ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
×
×

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯১টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। দীর্ঘদিনের পদোন্নতি-সংক্রান্ত মামলায় আটকে আছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। এতে পদোন্নতি তালিকাভুক্ত সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব এবং ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে চলছে বিদ্যালয়। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার মান। অন্যদিকে, ১১০টি বিদ্যালয়ে দপ্তরি-কাম-নৈশপ্রহরী না থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জে মাত্র ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন। পদ শূন্য থাকা ৯১টি বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকে। এর মধ্যে ৩৯ জন চলতি দায়িত্বে থাকা (পদোন্নতি তালিকাভুক্ত) সহকারী শিক্ষক এবং ৫২ জন সহকারী শিক্ষক। এতে প্রধান শিক্ষকের সংকটের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে সহকারী শিক্ষকের সংকটও।
চলতি দায়িত্ব পালন করায় এসব বিদ্যালয়ে কার্যত একজন করে সহকারী শিক্ষকের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যালয় পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি-সংক্রান্ত মামলা চলমান থাকায় পদোন্নতি কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতি ও শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় বিদ্যালয়গুলোতে এ সংকট প্রকট হয়েছে।

নিরাপত্তাহীন ১১০টি বিদ্যালয়
উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি-কাম-নৈশপ্রহরীর পদ শূন্য। ফলে বিদ্যালয়ের সরঞ্জাম ও সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি বালিহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। গতকাল ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক।
এ ছাড়া শিক্ষক সংকটের কারণে ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরেসি (এফএলএন) কার্যক্রম বাস্তবায়নেও প্রতিবন্ধকতা দেখা দিচ্ছে।
উপজেলায় বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৯ হাজার ৫৩৩ জন। এর বিপরীতে ৯৪০ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে এখনও ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
ধনিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আক্তার হোসেন আকন্দ বলেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় সহকর্মীদের দিয়ে প্রশাসনিক কাজ করানোও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
উপজেলা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী। শিক্ষার মানোন্নয়ন থেকে শুরু করে সার্বিক প্রশাসনিক দায়িত্ব– সবকিছুই তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয় যেন মাঝিবিহীন নৌকা। সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ায় সমপদমর্যাদার সহকর্মীদের মধ্যে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়ে, ব্যাহত হয় শৃঙ্খলা। তাই শিক্ষার গুণগত মান ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দ্রুত পদোন্নতি দেওয়া জরুরি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড ব্যাহত হয়। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকেই কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে অন্য শিক্ষকদের ওপর তাঁর নির্দেশনা ও কর্তৃত্ব অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না, যা বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের করা মামলায় রায় সরকারের পক্ষে এসেছে। ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই। ইতোমধ্যে এ উপজেলায় পদোন্নতি-সংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ডপত্র হালনাগাদ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে এসব নথি পাঠানো হবে।
দপ্তরি-কাম-নৈশপ্রহরীর শূন্য পদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় এ পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শূন্য পদের তালিকা প্রস্তুত রয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চাইলে তা পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন

×