নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে চাই সংবেদনশীল ও সহযোগী পুরুষ
--
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১২:০০
বিশ্বে প্রতি তিনজনে একজন নারী তার জীবন পরিক্রমায় শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা ঘটে আপনজনের দ্বারা। তাই নারীর প্রতি সংঘটিত সব ধরনের নির্যাতন নির্মূল করার প্রত্যয়ে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব বা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। গত ১৩ ডিসেম্বর, শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টাইমস মিডিয়া ভবনের সমকাল কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বিশিষ্টজন এসব কথা বলেন। সমাজ থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও পালিত হয়েছে ১৬ দিনব্যাপী (২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর) প্রচারাভিযান। এরই অংশ হিসেবে 'নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পুরুষের ভূমিকা' শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে যৌথভাবে ব্র্যাক, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম ও সমকাল
আন্না মিন্জ
নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা কমিয়ে আনতে কিশোর ও পুরুষদের সম্পৃক্ত করে কাজ করা অনস্বীকার্য। এ ক্ষেত্রে ব্র্যাক তার সব কর্মসূচির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। ব্র্যাক তার পঞ্চবার্ষিক জেন্ডার কর্মকৌশলে (২০১৬-২০) নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার প্রক্রিয়ায় পুরুষ ও যুবসমাজের অন্তর্ভুক্তিকে জোর দিয়েছে। তাই ব্র্যাক সব সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে কিশোর ও পুরুষদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে থাকে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে 'Promotion of Gender Justice : Strengthening Engage Men and Boys Network for Reducing Violence against Women and Children in Bangladesh' প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্র্যাক নেতৃত্ব প্রদান করছে। ৭টি বিভাগের ৪২টি জেলায় ২১টি সংস্থা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরাসরি কাজ করছে। প্রকল্পটির উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পুরুষরা যেন বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ম্যাসকিউলিনিটির ইতিবাচক দিকটি সম্পর্কে জানতে এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত পল্লিসমাজ তৃণমূল নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য কাজ করে চলেছে, যার আওতাভুক্ত প্রায় ১৩ হাজার সদস্য, এর মধ্যে ২০ শতাংশ পুরুষ। পাশাপাশি রয়েছে কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ, শিক্ষার্থী ওয়াচ গ্রুপ, যেখানে বেশিরভাগ সদস্যই পুরুষ। এই গ্রুপগুলো সহিংসতা প্রতিরোধে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

মুস্তাফিজ শফি
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পুরুষের ভূমিকা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা দখল করে আছে পুরুষতন্ত্র। সমস্যার সমাধান চাইলে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। আমরা এটাকে শুধু পুরুষ বা নারীর সমস্যা হিসেবে দেখি না; এটা মানবতার সমস্যা। সমকাল প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই নানা রকম সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত। আমরা বিশ্বাস করি, সবার সম্মিলিত উদ্যোগে দেশে একদিন নতুন মানবতার সৃষ্টি হবে। সবাই এগিয়ে যাব, দেশকে এগিয়ে নেব।

শামসুল হক টুকু এমপি
দেশে দেশে, যুগে যুগে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধ্যান-ধারণার পরিবর্তনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতাও অর্জিত হয়নি। পুরুষ ও নারীর জন্য সমতাপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে প্রয়োজন যুগোপযোগী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এ জন্য জনসচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল দেশে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠিত করা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা না হলে হয়তো আজ বিশ্বে বাংলাদেশ অন্যতম মানবিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতো। বর্তমান সরকার নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যাপকভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশের ১৬ কোটি মানুষ, ৩২ কোটি হাত। এই ৩২ কোটি হাত একই লক্ষ্যে একযোগে কাজ করলে কোনো কাজই কঠিন নয়। তাই নারীর ক্ষমতায়নে সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। আমাদের চ্যালেঞ্জ করতে হবে পুরুষের সহিংস আচরণকে। আমরা সহিংসতা চাই না; চাই নারী-পুরুষের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নারীকে উদ্বুদ্ধকরণ, ক্ষমতায়ন, তাদের অধিকার বাস্তবায়নসহ নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ সবাইকে জানাতে হবে। নারী-পুরুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটবে না।

