স্বল্প বাজেটে সবুজ সাজসজ্জা
রোজী আরেফিন
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঘর সাজাতে সবসময় বড় বাজেটের প্রয়োজন হয় না। একটু পরিকল্পনা আর সৃজনশীলতা থাকলে ঘরের পুরোনো জিনিস দিয়ে তৈরি করা যায় সুন্দর সাজ। সেই সাজে যদি যোগ হয় সবুজের ছোঁয়া, তাহলে তো আর কথাই নেই! ঘর হয়ে ওঠে সতেজ আর প্রাণবন্ত। সবুজ দিয়ে সাজানো বা গ্রিন ডেকোর বলতে মূলত গাছপালা দিয়ে ঘরের বিভিন্ন জায়গা সাজানোকে বোঝায়। একসময় আমাদের দেশে গাছ লাগানোর জায়গা বলতে মূলত বাড়ির উঠান, বারান্দা কিংবা ছাদকেই বোঝানো হতো। এখন শহরের ছোট ফ্ল্যাটেও ইনডোর প্লান্ট, ঝুলন্ত টব কিংবা ভার্টিক্যাল গার্ডেনের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে ছোট্ট সবুজ পরিসর।
ঘরের জন্য সবুজ গাছ
ড্রয়িংরুম, শোবার ঘর কিংবা পড়ার টেবিলের পাশে অল্প জায়গাতেও রাখা যায় বিভিন্ন ধরনের ইনডোর প্লান্ট। মানিপ্লান্ট, স্নেক প্লান্ট, স্পাইডার প্লান্ট, অ্যাগ্লোনিমা, জেড প্লান্ট কিংবা পিস লিলির মতো গাছ ঘরের সাজে বেশ মানিয়ে যায়। তবে গাছ বাছাইয়ের সময় ঘরে আলো-বাতাসের পরিমাণ বিবেচনা করা জরুরি। সব গাছ কম আলোতে ভালো থাকে না। তাই যে জায়গায় যে পরিমাণ আলো আসে, সে অনুযায়ী গাছ নির্বাচন করুন।
বারান্দায় করে ফেলুন ছোট একটা বাগান
শহরের ফ্ল্যাটে বারান্দা হতে পারে সবুজ সাজের অন্যতম জায়গা। বড় বড় টব দিয়ে জায়গা ভরিয়ে না রেখে ছোট টব, ঝুলন্ত প্লান্টার বা রেলিংয়ে বসানো টব ব্যবহার করা যায়। এতে হাঁটার জায়গা যেমন খালি থাকবে, তেমনি বারান্দাও হয়ে উঠবে সবুজ। শুধু ফুলের গাছ নয়, বারান্দায় পুদিনা, ধনিয়া পাতা, কাঁচামরিচ, টমেটো, লেবু কিংবা বিভিন্ন শাকও চাষ করা সম্ভব।
দেয়াল বা গ্রিলে করুন ভার্টিক্যাল গার্ডেন!
ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরে অনেকের খোলা জায়গার অভাব। এ ক্ষেত্রে দেয়াল বা বারান্দার গ্রিল কাজে লাগিয়ে তৈরি করা যায় ভার্টিক্যাল গার্ডেন। পুরোনো কাঠের তাক, বাঁশ, মজবুত গ্রিল কিংবা ছোট স্ট্যান্ড ব্যবহার করে ওপর-নিচ করে টব সাজিয়ে নিন। শোভাবর্ধক গাছের পাশাপাশি মরিচ, ধনিয়া পাতা বা অন্যান্য ছোট সবজিও লাগানো যেতে পারে। তবে দেয়ালে টব ঝোলানোর আগে কাঠামোটি মজবুত কিনা, তা নিশ্চিত হতে হবে। পানি দেওয়ার পর দেয়াল বা মেঝেতে পানি জমছে কিনা, সেটিও খেয়াল রাখা জরুরি।
বাথরুমে লাইট সবুজ ডেকোর
বাথরুমে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকলে সেখানে আর্দ্র পরিবেশে ভালো থাকে এমন কিছু গাছ রাখা যায়। ফার্ন, স্পাইডার প্লান্ট বা পিস লিলির মতো গাছ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বাথরুমে গাছ রাখার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানি জমে থাকা এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস না থাকার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে।
রান্নাঘরের জানালায় সবুজের ছোঁয়া
রান্নাঘরের জানালার ধারে জায়গা থাকলে ছোট টবে পুদিনা, তুলসি, ধনিয়া পাতা, অ্যালোভেরা বা মানিপ্লান্ট রাখতে পারেন। জানালার গ্রিলেও ছোট ঝুলন্ত টব ব্যবহার করা যায়। এতে রান্নাঘরটি আরও সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখাবে। তবে গাছ রাখার সময় জানালা দিয়ে আলো-বাতাস চলাচল এবং রান্নার কাজে যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
সিঁড়ির ধাপে ধাপে গ্রিন ডেকোর
আপনার ঘরের সিঁড়ির ধাপে ধাপে ছোট টবে মানিপ্লান্ট, স্নেক প্লান্ট, অ্যালোভেরা, ফার্ন কিংবা নানা ধরনের সাকুলেন্ট সাজিয়ে দিতে পারেন। এতে সিঁড়ির ফাঁকা জায়গাটিও হয়ে উঠবে সবুজ ও নান্দনিক। চাইলে ধাপের পাশে ঝুলন্ত টবও রাখতে পারেন। তবে চলাচলে যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
গ্রিন ডেকোরে খরচ কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ঘরে থাকা পুরোনো জিনিস ব্যবহার করা। খালি কাচের বোতল, পুরোনো কাপ, প্লাস্টিকের পাত্র, টিনের কৌটা কিংবা অব্যবহৃত বালতি রং করে তৈরি করা যায় সুন্দর প্লান্টার। পুরোনো টায়ারও রং করে বারান্দা বা ছাদে গাছ রাখার পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পাত্রের নিচে পানি বের হওয়ার জন্য ছিদ্র থাকা জরুরি। পানি জমে থাকলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে। এ ছাড়া গাছ কেনার খরচ বাঁচাতে নিজের গাছ থেকে নতুন চারা তৈরি করা যায়। মানিপ্লান্টসহ কিছু গাছের সুস্থ ডাল কেটে পানিতে বা মাটিতে রেখে সহজেই নতুন চারা তৈরি করা সম্ভব। পরিচিতজনের সঙ্গে চারা বিনিময় করেও বৈচিত্র্য আনা যায় বাগানে।
এসব ইনডোর গাছের পরিচর্যায় খুব বেশি খরচের প্রয়োজন নেই। টবের মাটি শক্ত হয়ে গেলে মাঝেমধ্যে ওপরের অংশ হালকা করে আলগা করে দিতে পারেন। চারা লাগানোর সময় মাটির সঙ্গে জৈব সার বা কম্পোস্ট মিশিয়ে নিলে গাছের বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। মাটি যেন অতিরিক্ত পানি ধরে না রাখে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
- বিষয় :
- গাছ