‘জি-নাইন’ কলায় কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে বাণিজ্যিক কলা চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে উৎপাদিত ‘জি-নাইন’ জাতের কলা। রোগমুক্ত চারা, কম সময়ে ফলন, বেশি উৎপাদন এবং কয়েক বছর ধরে একই জমি থেকে ফল পাওয়ার সুযোগ থাকায় কৃষকদের মধ্যে এ জাতের কলা চাষের চাহিদা বাড়ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাদারীপুর, বগুড়ার বনানী এবং ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী হর্টিকালচার সেন্টারের ল্যাবে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে ‘জি-নাইন’ কলার চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব চারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এক একর জমিতে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৪০০টি ‘জি-নাইন’ কলার চারা রোপণ করা যায়। রোপণের ৮ থেকে ৯ মাসের মধ্যে প্রায় শতভাগ গাছের কলা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। প্রতিটি কাঁদির ওজন সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ কেজি। এক কাদিতে প্রায় ২৮০-৩০০টি কলা পাওয়া যায়। একবার চারা লাগানোর পর একই জমিতে তিন থেকে চার বছর পর্যন্ত নতুন করে চারা লাগানোর প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, যশোর, বরিশাল, বগুড়া, রংপুর, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ জাতের কলার চাষ বিস্তৃত হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের ইখরিয়াবাড়ী গ্রামের কৃষক মো. ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ‘আমি টিস্যু কালচারের জি-নাইন কলার চাষ করেছি। অল্প সময়েই ফলন পাওয়া যায়। ফলের সংখ্যা স্থানীয় জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। গাছের উচ্চতা কম হওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না। রোগবালাইও কম হয়। বাজারে ভালো দামও পাওয়া যায়।’
টিস্যু কালচার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জামাল হোসেন বলেন, প্রচলিত কলার জাত রোপণে যেখানে প্রতিবছর একবার ফলন পাওয়া যায়, সেখানে জি-৯ কলার টিস্যু কালচার চারা রোপণ করলে দুই বছরে তিনবার কলার ফলন পাওয়া যায়।
- বিষয় :
- কলা