মেহের আফরোজ চুমকি এমপি
যারা বিভিন্নভাবে নারী নির্যাতন করে, তারা মানুষ না; মানুষরূপী পশু। আমরা চাই সমতাভিত্তিক সমাজ; যেখানে নারী বা পুরুষ কেউ কারও ওপর কর্তৃত্ব করবে না। বাংলাদেশের সংবিধান নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। আমরা বিবেকবান ও মানবিকতা বোধসম্পন্ন একটা সমাজের স্বপ্ন দেখি। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানত তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। দেশে ১১ হাজার কিশোর-কিশোরী ক্লাব আছে। সেই ক্লাবগুলো কিশোর ও যুবদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এলাকাভিত্তিক টিম গঠন করে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পুরুষদের সহিংস হয়ে ওঠার পেছনে কী মনস্তত্ত্ব কাজ করছে, তা খুঁজে বের করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নারী-পুরুষ ভেদাভেদ দূর এবং সহিংসতা নির্মূল করতে পরিবারের মানুষকে কাউন্সেলিং করাতে হবে। ঘটনা ঘটার পর আর কিছু করার থাকে না। তাই কোনো ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। মাঠ পর্যায়ে এখনও অনেক কিছু করার আছে। এ বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

অ্যাডভোকেট আদিবা আঞ্জুম মিতা
নারীর অগ্রযাত্রায় পুরুষও যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, তার বড় উদাহরণ আমি নিজে। আমার আজকের অবস্থানে আসার পেছনে রয়েছে আমার স্বামীর বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ। তাই সহযোগিতামূলক মনোভাবসম্পন্ন ইতিবাচক পুরুষ নারীর ক্ষমতায়নে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে নারী ও শিশু নির্যাতন। অনেক সময় দেখা যায় বিশেষত, গ্রামাঞ্চলে রাস্তাঘাটে মেয়েশিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হয়। যার ফলে অভিভাবকরা বাল্যবিয়ে দিতে বাধ্য হন। তাই যৌন হয়রানিসহ সব নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ জরুরি। সেইসঙ্গে অপরাধের দ্রুত শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে। তবে অনেক সময় অপরাধের ঘটনা যত বেশি সংবাদ বা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা পায়; সাজাপ্রাপ্তির খবর ততটা প্রচারণায় আসে না দেখে আমরা অনেক সময় জানতে পারি না দোষীরা শাস্তি ভোগ করছে। আমরা সৌভাগ্যবান যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই একজন নারী। তিনি তাঁর উপলব্ধি থেকে নারীর উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

ড. আবুল হোসেন
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নারীর অবদান এবং নারীসমাজের ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু নারীর ওপর সহিংসতাসহ নারী নির্যাতন এবং নারীর প্রতি বৈষম্য দেশে এখনও বিদ্যমান। বাল্যবিয়ে, বহুবিবাহ, যৌতুক, তালাক, অ্যাসিড নিক্ষেপ, নারী ও শিশু পাচার, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ এবং পারিবারিক নির্যাতনের মতো ঘটনা সমাজে এখনও প্রতিনিয়ত ঘটছে। এই অপরাধগুলো কেন সংঘটিত হচ্ছে, তার মূল কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বপ্রথমে নিজেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ সরকার কন্যাশিশু ও নারীর অগ্রযাত্রাকে চলমান রাখতে বিভিন্ন নারীবান্ধব নীতিমালা ও আইন প্রবর্তন করেছে। সম্প্রতি নারী ও শিশু নির্যাতন, তথ্য ও সেবা প্রদান এবং জরুরি সেবার জন্য করমুক্ত ন্যাশনাল হেল্পলাইন নাম্বার ১০৯, ৩৩৩ ও ৯৯৯ কার্যকর রয়েছে। এগুলো যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারে সেজন্য এই তিনটি হেল্পলাইন নাম্বার একটি ছাতার নিচে আনা হয়েছে। এই তিনটি হেল্পলাইনের যে কোনোটিতে ফোন করলে সেবাদাতা সমস্যার ধরন অনুযায়ী সংশ্নিষ্ট হেল্পলাইনে কলটি পাঠিয়ে দেবেন। ফলে দ্রুত ও সহজে সেবা পাওয়া সম্ভব হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এবং নারীর ক্ষমতায়নে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রাগুলো আমরা জানি। এই লক্ষ্যগুলো পূরণে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।

