ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রচ্ছদ

রোদ-বৃষ্টিতে চুলের যত্ন

রোদ-বৃষ্টিতে চুলের যত্ন
×

মডেল: জাকিয়া ইমি; ছবি: ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য

শারমিন রহমান  

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ০৭:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

গরমে ঘামে ভেজা চুলের যত্ন যেমন, বৃষ্টিতে ভেজা চুলের যত্ন খানিকটা ভিন্ন। গরমে ঘামের সঙ্গে ধুলোবালি মিশে চুলের গোড়ায় আঠালো স্তর তৈরি হয়। এতে ফলিকল বন্ধ হয়ে যায়। তখন খুশকির সমস্যা বাড়ে। আবার বৃষ্টিতে ভিজলেও মাথার ত্বকের সংক্রমণ ও খুশকি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই আবহাওয়ায় চুলের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে ঘরোয়াভাবে বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। লিখেছেন শারমিন রহমান  

উৎসবের রেশ কাটেনি। এখনও চলছে ঘোরাঘুরি। এদিকে আবার গরম-ঘাম-বৃষ্টিতে নাজেহাল মাথার ত্বক ও চুলের অবস্থা। তীব্র রোদের তাপে চুল শুষ্ক হচ্ছে। ক্যারাটিন হারিয়ে চুল হয়ে পড়ছে রুক্ষ ও প্রাণহীন। আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঘাম বেশি হয়ে চুল আঠালো হয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরের তাপপ্রবাহ বেশি থাকার কারণে এমনটা হচ্ছে। এ সময়ে চুলের যত্নটা তাই বিশেষ হওয়া চাই। 

গরমে ঘামে ভেজা চুলের যত্ন 
মাথার ত্বক ও চুল ঘামে ভিজলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। এতে চুল পড়া বেড়ে যায়। এ সময় তাই মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা জরুরি। রূপবিশেষজ্ঞরা বলেন, মাথার ত্বকে ঘাম বা ময়লা যেন জমতে না পারে, তাই এক দিন পরপর বা প্রতিদিন সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুতে হবে। কারণ অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে ধুলাবালি মিশে চুলের গোড়ায় এক ধরনের আঠালো স্তর তৈরি হয়। এর ফলে ফলিকল বন্ধ হয়ে যায়, যা চুল বাড়তে তো দেয়ই না, তার সঙ্গে খুশকির সমস্যা বাড়ায়। 

আকাঙ্ক্ষাস গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের রূপবিশেষজ্ঞ জুলিয়া আজাদ জানান, প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে নিয়ম মেনে কন্ডিশনিংও করতে হবে। চুলে যেন রুক্ষভাব চলে না আসে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সে জন্য শ্যাম্পু করার পর চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এটি চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ডগা ফাটতে দেয় না।
গরমে ট্যাপের পানিও গরম হয়ে থাকে। গরম পানি চুলের গোড়া নরম করে দেয়। তাই চুল ধোয়ার জন্য সবসময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বা হালকা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন। ট্যাপের পানি সংগ্রহ করে ঠান্ডা হওয়ার জন্য কিছু সময় রেখে তারপর মাথায় ঢালুন। 

ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক 
চুল ভালো রাখতে সপ্তাহে অন্তত একবার ঘরোয়া মাস্ক যেমন টক দই ও মধুর প্যাক বা ভালো ব্র্যান্ডের হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন। এ ছাড়া মেহেদিও লাগাতে পারেন। এর  ব্যবহারে মাথা ঠান্ডা থাকে। তবে মেহেদি চুলের আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। তাই এর সঙ্গে জবা ফুল ও মেথি যোগ করলে চুলের গোড়া ভালো থাকে, মাথার স্ক্যাল্পও ঠান্ডা থাকে। 

বিশেষ যত্ন
চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোয় নিতে পারেন বিশেষ যত্ন। যেমন চাল ধোঁয়া পানি বা ডাবের পানি দিয়ে চুল ধুতে পারেন। এতে চুল পরিষ্কার থাকে আবার চুলের উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। 
চাল ধোয়া পানি অনেক বছর ধরেই রূপচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে। এতে রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ, যা চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল ভাঙা কমে, রুক্ষতা দূর হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত চুল কিছুটা ঠিক হতে পারে। অনেকেই মনে করেন এটি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। 
ডাবের পানির প্রয়োজনীয় মিনারেল মাথার ত্বককে সতেজ আর চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখে। অন্যদিকে ডাবের পানি মাথার ত্বক ঠান্ডা রাখতে দারুণ কাজ করে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গরমে মাথার ত্বকে চুলকানি, জ্বালা বা অতিরিক্ত শুষ্কতা দেখা দিলে ডাবের পানি বেশ উপকারী হতে পারে। এতে থাকা প্রাকৃতিক খনিজ ও পানিযুক্ত উপাদান মাথার ত্বককে আর্দ্র রাখে। 

