ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

গহনার ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে

গহনার ঔজ্জ্বল্য  ধরে রাখতে
×
×

গহনার ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি

ঈষিতা হোসেন তানিয়া

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

গহনা শুধু সাজসজ্জার অনুষঙ্গ নয়, বরং ব্যক্তিত্ব, রুচি ও সৌন্দর্য প্রকাশেরও একটি মাধ্যম। শাড়ির সঙ্গে মানানসই সোনার হার, উৎসবের সাজে ঝলমলে কানের দুল কিংবা প্রতিদিনের ব্যবহারের প্রিয় রুপার চুড়ি–প্রতিটি গহনাই পোশাকে যোগ করে আলাদা মাত্রা। তবে নিয়মিত ব্যবহার, ঘাম, ধুলাবালি, প্রসাধনীর সংস্পর্শ এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করার কারণে সময়ের সঙ্গে গহনার স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য কমে যেতে পারে। 
সোনার গহনায় মলিন ভাব দেখা দিতে পারে। রুপার গহনায় কালচে আস্তরণ পড়তে পারে আবার কৃত্রিম গহনার রংও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় দামি গহনা যত্নের অভাবে তার সৌন্দর্য হারায়, অথচ কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে দীর্ঘদিন এর ঝলমলে ভাব ধরে রাখা সম্ভব। গহনার উপাদান অনুযায়ী পরিচর্যার পদ্ধতি আলাদা হলেও পরিষ্কার রাখা, আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখা এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক যত্ন গহনাকে শুধু সুন্দর রাখে না, বরং এর স্থায়িত্ব বাড়াতেও সাহায্য করে।

গহনার ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখার প্রথম শর্ত হলো নিয়মিত ও সঠিকভাবে পরিষ্কার করা। প্রতিদিন ব্যবহৃত গহনায় ঘাম, ত্বকের তেল, ধুলাবালি ও প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ জমে ধীরে ধীরে মলিনতা তৈরি করে। তাই ব্যবহারের পর নরম, পরিষ্কার ও শুকনা কাপড় দিয়ে গহনা মুছে রাখা ভালো। সোনার গহনা পরিষ্কারের ক্ষেত্রে হালকা গরম পানিতে অল্প মৃদু সাবান মিশিয়ে নরম কাপড় দিয়ে আলতোভাবে মুছে নেওয়া যায়। তবে পাথর বসানো, মুক্তার কাজ করা কিংবা বিশেষ নকশার গহনা পরিষ্কারের আগে এর উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। রুপার গহনা বাতাসের সংস্পর্শে এসে কালচে হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে রুপার জন্য উপযোগী পরিষ্কারক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি এড়িয়ে চলা জরুরি। অন্যদিকে মুক্তা, প্রবাল, পান্না বা অন্যান্য কোমল ও সংবেদনশীল পাথরের গহনায় সরাসরি রাসায়নিক পরিষ্কারক ব্যবহার না করাই ভালো। কৃত্রিম গহনার ক্ষেত্রে পানি ও সাবানের ব্যবহার সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। কারণ এতে থাকা রং বা প্রলেপ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গহনা পরিষ্কারের সময় ব্লিচ, টুথপেস্ট, শক্ত ব্রাশ কিংবা ঘরোয়া রাসায়নিক ব্যবহার না করাই নিরাপদ। এগুলো সাময়িকভাবে দাগ দূর করলেও গহনার উপরিভাগে আঁচড় ফেলতে পারে বা স্বাভাবিক প্রলেপ নষ্ট করতে পারে। একইভাবে পারফিউম, হেয়ার স্প্রে, লোশন, সানস্ক্রিন ও মেকআপের সংস্পর্শ থেকেও গহনাকে যথাসম্ভব দূরে রাখতে হবে। সাজগোজের সময় আগে প্রসাধনী ব্যবহার করে সেগুলো শুকিয়ে নেওয়ার পর গহনা পরা ভালো। সাঁতার কাটা, গোসল করা, ব্যায়াম করা কিংবা ঘরের ভারী কাজের সময় গহনা খুলে রাখলে ঘাম, সাবান, ক্লোরিন ও অন্যান্য উপাদানের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই 
এড়ানো যায়।

গহনার সৌন্দর্য দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ন রাখতে পরিষ্কারের পাশাপাশি সঠিক সংরক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই সব ধরনের গহনা একই বাক্সে একসঙ্গে রেখে দেন। এতে একটির সঙ্গে অন্যটির ঘর্ষণে আঁচড় পড়তে পারে, চেইন জড়িয়ে যেতে পারে এবং পাথর বসানো গহনার ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রতিটি গহনা আলাদা নরম কাপড়ের থলি, গহনার বাক্সের পৃথক খোপ কিংবা উপযুক্ত পাউচে রাখা ভালো। বিশেষ করে রুপার গহনা বাতাস ও আর্দ্রতার সংস্পর্শ কম হয় এমন জায়গায় রাখলে কালচে হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমানো যায়। গহনা রাখার জায়গা যেন শুকনা, পরিষ্কার এবং সরাসরি রোদ থেকে দূরে থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। বাথরুম বা স্যাঁতসেঁতে স্থানে গহনা রাখা উচিত নয়। 
দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা গহনাও মাঝেমধ্যে বের করে পরীক্ষা করা প্রয়োজন; যাতে কোনো পাথর ঢিলে হয়ে গেছে কিনা, তালা ঠিক আছে কিনা কিংবা চেইনের সংযোগস্থলে সমস্যা তৈরি হয়েছে কিনা, তা বোঝা যায়। দামি সোনা, রুপা বা হীরার গহনায় পাথর বসানো থাকলে নির্দিষ্ট সময় পর অভিজ্ঞ গহনার কারিগর দিয়ে পরীক্ষা করানো যেতে পারে। এতে ছোটখাটো সমস্যা বড় হওয়ার আগেই সমাধান করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে গহনা পরিষ্কারের আগে সেটির উপাদান ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ সব গহনার জন্য একই পরিচর্যা উপযোগী নয়। মনে রাখতে হবে, গহনার ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখার জন্য সব সময় দামি পরিষ্কারক বা বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না; বরং নিয়মিত যত্ন, সঠিক ব্যবহার এবং উপযুক্ত সংরক্ষণই সবচেয়ে কার্যকর। প্রিয় গহনাগুলোর প্রতি সামান্য মনোযোগ দিলে সেগুলো দীর্ঘদিন ঝলমলে থাকবে এবং বিশেষ দিনের সাজের পাশাপাশি দৈনন্দিন সৌন্দর্যেও যোগ করবে আভিজাত্যের ছোঁয়া। 

আরও পড়ুন

×