সেলিনা আহমেদ
চারপাশে সংঘটিত নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা যেমন যৌতুকের জন্য সহিংসতা, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, পাচার, বাল্যবিয়ে, যৌন হয়রানি ইত্যাদি আমাদের জীবনে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। বাংলাদেশে শুধু নারী নির্যাতনের কারণে প্রতিবছর ১৪ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা খরচ হয়, যা বাংলাদেশের মোট জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। সুইডেন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলোর মাথাপিছু আয় পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি, যার প্রধান কারণ ওইসব দেশে নারী নির্যাতনের হার খুবই কম। যেসব পুরুষ নারী নির্যাতন করে আর যারা করে না; তাদের মানসিকতায় বড় পার্থক্য হচ্ছে 'পৌরুষ' সম্পর্কিত এক ধারণা, যা বিশ্বাস করে সত্যিকার পুরুষ হতে হলে তাকে পুরুষোচিত আচার-আচরণ রপ্ত করতে হবে, যার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, নারীকে ভোগের সামগ্রী হিসেবে বিবেচনা করা, আধিপত্য বিস্তার, সহিংসতায় লিপ্ত হওয়া ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। কোনো ছেলেশিশু কিন্তু সহিংস হয়ে জন্মায় না। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে সে এসব নেতিবাচক ম্যাসকিউলিনিটি চর্চা শুরু করে। নারী নির্যাতনের মাশুল শুধু নারীরাই দেয় না; গোটা পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রকেও পিছিয়ে পড়তে হয় অনেক ক্ষেত্রে। সে ক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পুরুষদের ইতিবাচক মনোভাব ও অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।

আসিফ কাশেম
একজন পুরুষ হিসেবে আমি লজ্জিত বোধ করছি। কারণ কিছু পুরুষের সহিংস আচরণের কারণেই নারী তার অধিকার থেকে বঞ্চিত, নির্যাতিত হচ্ছেন। নারীর অধিকার রক্ষা, সহিংসতা প্রতিরোধে পুরুষদের নিজেদের মধ্যে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। আমরা পুরুষরা মূলত রাজনীতি বা খেলাধুলা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলি। অথচ নারী-পুরুষের সমতা, নারীর প্রতি সহিংসতা, নারীর নিরাপত্তা- এসব বিষয়ে পুরুষদের অনেক বেশি জানা ও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
অ্যাডভোকেট তৌহিদা খন্দকার
আমার খুব প্রিয় একটি স্লোগান 'নারী-পুরুষের সমতা, রুখতে পারে সহিংসতা', যেটি এ বছর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষের স্লোগান ছিল। আমার মনে হয়, নারীর প্রতি সহিংসতাকে রুখতে হলে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। বাংলাদেশের সংবিধান নারীকে সমতার সেই সুযোগ দিলেও বাস্তবতা এই যে, নারীরা এখনও বঞ্চিত। আইনে সমতা দেখানো হলেও ধর্মীয় ব্যাখ্যায় নারীরা দেনমোহর থেকে বঞ্চিত হয়। কারণ বিয়ের সময়েই নিকাহনামায় 'উসুল' বলা হয়। এমনকি ডিভোর্সপ্রাপ্ত নারী উচ্চশিক্ষায় দেশের বাইরে যেতে চাইলে আইনের কারণে তার সন্তানদের নিয়ে যেতে পারেন না। কারণ এতে বাবার অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু এমন অনেক উদাহরণ আছে, যেখানে ডিভোর্সের পর বাবা সন্তানদের কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। তাই আইনের সংশোধন জরুরি।
আনোয়ারুল হক
ক্ষমতা হচ্ছে একজনের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা। ক্ষমতায়নের এই ধারণা থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে। মানুষের সম্পর্কগুলোর বৈচিত্র্য নিয়ে ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কারণ সেখানেই বেড়ে উঠছে আমাদের আগামী প্রজন্ম। শিশুদের মধ্যে ক্ষমতায়নের নতুন এই ধারণা প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন শিক্ষায় প্রচুর বিনিয়োগ। শিশুরা যেহেতু আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, সে ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা দরকার।
হাসনে আরা বেগম
পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তনে প্রথমে সমাজ কাঠামোর পরিবর্তন জরুরি। ঘুরেফিরে সবকিছুতেই নারীকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। নারী অপরাধ করুক আর নাই করুক, অপরাধ যেন তারই। এই 'ব্লেমিং সংস্কৃৃতি' থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া নারীই নারীর শত্রু- এ ধরনের বিভেদ সৃষ্টিকারী কথাবার্তা বলা পরিত্যাগ করতে হবে। নারীদের সম্পর্কে প্রকাশ্যে নানা ধরনের অশ্নীল মন্তব্য, কটূক্তি ও কৌতুক করা হয়। আমরাও বছরের পর বছর এসব দেখেশুনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি; প্রতিবাদ করি না, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
