মানানসই রোদচশমা
ইসরাত জাহান
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
রোদচশমা কেবল ফ্যাশনের অংশ নয়, এটি নিত্যদিনের প্রয়োজন। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি, ধুলাবালি থেকে চোখকে রক্ষা করে এটি। একসময় বাদামি ফ্রেমের রোদচশমার ব্যবহার বেশি থাকলেও, এখন বাহারি রং ও আকারের ফ্রেম চোখে পড়ে। প্লাস্টিকের ফ্রেমের পাশাপাশি এখন কাঠ, স্টেইনলেস স্টিল, অ্যালুমিনিয়ামের ফ্রেমের ব্যবহারও লক্ষণীয়। লিখেছেন ইসরাত জাহান
একসময় রোদচশমা কেবল চোখের সুরক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, আধুনিক নাগরিক জীবনে এটি ব্যক্তিত্ব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। রোদ থেকে চোখকে বাঁচানোর পাশাপাশি চেহারায় আভিজাত্য আর স্মার্ট লুক ফুটিয়ে তুলতে রোদচশমার জুড়ি মেলা ভার। কখনও ভিন্টেজ ধ্রুপদি ঢং, আবার কখনও ট্রেন্ড–সব মিলিয়ে রোদচশমার দুনিয়ায় এখন চলছে আভিজাত্যের ছোঁয়া।
কোন ধরনের রোদচশমা আছে ট্রেন্ডে
ক্যাট-আই ফ্রেম
ষাটের দশকের সেই জনপ্রিয় ‘ক্যাট-আই’ ফ্রেম এখন আরও আধুনিক রূপে ফিরে এসেছে। বর্তমানে এটি আরও শার্প এবং একটু স্লিম বা ন্যারো শেপে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ফিউশন পোশাক বা ফরমাল স্যুটের সঙ্গে ক্যাট-আই সানগ্লাস এক অনন্য স্মার্টনেস যোগ করে। যারা নিজেদের লুকে একটু বোল্ড এবং ফেমিনিন টাচ দিতে চান, তাদের জন্য এই ফ্রেমটি সেরা।
রেট্রো ইনসফো
সত্তর দশকের বড় বড় ফ্রেমের রোদচশমাগুলো এখন আবার রাজত্ব করছে। এগুলোকে বলা হয় ‘স্টেটমেন্ট পিস’। বড় ফ্রেমের সুবিধা হলো এটি চোখের চারপাশকে রোদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পুরোপুরি রক্ষা করে, পাশাপাশি চেহারায় একটি রহস্যময় আভিজাত্য এনে দেয়। বিশেষ করে যখন আপনি খুব সাধারণ কোনো পোশাক পরেন, তখন কেবল একটি ওভারসাইজড সানগ্লাস আপনার পুরো লুককে বদলে দিতে পারে। স্কয়ার এবং রাউন্ড–উভয় শেপেই এই ওভারসাইজড ট্রেন্ডটি এখন সবার জনপ্রিয়।
জ্যামিতিক শেপ
প্রথাগত গোল বা চৌকো চশমার বাইরে এখন হেক্সাগন বা অক্টাগন শেপের ফ্রেমগুলো তরুণ প্রজন্মের নজর কেড়েছে। এই জ্যামিতিক ফ্রেমগুলো মুখের গড়নে একটি সুন্দর ডেফিনেশন তৈরি করে। বিশেষ করে গোল চেহারার মানুষের জন্য এই ধরনের শার্প লাইনের ফ্রেমগুলো বেশ কার্যকর। কারণ এটি চেহারাকে কিছুটা লম্বাটে দেখাতে সাহায্য করে।
অ্যাভিয়েটর রিভাইভাল
অ্যাভিয়েটর স্টাইল কখনোই ফ্যাশন থেকে হারিয়ে যায় না। তবে এখনকার অ্যাভিয়েটরগুলো আগের চেয়ে কিছুটা হালকা মেটাল ফ্রেমে তৈরি হচ্ছে। ডাবল ব্রিজ ফ্রেমের চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি। এটি ক্যাজুয়াল ডেনিম আর টি-শার্টের সঙ্গে যেমন মানানসই, তেমনি বিভিন্ন উৎসবে পাঞ্জাবি বা কুর্তার সঙ্গেও দারুণ বৈচিত্র্য আনে।
ওয়্যার ফ্রেম
