সঙ্গীকে যে কথাগুলো বলা ঠিক নয়
রোজী আরেফিন
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
একটি সম্পর্কে ভালোবাসার পাশাপাশি রাগ, অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি এবং মতের অমিল থাকবেই। কাছের মানুষ বলে কখনও কখনও রাগের মাথায় এমন কিছু কথা বেরিয়ে যেতে পারে; যা পরে নিজের কাছে খারাপ লাগে। কিছু কথা আছে, যা শুধু রাগের প্রকাশ নয়। বারবার বলা হলে সেগুলো একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক শান্তিকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
যেমন আপনার সঙ্গী যদি বলেন তুমি পাগল কিংবা তোমার মাথা ঠিক নেই তাহলে বিষয়টি আপনি কখনোই হালকাভাবে নিতে পারবেন না। এমন কথা বারবার শুনতে শুনতে একজন মানুষ নিজের চিন্তা এবং বিচারবোধ নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করতে পারেন। একইভাবে এসব কল্পনা কিংবা তুমি বেশি বাড়াবাড়ি করছ–এমন কথা আপনার অনুভূতিকে অস্বীকার করার মতো হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তুমি অতিরিক্ত সেনসেটিভ কিংবা তুমি খুব লোভী–এ কথাগুলো শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও এগুলো একজন মানুষকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে সংকোচ তৈরি করতে পারে। কোনো বিষয়ে আপনার কষ্ট হলে সেই কষ্টের কথা বলার অধিকার আপনার আছে। সম্পর্কের মধ্যে একজনের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং অন্যজনের অনুভূতিকে বোঝার চেষ্টা করা দুজনেরই দায়িত্ব।
তোমার সব দোষ কিংবা সবকিছুর জন্য তুমিই দায়ী–এমন কথা বলাও সম্পর্কের জন্য ভালো নয়। একটি সমস্যার পেছনে অনেক সময় দুজনের ভূমিকা থাকে। তাই কে দোষী সেটি প্রমাণ করার চেয়ে সমস্যাটা কীভাবে সমাধান করা যায় তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কেউ যদি বারবার বলে তুমি এত বোকা কিংবা তোমার সমস্যা কী তাহলে ধীরে ধীরে আপনার আত্মবিশ্বাসে আঘাত লাগতে পারে। একসময় হয়তো আপনি সঙ্গীর সামনে নিজের মতামত প্রকাশ করতেও ভয় পাবেন। সুস্থ সম্পর্কে এমন ভয় থাকার কথা নয়।
আপনার পোশাক নিয়ে যদি সঙ্গী সবসময় নির্দেশ দিতে থাকেন তাহলে সেটিও খেয়াল করার মতো বিষয়। মতামত দেওয়া আর নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যে পার্থক্য আছে। আপনি কী পরবেন, কীভাবে চলবেন এবং নিজের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কী হবে–তার অনেকটাই আপনার নিজের স্বাধীনতার বিষয়।
আরেকটি কষ্টদায়ক বিষয় হলো, সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে তুলনা করা। আমার প্রাক্তন তো এসব করে দিত কিংবা এ কারণে তোমার প্রাক্তন তোমাকে ছেড়ে গেছে–এমন কথা সম্পর্কের সমস্যার সমাধান করে না। বরং এগুলো বর্তমান সঙ্গীকে ছোট করে এবং অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দেয়। ভালোবাসার নাম করে কখনও কখনও মানসিক চাপ তৈরি করা হয়। তুমি যদি আমাকে সত্যি ভালোবাসতে তাহলে এটি করতে এমন কথা তারই একটি উদাহরণ। ভালোবাসা কখনও কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করানোর হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। আবার আমি এমনই বলে নিজের খারাপ আচরণকে স্বাভাবিক করে দেখানোর চেষ্টাও ঠিক নয়। প্রত্যেক মানুষ নিজের কথা এবং আচরণের জন্য দায়ী। ভুল হলে তা স্বীকার করা এবং প্রয়োজন হলে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করা একটি পরিণত সম্পর্কের পরিচয়।
পুরোনো ভুল বারবার মনে করিয়ে দিয়ে অপরাধবোধ তৈরি করাও সম্পর্ককে দুর্বল করে। শেষবার কী হয়েছিল কিংবা আমি তো বলেছিলাম এসব কথা কোনো সমস্যার সমাধান করে না। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া দরকার। প্রতিটি নতুন ঝগড়ায় পুরোনো ঘটনাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
তুমি তো এক টাকাও ইনকাম কর না কিংবা তুমি সারাদিন কী কর–এমন কথাও একজন মানুষের আত্মসম্মানে আঘাত করতে পারে। দেখুন, প্রতিটি কাজের মূল্য আছে। আপনার সঙ্গীর পেশা বা পরিশ্রমকে সম্মান করা একটি সুস্থ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সবচেয়ে গুরুতর বিষয়গুলোর একটি হলো শারীরিক আঘাতের হুমকি। তোমাকে চড় মারতে ইচ্ছে করছে কিংবা এ ধরনের কোনো হুমকি কখনোই স্বাভাবিক রাগের প্রকাশ হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়। সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তা এবং সম্মান দুটোই থাকা প্রয়োজন। মানুষ রাগ করতে পারে। রাগের মুহূর্তেও এমন শব্দ বা কথা বেছে নেওয়া উচিত নয়, যা প্রিয় মানুষটির মনে দীর্ঘদিনের ক্ষত তৈরি করে।
সম্পর্কে মতের অমিল থাকতেই পারে। কিন্তু অসম্মান না করেও নিজের কথা বলা যায়। সঙ্গীর প্রতি রাগ প্রকাশ করা যায়। কষ্টের কথাও বলা যায়। এমনকি সম্পর্ক নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তও নেওয়া যায়। সঙ্গীকে ক্রমাগত অপমান করা বা ভয় দেখানো কোনো সুস্থ যোগাযোগের অংশ নয়।
মডেল: সৌরভ ফারসী ও সূচনা; ছবি: কাব্য
সূত্র: স্টারইনসাইডার
- বিষয় :
- সঙ্গীর ব্যক্তিত্ব