হিট স্টালিং ও ট্রিমিং
গরমে এমনিতেই বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে, তার ওপর হেয়ার ড্রায়ার বা স্ট্রেইটনারের মতো হিট স্টাইলিং টুল ব্যবহার করলে চুল নষ্ট হয়ে যাবে। গোসলের পর চুল বাতাসে  শুকাতে দিন। চুল ভালো রাখতে তিন-চার মাস পরপর চুলের আগা ট্রিম করা উচিত। এতে ফেটে যাওয়া আগা বাদ পড়ে এবং চুল দ্রুত বাড়ে। 

চুল বাঁধার স্টাইল 
আঁটোসাঁটো করে চুল বাঁধবেন না: ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। এর ফলে চুল সামান্য টান লাগলেই বা চিরুনি করার সময় বেশি পরিমাণে ঝরে পড়তে পারে। তাই গরমে চুল শক্ত করে বাঁধবেন না। ঢিলেঢালা খোঁপা বা বিনুনি করতে পারেন। ঘেমে থাকা বা স্নানের পর ভেজা চুল কখনোই বেঁধে রাখবেন না। এতে চুলে গন্ধ হতে পারে এবং ছত্রাক জন্মাতে পারে। 

অসময়ে বৃষ্টিতে চুলের যত্ন 
বৃষ্টির পানিতে অম্লীয় উপাদান এবং ধুলাবালি থাকে, যা স্ক্যাল্পে সংক্রমণ বা খুশকি তৈরি করে। বৃষ্টিতে চুল ভিজলে বাড়ি ফিরে দ্রুত পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে। ভেজা চুল ভুলেও আঁচড়াবেন না বা শক্ত করে বাঁধবেন না। তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে পানি শুষে নিন এবং প্রাকৃতিকভাবে শুকাতে দিন। স্ক্যাল্প শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখতে সপ্তাহে দুই-তিনবার মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার শুধু চুলের নিচের অংশে লাগান, গোড়ায় নয়। ডিপ কন্ডিশনিংয়ের জন্য অ্যালোভেরা, টক দই বা পাকা কলার হেয়ার প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। পাকা কলা চুলকে উজ্জ্বল ও সুন্দর রাখে।

তেল মালিশ 
বৃষ্টির আর্দ্রতা ও শুষ্কতা কমাতে সপ্তাহে অন্তত একবার হালকা গরম নারকেল বা আমন্ড তেল ম্যাসাজ করুন। ভেতর থেকে পুষ্টির জন্য খাদ্য তালিকায় ডিম, বাদাম এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। তেলের সঙ্গে চুলের জন্য উপকারী মেথি, জবা, তুলসী পাতা দিয়ে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ওই তেল মাথার স্ক্যাল্প ও চুলে ব্যবহার করুন। এতে স্ক্যাল্প ও চুলের উন্নতি হয়।

হেয়ার প্যাক 
চুল পড়া কমাতে দুই টেবিল চামচ নারকেল তেল, দুই টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল এবং একটি ডিম মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মাথায় লাগাতে পারেন। পরিমাণমতো টক দই ও গ্রিন টির সঙ্গে একটি পাকা কলা ব্লেন্ড করে প্যাক তৈরি করতে পারেন। তবে এই প্যাক প্রয়োগের আগে সমপরিমাণ পেঁয়াজের রস আর নারকেল তেল মিশিয়ে মাথার তালুতে মালিশ করে নিতে হবে। এই প্যাক ব্যবহারে চুল ভালো থাকবে। 
চুলের যত্নে জবা ফুল ভালো কাজ করে। কয়েকটি জবা ফুল ব্লেন্ড করে নিন। এর সঙ্গে একটি ডিমের সাদা অংশ মেশান। এই মিশ্রণে এক চা চামচ কালোজিরার তেল মেশান। সবগুলো উপাদান ভালো করে মিশিয়ে হেয়ারপ্যাক তৈরি করুন।

কিছু অভ্যাস রপ্ত করুন
চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সারারাত মাথায় তেল দিয়ে রাখা ঠিক নয়। এতে গোড়া নরম হয়ে যায়। ভেতর থেকে পুষ্টির জন্য খাদ্যতালিকায় ডিম, বাদাম এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। তেলের সঙ্গে মেথি, জবা, তুলসী পাতা ফুটিয়ে ঠান্ডা করুন। ওই তেল মাথার স্ক্যাল্প ও চুলে ব্যবহার করলে স্ক্যাল্প ভালো থাকে। 

আরও পড়ুন

×