নিশাত সুলতানা
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ইতিবাচক পুরুষের 'রোল মডেল' তৈরি করা খুব জরুরি; যেন তাদের অনুসরণ করতে পারে আজকের তরুণরা। রোল মডেল হতে পারেন রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় নেতা, অভিনেতা, সমাজকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, লেখক কিংবা সাহিত্যিক। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। আমাদের বাস্তব জীবনেও রোল মডেলের খুব অভাব। আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল, অনুকরণীয় পুরুষ প্রয়োজন, যাদের দেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিখতে পারে। যে পরিবারের বাবা নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সে পরিবারের সন্তানরাও নারীকে সম্মান করতে শেখে।
বনশ্রী মিত্র নিয়োগী
অতীতের সতীদাহ প্রথা, বিধবা বিবাহ আইন ও বাল্যবিয়ের সংস্কার আন্দোলনের সূচনাকারীরা ছিলেন পুরুষ, যেমন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও রাজা রামমোহন রায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, কয়লার খনি বা রাজনৈতিক যে কোনো আন্দোলনের ইস্যুতে পুরুষদের যেভাবে সংঘবদ্ধভাবে পাওয়া যায়, নারীর প্রতি সহিংসতা ইস্যুতে কিন্তু পুরুষের সেই সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন অনেক ক্ষেত্রে কম দৃষ্টিগোচর হয়। দেশে ৭২ শতাংশ নারী তার নিজ পরিবারে সহিংসতার শিকার। মানসিক নির্যাতনের কথা তো প্রমাণ করাই যায় না। নারীর এই নির্যাতনের মধ্যে অন্যতম কারণ হলো, নারী গৃহস্থালি যে কাজ করে এ জন্য কোনো অর্থপ্রাপ্তির বিষয় নেই। তাই নারীর ঘরের কাজের কোনো মূল্যও নেই। এ জন্য নারীর গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। সহিংসতা কমিয়ে আনতে ইতিবাচক মানসিকতার পুরুষ অন্য পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তনে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
ওয়াহিদা বানু
বর্তমান সমাজে সব কাজে নারীর অংশগ্রহণ আছে, কিন্তু অংশীদারিত্ব বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেকে পিছিয়ে। এ জন্য আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। কর্মকৌশল পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য সামাজিক যে কাঠামো আছে, সেই কাঠামোর প্রতিটি স্তরে প্রতিষ্ঠানকে সংবেদনশীল হতে হবে এবং নারী-পুরুষ সবাইকে সমানভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। এ জন্য গণমাধ্যমও বড় ভূমিকা পালন করে। এ জন্য যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়, তাহলে অবশ্যই এটি সর্বক্ষেত্রে সমানভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
সোহানুর রহমান
সামাজিকভাবে বেড়ে ওঠার সময় আমাদের শিক্ষা দেওয়া হয়- পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাবান আর নারীরা অবলা। তাদের যা খুশি বলা যায় বা করা যায়। আর তাই সহিংসতা কমাতে পুরুষদের শেখাতে হবে, কীভাবে নারীদের মর্যাদা দিতে হয়। কারণ আদর্শ পুরুষ কখনোই নারী নির্যাতন ও বাল্যবিয়ে করতে পারে না। আমরা গ্রামে গিয়ে তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করি। নারীর ক্ষমতায়ন হলে সর্বক্ষেত্রে সমৃদ্ধি বাড়বে। এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে পুরুষদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। কৈশোরে বিনিয়োগ করতে হবে। পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের বিষয়টি নতুন প্রজন্মকে শেখাতে হবে এবং নারীর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধে পুরুষ ও কিশোরদের সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে পুরুষদের শেখাতে হবে একজন শিক্ষিত নারীর সঙ্গে কীভাবে সংসার করতে হয়। এ ছাড়া ছেলেমেয়েরা যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে না। এ বিষয়টিও বিবেচনায় আনা উচিত।
শাহনাজ মুন্নী
