ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কার সঙ্গে কেমন সম্পর্ক ছিল ডমিঙ্গোর

কার সঙ্গে কেমন সম্পর্ক ছিল ডমিঙ্গোর
×

ছবি: ফাইল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ | ০৭:২৬ | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ | ০৭:৩৩

রাসেল ডমিঙ্গোর বিসিবির প্রধান কোচের চাকরি ছাড়ায় বিশেষ কোন চমক নেই। অনেকবারই তো তার চাকরি ছাড়া কিংবা হারানোর গুঞ্জন উঠেছে। যাওয়ার আগে সংবর্ধনা পাওয়ার মতো তেমন কিছু করেননি তিনি। সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না। 

ই-মেইল বার্তায় চাকরি ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রোটিয়া কোচ ডমিঙ্গো। সেখানেই একলাইনে ‘বাংলাদেশ দলকে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা’ কথাটা বলেছেন তিনি। এর বেশি কিছু তার বলারও কথা নয়। বললেও জানা যায়নি। 

ডমিঙ্গো অধ্যায় যেখানে শেষ সেখান থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দ্বিতীয় অধ্যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির এক পরিচালক সমকালকে নিশ্চিত করেছেন, হাথুরুই আসছেন ওয়ানডে ও টেস্ট দলের প্রধান কোচ হয়ে।

যদিও হাথুরুর সঙ্গেও বাংলাদেশ দলের অনেক ক্রিকেটারের সম্পর্ক ভালো ছিল না। তার কাজ নিয়ে প্রশ্নের জায়গা কম। তবে ‘হেড মাস্টার’ সুলভ আচরণ পছন্দ করতেন না অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার। আর ডমিঙ্গোর কাজই তো পছন্দ ছিল না সিনিয়রদের। সম্পর্কও অবনতি হয়েছিল।

মাশরাফি মর্তুজা: ২০২০ সালের মার্চে সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজ খেলেন মাশরাফি। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। সে সময় কোচ রাসেল ডমিঙ্গো মাশরাফির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এ ব্যাপারে তার সঙ্গে আলাপ করার জন্য কফির টেবিলে দাওয়াতও দিতে চেয়েছিলেন। যদিও মাশরাফি পরে জানিয়েছিলেন, সেই কফির দাওয়াত কোনদিন পাননি তিনি।

তামিম ইকবাল: ওয়ানডে অধিনায়কের সঙ্গে সম্পর্ক যে খুব মধুর ছিল না, সে কথা ডমিঙ্গো নিজেও এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন। বলেছিলেন, আমাদের কিছু ব্যাপারে ঝামেলা হয়েছিল। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না। সে অধিনায়ক, আমি কোচ। আসলে অভিজ্ঞদের একটা ব্যক্তিত্ব থাকে, অহংকারের জায়গা থাকে। সেই বাধা দূর করে আস্থার জায়গা তৈরি করতে সময় লাগে। ২০২১ টি২০ বিশ্বকাপের আগে আগে দলে ফেরার সুযোগ থাকলেও সে সময় তামিমের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে। সেখানে ডমিঙ্গোই নাকি প্রশ্ন তুলেছিলেন, টানা কয়েক মাস টি-২০ না খেলে কীভাবে তাকে ওই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে নেওয়া যায়।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ: টেস্টে টানা অফফর্মের কারণে এমনিতেই নাজুক অবস্থায় ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তান সিরিজের পর বাদ দেওয়া হয় তাকে। তখনও গুঞ্জন উঠেছিল, রাসেল ডমিঙ্গোই টেস্ট দলে চাইছেন না রিয়াদকে। পরে এক সাক্ষাৎকারেও সেই ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন ডমিঙ্গো, ‘ভবিষ্যতের জন্য আমাকে একজন মিডল অর্ডার তৈরি করতেই হতো। রিয়াদ থেকে গেলে ইয়াসিরকে পেতাম না। লিটনকে নিয়মিত খেলাতে পারতাম না।'

মুশফিকুর রহিম: মুশফিকুর রহিমকে টি২০ ফরম্যাটে ঠিক পছন্দ ছিল না ডমিঙ্গোর। তার যুক্তি ছিল, টি-২০ ব্যাটিংয়ের কারণে তার টেস্ট ও ওয়ানডে ব্যাটিং যেন ক্ষতি না হয়। ডমিঙ্গো উদাহরণ দিতে গিয়ে হাশিম আমলার কথা বলেছিলেন। যদিও মুশফিককে টি-২০ থেকে বাদ দেওয়া হয় ডমিঙ্গো পরবর্তী শ্রীরামের সময়েই।

মুমিনুল হক: মুমিনুল টেস্টে অধিনায়কত্ব উপভোগ করতেন বলে মনে করতেন না ডমিঙ্গো। এ নিয়ে বহুবার তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। বারবার তাকে উৎসাহ দিতেন। তিনি মনে করতেন, কয়েকটি টেস্ট খুব কাছাকাছি গিয়ে হারতে হয়েছিল দুর্বল নেতৃত্বের কারণে। এ নিয়ে তিনি বিসিবি প্রধানের কাছেও নাকি কয়েকটি রিপোর্ট দিয়েছিলেন।

তরুণদের সঙ্গে: ড্রেসিংরুমে অভিজ্ঞদের ছায়াতেই ঢাকা পড়ে থাকত বাকিরা। নিজেদের গুরুত্ব তারা বুঝতে পারত না। ডমিঙ্গো এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি শুরুতে এসে দেখেছিলেন অভিজ্ঞদের দাপটে তরুণদের দমিয়ে রাখার সংস্কৃতি ছিল বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে। তাঁর দাবি, তিনিই স্বাধীনতা দিয়েছিলেন তরুণদের। আর সে কারণেই পরে তারাও কথা বলতে পারত ড্রেসিংরুমে।

বিসিবির সঙ্গে: বাংলাদেশ দল ছিল অরক্ষিত। ডমিঙ্গো মনে করতেন, বাইরের যে কেউ দল নিয়ে মন্তব্য করতে পারেন। এবং সেটা ক্রিকেটারদের কানেও পৌঁছায়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তাকে সব সময় বলা হতো, ক্রিকেটারদের সারাক্ষণ ধমকাতে হবে; কঠোর হতে হবে। যা তিনি পারেননি বলেও স্বীকার করেছিলেন।

আরও পড়ুন

×