খালি পায়ে ঘাসে
মডেল: জেহান ছবি: নাজমুল হোসাইন হিমেল
শিরিন আক্তার
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪০
| প্রিন্ট সংস্করণ
শহুরে জীবনে দিনের বেশির ভাগ সময় সবাই জুতা বা স্যান্ডেল পরে থাকেন। কংক্রিটের পথ, পাকা রাস্তা আর ব্যস্ত নগরজীবনে মাটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও কম। অথচ খালি পায়ে হাঁটার রয়েছে নানা উপকারিতা। ঘাস বা মাটিতে খালি পায়ে হাঁটায় এক ধরনের আরাম পাওয়া যায়। সুযোগ থাকলে প্রতিদিন কিছুটা সময় খালি পায়ে ঘাসের ওপর হাঁটা শরীর ও মনের জন্য হতে পারে আরামদায়ক এক অভ্যাস।
খালি পায়ে মাটি বা ঘাসের সংস্পর্শে আসাকে অনেকেই আর্থিং বা গ্রাউন্ডিং বলেন। এর মানে হলো, শরীর যখন সরাসরি পৃথিবীর পৃষ্ঠের সংস্পর্শে আসে, তখন শরীর ও পৃথিবীর মধ্যে বৈদ্যুতিক সংযোগ তৈরি হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আর্থিংয়ে শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা, ঘুম, মানসিক চাপ বা শারীরবৃত্তীয় কিছু পরিবর্তনে নানা উপকার হয়।
প্রতিদিন ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটার কথা কেন ভাবা উচিত, তা জেনে নিন।
মস্তিষ্কে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার করে
ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটা মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। ‘জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড পাবলিক হেলথ’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ধরনের অনুভূতি মেজাজ উন্নত করতে এবং শরীরের প্রধান স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। পায়ের নিচে শীতল, নরম ঘাসের অনুভূতি একটি শান্তিদায়ক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শরীর ও মনে বিশেষ আরাম হয়। বিশেষ করে শহুরে পরিবেশে বসবাসকারীদের জন্য সবুজ ঘাসে হাঁটা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
সার্কাডিয়ান রিদম বা দেহঘড়ি বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে
ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটার একটি উপকারিতা হলো ঘুমের মান উন্নত করার সম্ভাবনা। জার্নাল অব অল্টারনেটিভ অ্যান্ড কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিনের গবেষণা থেকে জানা যায়, গ্রাউন্ডিং বা মাটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন দৈনিক কর্টিসল ছন্দকে স্বাভাবিক করতে পারে; যা আমাদের দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে এবং আরও গভীর ও আরামদায়ক ঘুম উপভোগ করতে সাহায্য করে। পৃথিবীর পৃষ্ঠের ইলেকট্রনের সঙ্গে এই সংযোগ অনিদ্রা কমাতে এবং স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আর্থিং প্রদাহ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পৃথিবীর প্রাকৃতিক বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের সঙ্গে শরীরের সংস্পর্শ ফ্রি র্যাডিকেলগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে; যা কোষের ক্ষতি এবং প্রদাহের জন্য দায়ী। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়; যা শরীরকে আরও কার্যকরভাবে অসুস্থতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
প্রাকৃতিক ব্যথানাশক
যদি কেউ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা প্রদাহে ভোগেন, তবে ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটলে কিছুটা আরাম পেতে পারেন। ‘জার্নাল অব ইনফ্ল্যামেশন রিসার্চ’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, গ্রাউন্ডিং শরীরের ব্যথা এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। গবেষকদের মতে, পৃথিবীর ইলেকট্রন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা ব্যথা ও ফোলা সৃষ্টিকারী ক্ষতিকারক ফ্রি র্যাডিকেলগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে।
হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী
মাটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উন্নতির সঙ্গেও যুক্ত। ‘জার্নাল অব অল্টারনেটিভ অ্যান্ড কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটলে হৃৎস্পন্দনের পরিবর্তনশীলতা উন্নত হতে পারে; যা হৃৎযন্ত্রের স্বাস্থ্যের একটি প্রধান সূচক। ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমাতে পারে। পৃথিবীর প্রাকৃতিক শক্তি স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে; যা হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারসাম্য ঠিক থাকে: আমেরিকান কাউন্সিল অন এক্সারসাইজের মতে, খালি পায়ে হাঁটা পায়ের পাতা এবং পায়ের নিচের অংশের ছোট পেশিগুলোকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে। ফলে স্থিতিশীলতা বাড়ে এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে; বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি বেশ উপকারী।
খালি পায়ে হাঁটার ব্যাপারে সতর্কতা
যদিও ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা অনেক; তবুও যেন সময়টা নিরাপদ হয় তা নিশ্চিত করার জন্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন–
স্থানটি যাতে কাচ, পাথর বা ধারালো বস্তু থেকে মুক্ত, যা আমাদের পায়ে আঘাত করতে পারে–এটি দেখে নিন।
এমন জায়গায় হাঁটুন যেখানে ঘাস কীটনাশক এবং রাসায়নিক পদার্থমুক্ত, যাতে বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ এড়ানো যায়।
যদি কারও ঘাসে অ্যালার্জি থাকে; তবে সতর্ক হন এবং বালির ওপর হাঁটার মতো অন্যান্য বিকল্পের কথা বিবেচনা করুন।
যদি কেউ খালি পায়ে হাঁটতে অভ্যস্ত না হন, তবে অল্প সময়ের জন্য শুরু করুন এবং পায়ের ওপর চাপ এড়াতে ধীরে ধীরে সময় বাড়ান। পায়ে কোনো কাটা বা ক্ষত থাকলে সেদিকে মনোযোগ দিন এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পা পরিষ্কার রাখুন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
- বিষয় :
- ফ্যাশন