ভারী প্লাস্টিক ফ্রেমের ভিড়ে এখন আবার জায়গা করে নিয়েছে একদম পাতলা মেটাল বা ওয়্যার ফ্রেম। এই চশমাগুলো ওজনে অত্যন্ত হালকা এবং দেখতে বেশ মার্জিত। বিশেষ করে গোল বা ওভাল শেপের ওয়্যার ফ্রেমগুলো ক্যাজুয়াল জিন্স-শার্ট থেকে শুরু করে ফরমাল স্যুট, সবকিছুর সঙ্গেই আভিজাত্য বজায় রাখে। যারা মিনিমালিস্ট ফ্যাশনে বিশ্বাসী, তাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে এটি।
ফিউচারিস্টিক সিলুয়েট
সায়েন্স ফিকশন সিনেমা বা সাইবারপাঙ্ক স্টাইল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হচ্ছে এই ‘ফিউচারিস্টিক সিলুয়েট’ সানগ্লাসগুলো। এগুলো সাধারণত একটু অদ্ভুত আকৃতির, শার্প অ্যাঙ্গেল এবং মেটালিক ফিনিশিংয়ের হয়ে থাকে। যারা প্রথাগত ফ্যাশনের বাইরে গিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান, তারা এই শার্প সিলুয়েটগুলো অনায়াসেই বেছে নিতে পারেন।
অ্যাসিটেট ফ্রেম
সাধারণ প্লাস্টিকের চেয়ে উন্নতমানের ‘অ্যাসিটেট’ ফ্রেম এখন ফ্যাশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ফ্রেমগুলো টেকসই, ফ্লেক্সিবল এবং রঙের বৈচিত্র্য বেশি থাকে। টরটোজ শেল প্যাটার্ন বা ট্রান্সলুসেন্ট ফিনিশিংয়ের অ্যাসিটেট ফ্রেমগুলো এখন লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর মূল আকর্ষণ।
স্লিম অ্যান্ড স্লিক
নব্বইয়ের দশকের সেই সরু বা ন্যারো সানগ্লাসগুলো এখন আবার ফিরে এসেছে। এগুলোকে বলা হয় ‘স্লিক ডিজাইন’। এই চশমাগুলো চোখের খুব অল্প অংশ ঢেকে রাখে এবং নাকের ডগায় কিছুটা নিচে নামিয়ে পরা হয়।
ওভাল সানগ্লাস
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ‘ভার্সেটাইল’ ট্রেন্ড হলো ওভাল সানগ্লাস। এটি প্রায় সব ধরনের মুখের গড়নেই মানানসই। বিশেষ করে মেটাল ফ্রেমের ছোট ওভাল সানগ্লাসগুলো এখনকার তরুণ প্রজন্মের প্রিয় ‘অ্যাস্থেটিক’ লুকের অংশ। এটি চেহারায় একই সঙ্গে ভিন্টেজ এবং মডার্ন লুক নিয়ে আসে।
সাদা ফ্রেমের আভিজাত্য
বিশ্বজুড়ে সাদা রঙের ফ্রেম অনেকটা এগিয়ে। এটি যে কোনো উজ্জ্বল বা গাঢ় রঙের পোশাকের সঙ্গে মানানসই। ক্যাট-আই বা ওভারসাইজড শেপে সাদা ফ্রেমের সানগ্লাসগুলো নজরকাড়া লুক তৈরি করে।
কেমন লেন্স?
কেবল স্টাইল নয়, একটি ভালো মানের সানগ্লাস কেনার আগে লেন্সের ধরন সম্পর্কেও জানা জরুরি।
পোলারাইজড লেন্স
যারা ড্রাইভ করেন বা পানির কাছাকাছি বেড়াতে যান, তাদের জন্য এটি সেরা। এটি রোদের তীব্র প্রতিফলন কমিয়ে চোখকে শান্ত রাখে।
মিররড লেন্স
এই লেন্সগুলো বাইরে থেকে আয়নার মতো দেখায়। যারা একটু হাই-ফ্যাশন বা স্পোর্টি লুক পছন্দ করেন, তাদের জন্য মিররড লেন্স উপযুক্ত।
টিন্টেড লেন্স
এখন আর শুধু গাঢ় কালো লেন্সের আধিপত্য নেই। টিন্টেড লেন্স বা রঙিন স্বচ্ছ লেন্সের জয়জয়কার তুঙ্গে। বিশেষ করে লাল, হলুদ, কমলা বা হালকা নীল রঙের লেন্সগুলো এখনকার ‘রেট্রো-মডার্ন’ ফ্যাশনের প্রধান অংশ। এই লেন্সগুলোর বিশেষত্ব হলো এগুলো খুব বেশি অন্ধকার নয়, তাই ঘরের ভেতরে বা বিকেলের আলোতেও অনায়াসে পরা যায়। এটি চেহারায় একটি প্রাণবন্ত এবং ফ্রেশ লুক নিয়ে আসে।
তথ্যসূত্র: ভোগ, বার্ডি
- বিষয় :
- চশমা