নারীর প্রতি সহিংসতার যে পরিসংখ্যান করা হয়েছে, সেগুলো মূলত গণমাধ্যমে আসা খবরগুলো থেকে নেওয়া। কাজেই এ থেকে বোঝা যায়, সহিংসতার মাত্রা কতটুকু এটি জনগণের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম বড় ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অ্যাসিড সন্ত্রাস একসময় বড় সমস্যা ছিল। এটা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। এখন নারীরা তুলনামূলক আগের চেয়ে ক্ষমতায়িত হয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষমতায়িত নারীদের সঙ্গে পুরুষদের সম্পর্কটা কেমন হবে, সে বিষয়ে অনেকের ধারণা স্পষ্ট নয়। পুরুষরা মনে করে, তাদের ক্ষমতার জায়গাগুলো বুঝি নারীরা নিয়ে নিচ্ছে। সে জন্য অনেক পুরুষ সহিংস হয়ে ওঠে। সিনেমা, নাটক ও বিজ্ঞাপনে নারীকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি দায়িত্ব ও সংবেদনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে যারা এসব তৈরি করছেন, তাদের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।
মাহফুজ মিশু
পুরুষ সব সময় নিজেকে পরিবারে ক্যাপ্টেন বলে মনে করে। এটা একটা মনস্তাত্ত্বিক সংকট। আমরা দেখে আসছি, পুরুষ কিংবা নারীর কাজ নির্ধারণ করে সমাজ। পুরুষ এর ব্যতিক্রমী কোনো কাজে, অর্থাৎ সমাজ কর্তৃক নারীর জন্য নির্ধারিত কাজে অংশ নিলেই তাকে 'মেয়েলি আচরণধারী' আখ্যা দেওয়া হয়, তাকে নিয়ে নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা হয়। আরেকটি বিষয় অবাক লাগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসহ শুধু মেয়েদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উঁচু করে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়; যেন মেয়েরা কোনো দাগি আসামি। এ ধরনের আয়োজন দেশের নারীদের সামগ্রিক নিরাপত্তাহীনতার চিত্রই ফুটিয়ে তোলে। আমরা নারী নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার দেখতে চাই। তাই বলে অপরাধীর ক্রসফায়ারকেও মেনে নেওয়া যায় না। নারী নির্যাতন কমিয়ে আনতে পুরুষদের সম্পৃক্ত করে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেওয়া জরুরি। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে যদি অচিরেই নারী নির্যাতনের মাত্রা কমিয়ে আনা না যায়।
মনোয়ারা বেগম
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। কিন্তু আজও আমরা নারীর জন্য নিরাপদ পথচলা নিশ্চিত করতে পারিনি। ফলে অনেক নারী আজও স্বাধীনতার সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারছে না। আমাদের সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এ ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। অন্যদিকে দেখা যায়, পরিবারে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর ক্ষেত্রে ছেলেশিশুকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। অথচ মেয়েশিশুরা, যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধারণ করবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হচ্ছে না। নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রায়ই আমাদের শুনতে হয়- রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা আসীন। পুরুষরা সেই কিছুসংখ্যক নারীর অগ্রগতি দেখিয়ে সামগ্রিকভাবে নারীর ক্ষমতায়নকে মূল্যায়ন করতে চায়। সে জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। এই গোলটেবিল বৈঠক থেকে এর পরিবর্তন আশা করি।
নূরজাহান
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পুরুষের ভূমিকার পাশাপাশি নারীর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় মা আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়েছেন; কিন্তু আমার বাবা প্রতিবাদ করেছিলেন। তাই আমি মনে করি, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নারীর ভূমিকা পুরুষের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে প্রথমত পরিবার থেকে, যা ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়বে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে। এ ছাড়া কোনো নারী সামনে এগিয়ে গেলে তাকে অন্য নারীদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
নাসিমা আক্তার জলি
সমাজে পুরুষতান্ত্রিক যে মানসিকতা, তার এখনও পরিবর্তন হয়নি। নারীর ভূমিকাও উপেক্ষিত। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের সামনে রাখা হয়, কিন্তু সেটা প্রতীকী হিসেবে। রাজনৈতিক দলেও যেভাবে নারীদের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে, সেটা বাস্তবায়ন করা হয় না। মেয়েশিশু জন্মানোর কারণেও নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বর্তমানে নারীরা শারীরিক নির্যাতনের চেয়ে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বেশি। সম্পত্তির উত্তরাধিকারের কথা বললে পুরুষ সমাজ নীরব হয়ে যায়। এ ছাড়া যৌন হয়রানির বিষয়টিও এখন অনেক বেড়ে গেছে। এ জন্য সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। আমাদের সব স্বপ্ন তখনই সফল হবে, যখন নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব।
