মেঘ-বৃষ্টির শাড়ি
এ বর্ষায় ডিজিটাল প্রিন্টের ফুলেল মোটিফের শাড়ির চাহিদা বেড়েছে মডেল: মনোয়ারা জলি, জারিন জারা ও লিন্ডা আয়েশা; ছবি: বিশ্বরঙ
রিক্তা রিচি
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বৃষ্টিমুখর দিনে বাইরে গেলে জর্জেট, সিন্থেটিক, শিফন, স্যাটিন কিংবা হাফসিল্কের শাড়ি পরা ভালো। ভিজে গেলে এ ধরনের শাড়ি দ্রুত শুকায়। এ বছর হালকা রঙের পাশাপাশি লাল, হলুদ, কমলা রঙের জর্জেট শাড়ি বেশি চলছে। ডিজিটাল প্রিন্ট, ফ্লাওয়ার মোটিফ, বল প্রিন্টের শাড়িগুলোর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। মেঘ, বৃষ্টি, কদমফুলের পাশাপাশি কিছু ব্র্যান্ডে ভ্যানগগের স্টারি নাইটের ডিজাইনের শাড়ি, ময়ূর, পশু-প্রাণীর প্রতিকৃতি, সমুদ্র থিমের শাড়িও রয়েছে। বৃষ্টিতে ভারী জামদানি, কাতান বা মোটা সিল্কের শাড়ি এড়িয়ে চলাই ভালো।
মন মোর মেঘের সঙ্গী, উড়ে চলে দিগ্দিগন্তের পানে নিঃসীম শূন্যে শ্রাবণবর্ষণসঙ্গীতে/রিমিঝিম রিমিঝিম রিমিঝিম। –রবীন্দ্রনাথ
মেঘের গুড়ুম গুড়ুম ডাক আর বৃষ্টিস্নাত দিনে বিছানায় শরীর এলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতেই ভালো লাগে। ভালো লাগে মগভর্তি চা কিংবা কফি হাতে নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখতে। কখনও বা ইচ্ছে করে ছাদে গিয়ে ঝুমবৃষ্টিতে কাকভেজা হতে। পরনে যদি থাকে মেঘনীল বেশ তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু চাইলেই কি ছুটি নেওয়া যায়? বর্ষণমুখর দিনেও যে অফিস, ক্লাস কিংবা কাজের প্রয়োজনে বাইরে যেতে হয়। দিনভর ছুটতে হয়। ভাবতে হয় পরিধেয় পোশাক নিয়েও। বৃষ্টিতে ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক পরা আরামের বটে। তবে শাড়ি পরতে বাধা নেই। শাড়িপ্রেমীদের কাছে বৃষ্টিদিন আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে। পরনে কদম ফুলের নকশা কিংবা পদ্ম নকশা করা যে কোনো হাফসিল্ক বা জর্জেটের শাড়ি, কানে সাদা কামিনি কিংবা রঙ্গন আর হাতে এক কাপ দুধ চায়ের মিশেল অনবদ্য অনুভূতি বটে। যাই হোক, বৃষ্টিমুখর দিনেও বাইরে গেলে পরতে পারেন শাড়ি। আলমারি খুলে বের করতে পারেন জর্জেট, সিন্থেটিক, শিফন, স্যাটিন কিংবা হাফসিল্কের প্রিয় শাড়িটি। সেটি গায়ে জড়িয়ে স্নিকার পরে জলকাদায় বেরিয়ে পড়লেও সমস্যা নেই। সারাটা দিন ঝামেলাহীনভাবেই কেটে যাবে।
জলকাদায় সুতি কেন নয়?
এই জল ভালো লাগে;– বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে/ধুয়েছে আমার দেহ– বুলায়ে দিয়েছে চুল– চোখের উপরে/তার শান্ত স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে,– আবেগের ভরে...’
–জীবনানন্দ দাশ
জল যার পছন্দ, তাকে আর কে রুখে। বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ালেও ক্ষতি নেই। তবে জলকাদায় বের হতে চাইলে সুতি এড়িয়ে চলাই ভালো। বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা জানান, বৃষ্টির দিনেও কেমন একটা ভ্যাপসা গরম আবহাওয়া থাকে। এমন আবহাওয়ায় সুতি আরামদায়ক হলেও, বর্ষাকালে সুতি শাড়ি না পরা ভালো। কারণ হঠাৎ বৃষ্টি নামলে সুতি কাপড়টা ভিজে যায়। গায়ের সঙ্গে লেপ্টে থাকে, আবার শুকাতেও দেরি হয়। সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় সিন্থেটিক, জর্জেটের শাড়ি পরলে। এগুলো দ্রুত শুকিয়ে যায়।
ব্র্যান্ডগুলোয় কী আছে?
