ছাতা খোলা বা গাড়িতে ওঠানামার সময় এই ফিচার অনেক সুবিধা দেয়। বর্তমানে শহুরে ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ ধরনের ছাতার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। 
ফ্যাশনের দিক থেকেও ছাতায় এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন শুধু গাঢ় রং নয়, বরং নানা ধরনের আকর্ষণীয় রং ও প্রিন্টের ছাতা বাজারে দেখা যাচ্ছে। প্যাস্টেল শেড, ফ্লোরাল ডিজাইন, চেক প্রিন্ট, ট্রান্সপারেন্ট স্টাইল, মিনিমাল আর্ট কিংবা কার্টুন মোটিফের ছাতাগুলো বিশেষভাবে জনপ্রিয়। অনেকেই এখন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ছাতা ব্যবহার করেন। বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে অফ-হোয়াইট, পিংক, লাইলাক, স্কাই ব্লু বা বেইজ রংয়ের ছাতার চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে ছেলেরা সাধারণত ব্ল্যাক, নেভি ব্লু, গ্রে বা ডার্ক টোনের সিম্পল ও এলিগেন্ট ডিজাইন পছন্দ করেন। 
বর্তমানে ট্রান্সপারেন্ট বা স্বচ্ছ ছাতাও বেশ ফ্যাশনেবল হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ছবি তোলা, ট্রাভেল বা ক্যাজুয়াল স্টাইলিংয়ে এ ধরনের ছাতা আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে। এ ছাড়া বড় আকৃতির গলফ ছাতা বা ডাবল ক্যানোপি ছাতাও এখন অনেকেই ব্যবহার করছেন। কারণ এগুলো বাতাসে সহজে উল্টে যায় না এবং দুজন মানুষ একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন। 
রোদে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষার জন্য ছাতার ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে। এ ধরনের ছাতায় বিশেষ কোটিং থাকে, যা সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি কিছুটা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তীব্র গরমে বাইরে কাজ করেন যারা বা দীর্ঘসময় রাস্তায় থাকতে হয়, তাদের জন্য এই ছাতা বেশ কার্যকর। অনেকেই এখন ত্বকের যত্নের অংশ হিসেবেও এ ধরনের ব্যবহার করছেন।   
ছাতার উপকরণেও এসেছে পরিবর্তন। আগে সাধারণ লোহার ফ্রেম বেশি ব্যবহার হলেও এখন ফাইবার, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের হালকা কিন্তু মজবুত ফ্রেমের ছাতা বেশি জনপ্রিয়। এতে ছাতা দীর্ঘদিন টেকে এবং ঝোড়ো বাতাসেও সহজে নষ্ট হয় না। ওয়াটারপ্রুফ কাপড় দ্রুত শুকিয়ে যায়–এমন ম্যাটেরিয়ালের ছাতার প্রতিও এখন ক্রেতার আগ্রহ বেশি। 
দামের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিভিন্নতা। সাধারণ মানের ছোট ফোল্ডিং ছাতা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। মাঝারি মানের স্টাইলিশ ও টেকসই ছাতার দাম সাধারণত ৭০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। অন্যদিকে অটো ওপেন, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা বা বাতাসরোধী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উন্নতমানের ছাতার দাম এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ব্র্যান্ডভেদে দামের পার্থক্যও দেখা যায়। শিশুদের জন্য কার্টুন ডিজাইনের রঙিন ছাতা ২৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। 
ছাতা কেনার সময় শুধু ডিজাইন দেখে নয়, বরং এর কাপড়ের মান, ফ্রেমের শক্তি, হ্যান্ডলের গ্রিপ ও ওজনের দিকেও খেয়াল রাখা উচিত। খুব ভারী ছাতা বহন করা যেমন কষ্টকর, তেমনি অতিরিক্ত পাতলা ছাতা দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই দৈনন্দিন ব্যবহার, ভ্রমণ কিংবা অফিস–যে উদ্দেশ্যেই হোক, প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ছাতা নির্বাচন করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। 
সব মিলিয়ে ছাতা এখন আর শুধুই রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচার উপায় নয়। এটি হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয়, স্মার্ট ও ফ্যাশনেবল একটি অনুষঙ্গ। সঠিক ছাতা যেমন আরাম ও সুরক্ষা দেয়, তেমনি ব্যক্তিত্ব ও স্টাইলেও যোগ করে আলাদা সৌন্দর্য। 
ছাতা কেনা ও ব্যবহারে ছোট কিছু টিপস 
হালকা ফোল্ডিং ছাতা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। 
ঝড়-বৃষ্টির জন্য মজবুত ফ্রেমের ছাতা ভালো। 
রোদে বের হলে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষার জন্য ছাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। 
পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ছাতা ব্যবহার করলে স্টাইলেও আলাদা সৌন্দর্য আসে। 
 

আরও পড়ুন

×