ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ই-রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে

ই-রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে
×

.

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৩৯

সব করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ৪ আগস্ট থেকে সব ব্যক্তি করদাতা ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে (www.etaxnbr.gov.bd) দাখিল করতে পারছেন। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা অথবা মৃত করদাতার ক্ষেত্রে এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। 
দেশের প্রায় এক কোটি ১২ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। টিআইএনধারীদের রিটার্ন দিতে হয়। গত বছর থেকে নির্দিষ্ট এলাকার অধিক্ষেত্রের ব্যক্তি করদাতা, সারাদেশের ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়। গতবার ১৭ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দেন।
ই-রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতি
সব শ্রেণির করদাতা ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে (www.etaxnbr.gov.bd) জমা দিতে পারবেন। অনলাইনে রিটার্ন জমার আগে প্রথমে করদাতাকে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধন নিতে করদাতার নিজের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারপূর্বক বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত সিমকার্ড-সংবলিত মোবাইল ফোন নম্বর লাগবে। এ দুটি দিয়ে নিবন্ধন করে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। অনলাইনে রিটার্ন জমা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্তি রসিদ মিলবে।
প্রথমবার সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন করার পর সাইন-ইন করে প্রোফাইলের তথ্য প্রয়োজন অনুসারে আপডেট করা যাবে। এরপর ধাপে ধাপে আপনার খাতভিত্তিক আয়, বিনিয়োগ, পারিবারিক ব্যয়, সম্পদ ও দায় এবং কর পরিশোধের তথ্য ইনপুট দিয়ে সহজেই রিটার্ন দাখিল করা যাবে। উল্লেখ্য, তথ্য ইনপুট দেওয়ার সময় সব প্রমাণ ও কাগজপত্র দেখে সঠিকভাবে ইনপুট দেওয়া বাঞ্ছনীয়। এই সিস্টেমে সাইন-ইন করার জন্য টিআইএন ও পাসওয়ার্ড প্রয়োজন। আপনি ww.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করার সময় নিজের পাসওয়ার্ড ঠিক করে নেবেন। এরপর যে কোনো সময় টিআইএন ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সাইন-ইন করতে পারবেন। এ ছাড়া আপনার প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে পারবেন।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন দিতে করদাতাকে কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে বা জমা দিতে হবে না। শুধু ওইসব দলিলের তথ্য দিলেই হবে। সনাতনি পদ্ধতিতে চাকরিজীবীদের আয় বা বেতন-ভাতার প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যাংক হিসাবের এক বছরের লেনদেন বিবরণী (স্টেটমেন্ট) জমা দিলেই চলবে। আগের বছরের ১ জুলাই থেকে পরের বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত (অর্থবছর) সময়ের ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, সুদের তথ্য ও ব্যাংক হিসাবের নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে।
কীভাবে কর দেবেন
করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের জন্য রাজস্ব বোর্ডের কর্মীরা কল সেন্টার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করবেন।
যেসব তথ্য প্রয়োজন
রিটার্ন জমার সময় নিজের প্রয়োজন অনুসারে কিছু কাগজপত্রের তথ্য লাগবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি বা বেসরকারি অফিস থেকে এসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে হবে। যেসব কাগজপত্র লাগবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বেতন খাতের আয়ের দলিল, সিকিউরিটিজের ওপর সুদ আয়ের সনদ, ভাড়ার চুক্তিপত্র, পৌরকরের রসিদ, বন্ধকি ঋণের সুদের সনদ, মূলধনি সম্পদের বিক্রয় কিংবা ক্রয়মূল্যের চুক্তিপত্র ও রসিদ, মূলধনি ব্যয়ের আনুষঙ্গিক প্রমাণপত্র, শেয়ারের লভ্যাংশ পাওয়ার ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট, সুদের ওপর উৎসে কর কাটার সার্টিফিকেট। বিনিয়োগ করে কর রেয়াত পেতে চাইলেও কিছু কাগজপত্র হাতে থাকা চাই। যেমন জীবন বীমার কিস্তির প্রিমিয়াম রসিদ, ভবিষ্য তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদ, ঋণ বা ডিবেঞ্চার, সঞ্চয়পত্র, শেয়ারে বিনিয়োগের প্রমাণপত্র, ডিপোজিট পেনশন স্কিমে (ডিপিএস) চাঁদার সনদ, কল্যাণ তহবিলের চাঁদা ও গোষ্ঠী বীমার কিস্তির সনদ, জাকাত তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদ।
রিটার্ন ভিউ
‘অনলাইন রিটার্ন’ অপশনে ক্লিক করলে আপনি রিটার্ন ফর্মটি দেখতে পাবেন। তার নিচে ‘ইয়েস’ অপশনে ক্লিক করলেই আপনার রিটার্নে চলে যাবে। কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে আপনি ‘নো’ অপশনে ক্লিক করতে পারেন এবং আবার সব তথ্য দেখে নিতে পারেন। 
এনবিআর জানিয়েছে, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা অথবা মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি ইচ্ছা করলে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার পরিবর্তে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অন্যান্য ব্যক্তি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে সমর্থ না হলে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যৌক্তিকতাসহ আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত/যুগ্মকর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

আরও পড়ুন

×