গাছের যত্নে ঘরোয়া সার
শৈলী ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
আজকাল অনেকেই ঘরের বারান্দায় বা ছাদে গাছপালা লাগাতে পছন্দ করেন। ঘরে ফুল গাছের পাশাপাশি অনেকে সবজি চাষও করছেন। তবে ফুল গাছ হোক কিংবা সবজি–সব গাছের সুস্থ বৃদ্ধি ও মাটির উর্বরতা ধরে রাখতে সারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই গাছের যত্ন নিতে বাজার থেকে সার কিনে আনেন। চাইলে বাড়িতেই প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে সার তৈরি করতে পারেন। হাতের কাছে থাকা বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি করা যায় প্রাকৃতিক সার। অল্প জায়গা ও সামান্য যত্নেই বাড়িতে পরিবেশবান্ধব এই সার তৈরি সম্ভব।
যেভাবে তৈরি করবেন প্রাকৃতিক সার
সবজি ও ফলের খোসা দিয়ে কম্পোস্ট
বিভিন্ন ধরনের সবজি যেমন–আলু, লাউয়ের খোসা, শাকসবজির উচ্ছিষ্ট, কলা ও বিভিন্ন ফলের অবশিষ্টাংশ দিয়ে তৈরি করা যায় জৈব সার। একটি ঢাকনাযুক্ত পাত্রে শুকনা পাতা বা ছেঁড়া কাগজের সঙ্গে এসব উপকরণ স্তরে স্তরে রাখুন। পাত্রটিতে আর্দ্রতা বজায় রাখুন। তবে খেয়াল রাখুন যেন পানি জমতে না পারে। নিয়মিত উল্টেপাল্টে দিন। এভাবে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত এ মিশ্রণগুলো উপযুক্ত পরিবেশে রেখে দিলে কম্পোস্ট তৈরি হতে পারে।
কলার খোসা দিয়ে সার
কলার মতো এর খোসাও বেশ উপকারী। এতে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে। খোসাগুলো ছোট করে কেটে কম্পোস্টের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। চাইলে ভালোভাবে শুকিয়ে গুঁড়া করেও কম্পোস্টে যোগ করা যেতে পারে। এতে খোসা পচে মাটিতে জৈব পদার্থ ও পুষ্টি যোগ করবে।
ব্যবহৃত চা পাতা দিয়ে সার
চা পাতা ব্যবহারের পর অধিকাংশ মানুষই তা ফেলে দেন। ব্যবহৃত চা পাতা ফেলে ঠান্ডা করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। এরপর অল্প পরিমাণে কম্পোস্টে মেশান। এতে জৈব পদার্থ যোগ হয়। তবে দুধ, চিনি বা অন্য উপকরণ মেশানো চা পাতা সরাসরি টবে মাটিতে ব্যবহার না করাই ভালো।
শুকনা পাতা দিয়ে জৈব সার
বাড়ির আশপাশের শুকনা পাতা কুচি করে একটি পাত্রে জমিয়ে রাখুন। সামান্য পানি ছিটিয়ে আর্দ্র রাখুন এবং মাঝেমধ্যে নেড়ে দিন। পাতা ধীরে ধীরে পচে সার তৈরি করবে। এই সার মাটির গঠন উন্নত করতে সাহায্য করে।
ডিমের খোসা দিয়ে মাটির যত্ন
ডিমের খোসা ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে গুঁড়া করে কম্পোস্টে অল্প পরিমাণে মেশান। এতে ক্যালসিয়াম থাকে। তবে খোসা মাটিতে খুব ধীরে ভাঙে। এ কারণে দ্রুত ক্যালসিয়াম সরবরাহের উপায় হিসেবে এটি কার্যকর নয়।
যা খেয়াল রাখবেন
জৈব সার যাতে ভালোভাবে পচতে পারে সে জন্য এমন পাত্রে রাখুন যেখানে বাতাস চলাচল করতে পারে। শুকনা পাতা বা কাগজের মতো কার্বনসমৃদ্ধ উপাদানের সঙ্গে ফল ও সবজির খোসার মতো নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ উপাদান মেশান।
মিশ্রণটি হালকা স্যাঁতসেঁতে রাখুন। কারণ অতিরিক্ত পানি জমলে সারে দুর্গন্ধ হতে পারে।
কাঁচা জৈব বর্জ্য সরাসরি গাছের গোড়ায় না দেওয়াই ভালো। সবসময় ভালোভাবে পচে যাওয়া কম্পোস্ট ব্যবহার করুন। একবারে বেশি না দিয়ে তৈরি সার অল্প পরিমাণে ব্যবহার করুন। এরপর গাছের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন।
- বিষয় :
- সার