ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

সাক্ষাৎকার: ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

জুলাইয়ের শক্তি একেবারেই ফুরিয়ে যায়নি

জুলাইয়ের শক্তি একেবারেই ফুরিয়ে যায়নি
×

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

মাহফুজুর রহমান মানিক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫০ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক। পিএইচডি করেছেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে। বর্তমানে তিনি বেসরকারি সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান। জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর উপলক্ষে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহফুজুর রহমান মানিক

সমকাল: ঠিক দুই বছর আগে এদিনে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগ করতে হয়েছিল। এটা কীভাবে সম্ভব হয়েছিল? মানুষ এই সাহস কীভাবে পেল?

হোসেন জিল্লুর রহমান: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেড় দশকের আওয়ামী লীগের শাসনের সমাপ্তি এবং শেখ হাসিনার দেশত্যাগে বাধ্য করার ক্ষেত্রে মানুষের সাহস নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মানুষ যেভাবে একটা গেড়ে বসা স্বৈরতান্ত্রিক শাসন কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেছে, তার সূচনাটা অনেক আগেই হয়েছিল, যার প্রকাশ ঘটেছিল চব্বিশের জুলাইয়ে। মানুষের সাহস এসেছিল পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে। এই ক্ষোভের তিনটি চরিত্র আমি উল্লেখ করতে চাই। প্রথমত, মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ। দ্বিতীয়ত, বৈষম্য ও অর্থনৈতিক কষ্টের বোঝা মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীতন্ত্রের জাঁতাকলে অর্থনীতিকে ফেলে দেওয়া। তৃতীয়ত, জনপরিসরে ক্ষমতার দম্ভ প্রকাশের মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা বোধের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানা।

সমকাল: যে ছাত্র-জনতা বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক দেশের স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিল, দুই বছর পর এসে তাদের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে? 

হোসেন জিল্লুর রহমান: প্রত্যাশা পূরণ কিংবা মূল্যায়নের জন্য দুবছর যথেষ্ট সময় নয়। তবে আমরা সেগুলো পূরণের পথে আছি কিনা, তা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি তিনটি প্রত্যাশার কথা বলি, একটা হচ্ছে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন কাঠামোর বিদায় করা এবং তার বিপরীতে গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জোরদার করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক অন্যায্যতা মানে বৈষম্য, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ইত্যাদি দূর করা। তৃতীয় প্রত্যাশা ছিল, আমাদের মধ্যে ঐক্য, সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তি আরও জোরদার করা।

সমকাল: নির্বাচনের মাধ্যমে কি গণতান্ত্রিক শাসন এসেছে?

হোসেন জিল্লুর রহমান: প্রত্যাশার প্রথমটি পূরণ হয়েছে এই অর্থে যে, নির্বাচিত সরকার ফিরে এসেছে। এর পাশাপাশি জবাবদিহিমূলক শাসনের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ জুলাইয়ের প্রত্যাশার অন্যতম দিক ছিল। যদিও প্রাথমিক লক্ষণগুলো আশাব্যঞ্জক নয়, তবু প্রচেষ্টার কিছু নজির দৃশ্যমান। বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতার প্রশ্ন হোঁচট খেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে জুডিশিয়াল সচিবালয়-সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে। আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্বনির্ভর প্রশাসনযন্ত্রে পরিবর্তনের বিপরীতে ধারাবাহিকতাই দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে পদায়নে ‘আমাদের লোক’ ও দলীয় প্রাধান্য বজায় রাখার পুরোনো সংস্কৃতিও বহমান। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা হচ্ছে, এটি সুষ্ঠুভাবে হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে।

