ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সশস্ত্র তরুণদের আনাগোনা সীমান্তে উদ্বেগ

সশস্ত্র তরুণদের আনাগোনা সীমান্তে উদ্বেগ
×

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্তে এক ভারতীয় খাসিয়া নাগরিকের সঙ্গে তিন তরুণের অস্ত্র হাতে ঘোরাঘুরির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় ভীষণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই এলাকাজুড়ে নজরদারি জোরদার করে।

পুলিশ জানায়, এরইমধ্যে চিহ্নিত এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে থাকা মূল অভিযুক্ত তিন তরুণ পুলিশের তাড়া খেয়ে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশে একটি সূত্র জানায়, ৩০ জুন অস্ত্রসহ ওই তিন তরুণের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর গত ২ জুলাই  বাংলাবাজার ইউনিয়নের জুমগাঁও-খাসিয়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে হেলাল আহমেদ (২০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হেলাল ভিডিওতে অস্ত্র হাতে থাকা সুজন মিয়ার ভাই এবং জুমগাঁও এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভিডিওটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ভেতরে ধারণ করা এবং যুবকদের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো ওই অঞ্চলের খাসিয়াদের। ভিডিওতে চিহ্নিত অন্য দুই তরুণ হলেন–জুমগাঁওয়ের ইকবাল হোসেনের ছেলে আব্দুর রহিম এবং অপর একজন অজ্ঞাত যুবক। নবীন হোসাইন রনি ও আব্দুল মালিক নামের দুটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রথম এই ভিডিওটি ছড়ানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দোয়ারাবাজার সীমান্তের বাংলাবাজার ইউনিয়নের মৌলারপার গ্রামের ১২৩৪ থেকে ১২৩৬ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই। এছাড়া বাঁশতলা-পেকপাড়া ও ঝুমগাঁও এলাকা দিয়ে সহজেই ভারতে যাতায়াত করা যায়। ভৌগোলিক এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এবং স্থানীয় বেকারত্বের কারণে অনেক তরুণ চোরাচালান ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। 
সীমান্তে অপরাধের তীব্রতা উল্লেখ করে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসে থানায় ৪৬টি চোরাচালান ও মাদকের মামলা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৪৬ পিস ইয়াবা, ১৮০ বোতল ফেনসিডিল, ৬৬৯ বোতল বিদেশি মদ, ১০ লিটার চোলাই মদ, ১ লাখ ৪০ হাজার শলাকা ভারতীয় বিড়ি, ১৮ বস্তা চিনি, ১৯ বস্তা জিরা, ৫টি গরু এবং বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস ও শিশুখাদ্য জব্দ করা হয়েছে। 
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×