খেলাধুলার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে শাকিলের ব্যক্তিত্ব
শাকিল ইসলাম
নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:০০ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
একেক ব্যক্তি একেকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। শাকিল ইসলাম চেয়েছিলেন রাজনীতির মধ্য দিয়ে মানুষের পাশে থাকতে। কিন্তু তাঁর চাওয়া পূরণ হতে দিল না দুর্বৃত্তরা। অকালেই থেমে গেছে তাঁর পথচলা।
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব ছিলেন শাকিল ইসলাম। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার, স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে তরুণকে ঘিরে পরিবার আর রাজনৈতিক বন্ধু-সহকর্মীদের ছিল ব্যাপক প্রত্যাশা, তাঁর অনুপস্থিতি রেখে গেছে এক গভীর শূন্যতা।
বাবা-মায়ের স্নেহ, পরিবারের শাসন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা আর বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে শাকিলের ব্যক্তিত্ব।
বন্ধুরা জানান, শাকিল ছেলেবেলা থেকে দুষ্টু প্রকৃতির ছিলেন। কিন্তু কোনো বন্ধু বা স্বজন বিপদে পড়লে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। তাঁর কোনো অহংকার ছিল না।
পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা
শাকিলের কাছের বন্ধু কাউসার আহমেদ ও আসিক বলেন, ২০১২ গুরুদাসপুর নুর মোহাম্মদ বিশ্বাস টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক শেষ করে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ থেকে। পরে তিনি একই কলেজে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
রাজনীতিতে পথচলা
শাকিল স্কুলজীবনেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ইউনিয়ন ও কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতি শেষ করে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাজনীতির এই পরিচয় তাঁকে স্থানীয়ভাবে পরিচিত করে তোলে। তবে একজন রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয় কেবল তাঁর পদবিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ ছিল।
শাকিল ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন ২০১৫ সালে। ২০২০ সালে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নির্বাচিত হন বলে জানান রাজনৈতিক সহকর্মী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রানা। সহকর্মীরা জানান, ১৭ বছর শাকিল স্থানীয় এমপি আব্দুল আজিজের সঙ্গেই রাজপথে থেকেছেন। সেই সময় শাকিল নির্যাতনেরও শিকার হন। রাজনীতির মাঠে তিনি ছিলেন সক্রিয়। কোনো অনিয়মের সঙ্গে আপস করতেন না। এ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে মনোমালিন্যও হতো। তার পরও শাকিল রাজনীতি থেকে সরে যাননি। ঘটনার দিন ১৪ অক্টোবর বিকেল থেকেও শাকিল এমপির সঙ্গে খুবজিপুর ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন। পরে সন্ধ্যায় গুরুদাসপুর বাজারে একটি সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন।
যে রাত বদলে দিল সবকিছু
১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী হয়ে ঢাকায় নেওয়া হয়। দীর্ঘ ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
শাকিলের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করতে করতে বলেন, শাকিল তাঁর বুকের ধন। তাকে কেন হত্যা করা হয়েছে। সে তো কারও সঙ্গে ঝামেলায় জড়ায় না। ছেলেটা চার মাস আগে প্রেম করে বিয়ে করে। এ সময় শাকিলের বাবা রবিউল করিম এ হত্যার বিচার দাবি করেন।
- বিষয় :
- হত্যা
- নাটোর
- ছাত্রদল নেতা