বর্ষাকে মাথায় রেখে ফ্যাশন ডিজাইনাররা প্রতিবছর নিয়ে আসেন নতুন নতুন পোশাক। লা রিভের ডিজাইনার মারুফা শিল্পী বলেন, এ বছর বৃষ্টিদিনের শাড়ি হিসেবে আমরা কটন ও হাফসিল্ক রেখেছি। তবে বর্ষায় প্রায় প্রতিদিন পরার জন্য, বাইরে বের হওয়ার জন্য সিন্থেটিক ফেব্রিক যেমন জর্জেট, ওয়েটলেস জর্জেটের শাড়ি বেশি গ্রহণযোগ্য। কারণ জর্জেট দ্রুত পানি শুষে নেয়, তাই খুব দ্রুত শুকিয়েও যায়। তিনি বলেন, এই বর্ষায় আমাদের ব্র্যান্ড থেকে হাফসিল্কের শাড়িগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ধরনের শাড়িগুলো ভিজলে দ্রুত শুকিয়ে যায়।
বৃষ্টি দিনের কথা মাথায় রেখে ক্যাজুয়াল ও পার্টি শাড়ি নিয়ে এসেছে ‘বিশ্বরঙ’। বিপ্লব সাহা জানান, বর্ষাকালের কথা মাথায় রেখে আমরা সাদা, নীল রঙের পাশাপাশি লাল, হলুদ, কমলা ছাড়াও বিভিন্ন রঙের শাড়ি এনেছি। ডিজিটাল প্রিন্ট, ফ্লাওয়ার মোটিফ, বল প্রিন্টের শাড়ি এ ঋতুতে বেশি চলছে।
অনেকদিন ধরেই জর্জেট শাড়ি নিয়ে কাজ করছে পোশাকের অনলাইন ব্র্যান্ড ‘হরীতকী’। এ অনলাইন ব্র্যান্ডে ডিজিটাল প্রিন্টের শাড়ি পাওয়া যায়। তাদের সংগ্রহে স্টারি নাইট, ভ্যানগগের স্টারি নাইটের ডিজাইনের শাড়ি, ইসলামিক মোজাইক, ময়ূর, পশু-প্রাণীর প্রতিকৃতি, সমুদ্র থিমের শাড়িও রয়েছে বলে জানান হরীতকীর ডিজাইনার ও কো-ফাউন্ডার বলরাম পাল।
অফিস থেকে দাওয়াতে হালকা শাড়িই সেরা
বর্ষাকালেও নিমন্ত্রণ থাকে। অফিসেও থাকে বর্ষার আয়োজন। ক্যাজুয়াল দিন হোক কিংবা উৎসব– মনের মতো শাড়ি সারাদিনের সঙ্গী হতে পারে। সফট কটন, কটন ব্লেন্ড, লিনেন, মসলিন, হালকা সিল্ক বা শিফন শাড়ি বেছে নিতে পারেন। অফিস থেকে দাওয়াত সবখানেই সিন্থেটিক শাড়ি পরা যায়। যদি বৃষ্টি না থাকে তাহলে সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে হালকা সিল্ক বা টিস্যু শাড়িও হতে পারে সুন্দর পছন্দ। ভারী জামদানি, কাতান বা মোটা সিল্কের শাড়ি বৃষ্টির দিনে এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এসব কাপড় ভিজে গেলে ওজন বেড়ে যায় এবং চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ভেজা অবস্থায় এসব কাপড় গায়ে রাখলে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয় এবং ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে।
রঙে নকশায় প্রকৃতি
মারুফা শিল্পী জানান, প্রকৃতির রং যেমন হালকা সবুজ, হালকা গোলাপি, আকাশি, নীল, গাঢ় নীল, নেভি ব্লু, সাদা রংকে বর্ষার শাড়িতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্ষায় প্রকৃতি যেমন সতেজ হয়ে ওঠে, এই রঙের পোশাকও মানুষের হৃদয়ে তেমন সজীব প্রভাব ফেলে বলেও মনে করেন তিনি। নকশার ক্ষেত্রেও ফ্লোরাল প্রিন্ট বা পদ্ম মোটিফের শাড়ি বর্ষায় বেশি চলে। ঐতিহ্যবাহী মোটিফের চেয়ে ফুল, লতা, পাতা ইত্যাদি মোটিফ ও নকশার পোশাক বেশি চলে বলেও জানান তিনি।
এই ঋতুতে উজ্জ্বল রঙের শাড়ি ভিন্নমাত্রা যোগ করে। চাইলে কমলা, লালের বিভিন্ন শেড, সরিষা হলুদ, সবুজ, ফিরোজা, ফুশিয়া, ম্যাজেন্টা রঙের শাড়ি পরতে পারেন। ফুলেল, প্রকৃতি বা জলরঙের প্রিন্টও এই মৌসুমে বেশ জনপ্রিয়। বৃষ্টির দিনের শাড়িতে ফুল, পাতা, মেঘ, বৃষ্টিধারা কিংবা নকশিকাঁথা মোটিফের প্রিন্ট বিশেষ আবেদন তৈরি করে। ব্লক প্রিন্ট, বাটিক, হ্যান্ডপেইন্ট কিংবা স্ক্রিন প্রিন্টের শাড়িও বর্ষার আবহের সঙ্গে মিশে যায়।
শাড়ি কোথায় পাবেন, দরদাম
রাজধানী ঢাকার বড় মার্কেট, শপিংমলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মার্কেটে জর্জেট, হাফসিল্ক, কটন ব্লেন্ড, টিস্যু, শিফন শাড়ি পেয়ে যাবেন। দাম ৬০০ থেকে তিন-চার হাজার টাকার মধ্যে। তবে ভালো মান এবং নতুন নকশার শাড়ি কিনতে হলে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড থেকে কিনতে হবে।
- বিষয় :
- শাড়ি