দ্বিতীয় প্রত্যাশা হচ্ছে অর্থনৈতিক বঞ্চনার জায়গা। এখানে দুই বছরের মাথায় যেটি দেখতে পাচ্ছি, অর্থনৈতিক স্থবিরতা আরও গভীর হয়েছে। দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এরও নানা বাস্তব কারণ আছে। একটা হলো ইরান যুদ্ধ। কিন্তু যখন অর্থনৈতিক চরম মন্দায় তখন জরুরি হচ্ছে অর্থনৈতিক সুশাসন ও মাঠ পর্যায়ের হয়রানি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ কাঠামোগত ও ব্যবহারিক বিড়ম্বনা হ্রাস করা। এখানে সিগন্যালগুলো একেবারেই আশাব্যঞ্জক মনে হচ্ছে না। ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের এখানে কার্যকর মনোযোগ দেওয়া খুবই জরুরি। ইতোমধ্যে প্রাত্যহিক জীবনে গ্যাস সংকট অর্থনীতির কঠিন বাস্তবতা প্রতিনিয়ত জানান দিচ্ছে। কৌশলগত চিন্তার ধার ও বাস্তবায়নের দক্ষতা দিয়ে অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবিলা হবে, এটি সর্বস্তরের মানুষ গভীর পর্যবেক্ষণে রাখছে ও রাখবে। প্রবৃদ্ধির হার ২ শতাংশের ঘরে। বৈষম্য আরও বেড়েছে। বেকারত্বের অভিশাপ আরও তীব্রতর হয়েছে। এখানে ঘোষণা ও কাগুজে পরিকল্পনার ডামাডোল থেকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে বেরিয়ে আসাটা বড় চ্যালেঞ্জ।
তৃতীয় প্রত্যাশা হচ্ছে সামাজিক শান্তি ও ঐক্য। সেখানে মিশ্র অবস্থান দেখতে পাচ্ছি। অতটা আশাব্যঞ্জক নয়। ঐক্যের বিষয়গুলো দুর্বল হয়েছে। জুলাইতে যেখানে নারীরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল, তাদের বিচরণকে আরও কঠিন করে তোলা হয়েছে। আমাদের, বিশেষ করে যে পাবলিক ডিসকোর্স, সেখানে ঐক্যের বদলে অনৈক্য এবং বলা যায় ঘৃণা-হিংসা বেড়েছে।

সমকাল: তাহলে তরুণদের ব্যাপারে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

হোসেন জিল্লুর রহমান: তারুণ্যের উত্থান বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে এই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তারুণ্যের উত্থানের তাৎপর্যও গত দুই বছরের পর্যালোচনায় সীমাবদ্ধ রাখাটা সঠিক নয়। এর দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর সম্ভাবনা আলাদা আলোচনার দাবি রাখে। তবে তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণে কয়েকটি বিষয় ফুটে উঠেছে। তারুণ্যের শক্তির মধ্যে নানা ধরনের বিভাজন ও অনৈক্য বেড়েছে। নারীদের অবস্থান অস্বীকার ও কোণঠাসা করার প্রবণতা সুস্পষ্ট। তরুণদের কিছু অংশ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে আরও কার্যকর ও সক্ষমভাবে জোরদার করার পরিবর্তে ক্ষমতাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিয়েছে। আমি অবশ্যই বলব, তরুণ সমাজ একটা বৃহৎ সমাজ। তাদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাটা আছে। কিন্তু আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য তো পথ লাগবে। এখানে উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে সার্বিকভাবে দেশে শিক্ষাবিমুখ একটা মানসিকতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনের পড়াশোনার মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। সার্বিকভাবে এক ধরনের মর্যাদাবোধ পুনর্নির্মাণের যে বিষয় ছিল, যাকে আমরা বলি হিলিং, তা হচ্ছে না। অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে আসা, সবার মনের ক্ষোভগুলোকে এক ধরনের সহমর্মিতার ভিত্তিতে প্রশমন করা, সেটি হয়নি।