উম্মে সালমা
ছোটবেলা থেকেই আমরা একজন ছেলে ও মেয়েকে তাদের দায়-দায়িত্ব ও সামাজিক মর্যাদা সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা দিচ্ছি। ফলে তারা কীভাবে বড় হয়ে উঠেছে, তার একটা বড় প্রভাব আছে পরবর্তী সময়ে তাদের আচরণ নির্ধারণে। তবে আমরা যেহেতু সম্মিলিত পরিবর্তন চাচ্ছি, তাই সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং পুরুষদের নিয়ে বেশি করে কাজ করতে হবে। বর্তমান সময়ের পটভূমিতে পিতাদের সন্তানের প্রতি দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে নতুনভাবে পরিচিত করানো খুব জরুরি।
সানজিদা আক্তার
পুরুষরা মূলত সামাজিকীকরণের মাধ্যমে নারীদের প্রতি সহিংস আচরণ এবং সহিংসতা বিষয়ে নীরব থাকার শিক্ষা লাভ করে, যেখানে পরিবর্তন আনা জরুরি। অনেকেই মনে করেন, জেন্ডার শব্দটা শুধু নারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; যদিও জেন্ডার কথাটির অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক, যা অন্তর্ভুক্ত করে নারী-পুরুষ উভয়কেই। জেন্ডার বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি, অনেক সময় পুরুষরা স্বল্পসংখ্যক নারীর ক্ষমতায়নকেই সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করছেন এবং যারা ভুক্তভোগী নারী, তাদের সংখ্যাকে বিবেচনায় আনতে চাচ্ছেন না। আর তাই নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে যেসব নারীবান্ধব আইন রয়েছে, তার প্রয়োজনীয়তাও অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। অন্যদিকে 'পৌরুষ' সম্পর্কিত সমাজে বিদ্যমান ধারণাকে রপ্ত করতে গিয়ে পুরুষরা অনেক সময় নারীর প্রতি সহিংস আচরণ করছে। সে জন্য সহিংসতা প্রতিরোধমূলক সব কর্মসূচিতেই পুরুষকে সম্পৃক্ত করে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রধান অতিথি
শামসুল হক টুকু এমপি
সভাপতি, শিশু অধিকারবিষয়ক সংসদীয় ককাস
সভাপতি
মেহের আফরোজ চুমকি এমপি
সাবেক প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়
আলোচক
অ্যাডভোকেট আদিবা আঞ্জুম মিতা
মাননীয় সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
ড. আবুল হোসেন
পরিচালক, মাল্টিসেক্টরাল প্রকল্প, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়
আন্না মিন্জ
পরিচালক, জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি, সামাজিক ক্ষমতায়ন ও সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি, ব্র্যাক
আসিফ কাশেম
সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার, অস্ট্রেলিয়ান ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড
আনোয়ারুল হক
সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার, ডিএফআইডি
অ্যাডভোকেট তৌহিদা খন্দকার
পরিচালক, বিএনডব্লিউএলএ
হাসনে আরা বেগম
জেন্ডার স্পেশালিস্ট, জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি, ব্র্যাক
নিশাত সুলতানা
প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি, ব্র্যাক
বনশ্রী মিত্র নিয়োগী
জেন্ডার অ্যাডভাইজার, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন
ওয়াহিদা বানু
নির্বাহী পরিচালক, অপরাজেয় বাংলাদেশ
সোহানুর রহমান
সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট
শাহনাজ মুন্নী
প্রধান বার্তা সম্পাদক, নিউজ টোয়েন্টিফোর
মাহফুজ মিশু
বিশেষ প্রতিনিধি, যমুনা টেলিভিশন
মনোয়ারা বেগম
নারী কাউন্সিলর, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন
নূরজাহান
আইনজীবী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ মহিলা আওয়ামী লীগ
নাসিমা আক্তার জলি
সেক্রেটারি, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম
উম্মে সালমা
জেন্ডার অ্যাডভাইজার, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং প্রতিনিধি এনগেজমেন অ্যান্ড বয়েজ নেটওয়ার্ক
সানজিদা আক্তার
চেয়ারপারসন, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সঞ্চালক
মুস্তাফিজ শফি
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সমকাল
মূল ধারণাপত্র
সেলিনা আহমেদ
কর্মসূচিপ্রধান, জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচি, ব্র্যাক
অনুলিখন
সাজিদা ইসলাম পারুল
স্টাফ রিপোর্টার, সমকাল
দেলওয়ার হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার, সমকাল
