ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

রাজধানীতে দিনভর তীব্র যানজট, চরম ভোগান্তি

রাজধানীতে দিনভর তীব্র যানজট, চরম ভোগান্তি
×

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫০ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মঙ্গলবার সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে অবতরণ করেছেন কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা যাত্রী মো. আব্বাস। ফ্লাইট থেকে নামার পর বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিক শেষে লাগেজ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। কিশোরগঞ্জ থেকে স্বজনরা গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দরে আসার কথা ছিল। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের সড়ক অবরোধের কারণে সময়মতো বিমানবন্দরে আসতে পারেননি আব্বাসের স্বজনরা। আন্দোলনের কারণে রাস্তায় আটকা পড়েন তারা।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা দিনভর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পরও উত্তরা, তেজগাঁও, ইসিবি চত্বর, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত থাকায় রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি। 

গতকাল সকালে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ২টার পরপরই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বকশীবাজারে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এর আগে সকালে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবরোধ করেন তারা। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি চত্বরের সামনে এবং পরবর্তী সময় পলাশীর মোড় হয়ে ঢাকা বোর্ডের সামনে যান। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা বোর্ডের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ওই সড়কের গাড়িগুলোকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হয়। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর থেকে দুই দফা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ বন্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। 

তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, মানিক মিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত রাস্তা শিক্ষার্থীরা বন্ধ করে রাখায় কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সন্ধ্যার পর সড়কে গাড়ির চাপ বেশি ছিল। 

এর আগে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কটির উভয় দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। 
পরে শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব ছেড়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হয়ে আবার সায়েন্স ল্যাবে ফিরে আসেন। এর পর সন্ধ্যার দিকে সংসদ ভবনের মূল ফটকের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। দিনভর বিভিন্ন স্থানে তাদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর প্রভাব পড়ে পুরো নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থায়। 

রাজধানীর উত্তরার আজমপুর থেকে বিএনএস সেন্টার পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করেন তারা। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিমানবন্দর, আবদুল্লাহপুর, টঙ্গী ও গাজীপুরমুখী সড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হেঁটে যেতে দেখা যায়। প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা কয়েক দফায় রাস্তা বন্ধ ছিল। ইসিবি চত্বরে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মঙ্গলবার সময়মতো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের। এ অবস্থায় দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের বেশ কয়েকটি ফ্লাইট কিছুটা দেরিতে ছেড়ে গেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ সমকালকে জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ঘটনায় বাতিল হয়নি বিমানবন্দরে কোনো ফ্লাইট। 

এদিকে গুলশান ট্রাফিক বিভাগের এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, উত্তরা বিএনএস টাওয়ারের সামনে এবং ইসিবি চত্বরের উভয় পাশে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এয়ারপোর্টমুখী অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানবাহনের দীর্ঘ সারি কুড়িল ফ্লাইওভার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

ট্রাফিক সার্জেন্ট আশিকুর রহমান বলেন, অবরোধের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিকেল ৫টার পর সীমিত আকারে যান চলাচল শুরু হলেও যানজট পুরোপুরি কাটেনি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নগরবাসীকে সম্ভব হলে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।
উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোরশেদ আলম সমকালকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। তাদের কয়েক দফা বুঝিয়ে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। 

আরও পড়ুন

×