সমকাল: গণঅভ্যুত্থানের সময়ের হতাহত এবং অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: একটি বিষয় খুবই পরিষ্কার, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড কোনো বায়বীয় ঘটনা নয়। এগুলোর সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধান এবং বিচার হতে হবে। অনেক দিন সময় লাগলেও এটা করতে হবে। অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অথচ তারা কোনো আন্দোলনে যায়নি, ঘরের মধ্যে ছিল। যারা এগুলো পরিচালনা করেছে, তাদের বিচার অবশ্যই হওয়া জরুরি। যারা ক্ষমতার দম্ভে এবং ক্ষমতার আশ্রয়ে নিজের দেশের নাগরিকদের শত্রু মনে করেছে, তাদের তো অবশ্যই বিচারের সামনে নিয়ে আসতে হবে।

সমকাল: অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের যেসব উদ্যোগ নিয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা কেমন দেখছেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার নিয়ে অনেক কথাবার্তা বলেছে। অবশ্যই তারা কিছু কিছু জায়গায় কাজ করেছে। কিন্তু তাদের সার্বিক দৃষ্টি ছিল সাংবিধানিক সংস্কারে। তারা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়টাকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি। 

সমকাল: তার মানে শঙ্কার জায়গা রয়ে গেছে?

হোসেন জিল্লুর রহমান: জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা গণতন্ত্রের পথে বড় ধরনের বাধা। স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচন আমি দ্রুত আশা করছি। সেটি সুষ্ঠু হলে একটা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখলাম পুলিশি অ্যারেস্ট, মামলা থেকে অব্যাহতি, আবার অ্যারেস্ট করা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতাই পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা তো এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পরিবর্তন দেখতে চেয়েছি। তবে আমাদের এখানে স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো জোরদার হওয়া একটা অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে মেধাকে মূল্যায়ন না করা। ‘আমার লোক’ সংস্কৃতি এখানে বিপজ্জনক। তাই নিয়োগ পদায়নে মেধার বিষয়টি গুরুত্ব দিতেই হবে। এখানে মূল বিষয় কিন্তু আমলা বনাম রাজনীতিবিদ নিয়োগ হবে কিনা সেটি নয়; মূল বিষয় হচ্ছে, যোগ্যতাকে আমি গুরুত্ব দিচ্ছি কিনা। আমাদের অনেক প্রজেক্ট মুখ থুবড়ে পড়ে, কারণ সেটি পরিচালনার দায়িত্বে যোগ্যকে আমরা দিই না। যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করতে হলে সংকীর্ণ অর্থে ‘আমার লোক’ সংস্কৃতিকে বাদ দিতে হবে। এই জায়গায় একটা টানাপোড়েন চলছে ক্ষমতাসীন মানসিকতার মধ্যে। প্রাথমিক পর্যায়ের নিয়োগ পদায়নের চরিত্র আশা জাগ্রত করছে না। 

সমকাল: জুলাইয়ে অংশ নেওয়া অনেককে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। তাহলে আমাদের করণীয় কী?

হোসেন জিল্লুর রহমান: আমাদের করণীয় অনেক। তবে তিনটি কাজ করে যেতে হবে। একটি হচ্ছে, পাবলিক ডিসকোর্স উন্নত করতে হবে। মানে আমাদের পাবলিক আলোচনার ধরনটা উন্নত করতে হবে। একটা নতুন বাস্তবতা হচ্ছে, প্রতি মুহূর্তে মানুষ উত্তেজিত এবং প্রতিটা বিষয়ে তাদের মতামত আছে। কিন্তু কোনো ফলপ্রদ ঐক্যবদ্ধ অবস্থার তৈরি হচ্ছে না। সেটি যে কোনো বিষয়ে, যোগ্যতার বিষয়ে বলি, শিক্ষা সংস্কার বিষয়ে বলি বা অন্য বিষয়ে। এই জায়গায় আমাদের পাবলিক ডিসকোর্স ন্যারেটিভে নজর দিতে হবে এবং আমরা কোথায় যেতে চাই, সেই আলোচনাটা খুব জোরালোভাবে অব্যাহত রাখা দরকার। 

সমকাল: দ্বিতীয় করণীয়?

