ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সারের সংকটের সঙ্গে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চিন্তিত পেঁয়াজ চাষি

সারের সংকটের সঙ্গে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চিন্তিত পেঁয়াজ চাষি
×
×

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

শীত মৌসুমে দেশের পেঁয়াজের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ফরিদপুর ও পাবনা অঞ্চলে উৎপাদিত মুড়িকাটা পেঁয়াজ। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর নতুন মৌসুমের আবাদ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে সারের সংকট, জ্বালানি তেলের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে উৎপাদন খরচ। বিশেষ করে, ডিএপি সারের সংকটে পেঁয়াজের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ, রোপণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ততা বেড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় সার না পাওয়ায় অনেকটা বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। বিশেষ করে, ডিএপি সারের সরকারি নির্ধারিত দাম বস্তাপ্রতি এক হাজার ৫০ টাকা হলেও কোথাও কোথাও এক হাজার ৮০০ টাকা দিয়েও চাহিদামতো সার সংগ্রহ করা যাচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ। এ ছাড়া মুড়িকাটা পেঁয়াজের গুটি কিনতেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। বর্তমানে প্রতি মণ গুটি দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকা দরে কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জমি প্রস্তুত, সেচ, রোপণ ও পরিচর্যার খরচ। সব মিলিয়ে পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর মাঠে কথা হয় রহিম মোল্লা, আবুল কালাম, জাকির শেখসহ কয়েকজন মুড়ি কাটা পেঁয়াজ চাষির সঙ্গে। তাদের ভাষ্য, পেঁয়াজের উৎপাদনের উপকরণের দাম বাড়লেও বিক্রিমূল্য সেই অনুপাতে বাড়ছে না। বাড়তি বিনিয়োগ করেও প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন কম হলে কিংবা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে গেলে কৃষকের লোকসানের ঝুঁকি আরও বাড়বে।

জেলার চর মাধবদীয়ার পেঁয়াজ চাষি তুহিন মণ্ডল, আজমল ব্যাপারী ও হোসেন শেখ জানান, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় কৃষকের ন্যায্য বিক্রয়মূল্য নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে এ ফসলের আবাদ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ জন্য মৌসুমের শুরুতে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি উপকরণের বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানান তারা। 
ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ দেশের শীতকালীন বাজারে সরবরাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফরিদপুর অঞ্চলের আগাম উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। ফলে এ ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হলে বাজারের সরবরাহ ও দামের ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফরিদপুর কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মজুমদার বলেন, চাষিরা সময়মতো সার-কীটনাশক বা আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র যদি না পায়, তাহলে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহাদুজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৮৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎপাদনের উপকরণ সরবরাহ, চাষিদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। 
ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সনাকের সহসভাপতি অ্যাড, শিপ্রা গোস্বামী বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে শুধু আবাদি জমি বৃদ্ধি নয়, বরং সময়মতো সার ও জ্বালানি সরবরাহ এবং উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজারমূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি। তা না হলে বাড়তি ব্যয়ের চাপে কৃষকের মুনাফা কমে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহ ধরে রাখা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

×