হোসেন জিল্লুর রহমান: দ্বিতীয় যে জায়গাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং পরিবর্তনের জায়গাগুলোতে কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। কোথায় কোথায় পরিবর্তন করা দরকার, সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। আমি এটাও মনে করি, বিশেষ করে অগ্রগতির মূল্যায়নের একটা জোরালো প্রচেষ্টা থাকতে হবে। এই বাজেট দেওয়া হলো, আমি আগেও প্রস্তাব করেছি, তিন মাস অন্তর অন্তর একটা অগ্রগতি জানতে হবে। আমলাতান্ত্রিক অগ্রগতি পর্যালোচনা কেবল নয়, নাগরিক পর্যায়ে এটা দেখা দরকার এবং তা দক্ষতার সঙ্গে।

সমকাল: তৃতীয় করণীয়?

হোসেন জিল্লুর রহমান: উন্নয়নের পথচলায় একটি বাঁক পরিবর্তন অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে। আমাদের একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে– কিছুই হচ্ছে না বনাম স্বর্ণযুগ আসছে– এই দুইটা হচ্ছে ভ্রান্ত ধারণা। এই ফ্রেমিংটা হচ্ছে ভুল। আমাদের নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ এবং তথ্যের ভিত্তিতে এগোতে হবে। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার তীব্রতা সরকারসহ অনেকে হয়তো অনুভব করছেন না। রিয়েল-টাইম পরিসংখ্যানের ঘাটতি এই বিষয়টাকে আরও জটিল করে তুলেছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও নতুন উদ্যম তৈরি করতে হলে তিনটি বিষয় খুবই জরুরি– অর্থনীতিকে গোষ্ঠীতন্ত্র থেকে মুক্ত করা, অর্থনৈতিক সুশাসন নিশ্চিত তথা হয়রানি-দুর্নীতি-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য ও শক্ত অবস্থান এবং সবশেষে নতুন প্রবৃদ্ধির চালকদের কার্যকরভাবে সামনে নিয়ে আসা। এখানে শুধু আরেকটু বিনিয়োগ করা নয়, আমরা তো একটা সস্তাশ্রমের অর্থনীতির কাঠামোর মধ্যে আটকে আছি, তা অতিক্রম করতে হবে। আমাদের দক্ষ জনশক্তিভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার কাজগুলো জরুরি।

সমকাল: দক্ষ মানবসম্পদের কথা বললে তো শিক্ষার বিষয়ও আসবে।

হোসেন জিল্লুর রহমান: দক্ষ মানবসম্পদের জন্য শিক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষা নিয়ে সার্বিকভাবে প্রশ্ন করতে হবে, শিক্ষাকে আমরা কোথায় নিয়ে যেতে চাই। শিক্ষার গন্তব্য কোথায়? এখানে পরিবেশগত বিষয় এবং শিক্ষাকে সার্বিকভাবে জাতীয় মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা দরকার। এটি শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটা কনফারেন্স করবে তা নয়; আমি মনে করি, এটা একটা বৃহৎ কোয়ালিশন বিশেষ করে নাগরিক সমাজ এবং অন্যরা সবাই মিলে একটা জাতীয় উদ্যোগ দরকার। এটা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। 

সমকাল: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা দিয়ে যদি আমরা শেষ করি।

হোসেন জিল্লুর রহমান: জুলাইয়ের যে আকাঙ্ক্ষা, যে শক্তি তা একেবারেই ফুরিয়ে যায়নি। তবে এখানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা দরকার। একই সঙ্গে সরকার এবং রাজনৈতিক দলের সক্রিয়তা কাম্য, তেমনি নাগরিক সক্রিয়তারও কোনো বিকল্প নেই। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রেও আমাদের সম্পূর্ণ সজাগ থাকতে হবে। শেষ বিচারে তরুণ প্রজন্ম নিয়ে আমাদের আশার জায়গা আছে। তাদের সম্ভাবনা কাজে লাগালে নিশ্চয়ই আমরা এগিয়ে যাব।

সমকাল: আপনাকে ধন্যবাদ।

হোসেন জিল্লুর রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ। সমকালকে শুভেচ্ছা।

আরও পড়ুন

×