ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

'আমার আরও অনেক অর্জন বাকি'

'আমার আরও অনেক অর্জন বাকি'
×

ব্যাচমেট সহপাঠীদের উদ্দেশে কথা বলেন মুশফিক - বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২০ | ২২:৪৬ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২০ | ০১:৫৫

জাতীয় দলের খেলা শেষ করে পরদিনই বন্ধুদের নিয়ে বিকেএসপিতে চলে এসেছিলেন মুশফিকুর রহিম। সোহরাওয়ার্দী শুভ, শামসুর রহমানদের নিয়ে রাত জেগে পুনর্মিলনীর ব্যানার, ফেস্টুন লাগিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সর্বত্র। আবার গতকাল ভোরে উঠে রানিংও করেছেন। ক্রিকেট নিয়ে উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যানের একাগ্রতা অনুকরণীয়। দেশসেরা এই ব্যাটসম্যান গতকাল নিজেদের ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কথা বললেন জাতীয় দল ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে।

প্রশ্ন: পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান কেমন উপভোগ করলেন?

মুশফিক: আমরা একটা 'স্পেশাল ব্যাচ'। নতুন শতাব্দী অর্থাৎ ২০০০ সালে ভর্তি হয়েছি। আমরা অনেকদিন ধরেই পরিকল্পনা করছিলাম, কীভাবে একটা পুনর্মিলনী করা যায়। সেই ২০০৬ সালে বেরোনোর পর এই প্রথম সবার একসঙ্গে হওয়া। পুনর্মিলনী করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। বন্ধুত্বের যে বন্ধন আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কোচ সবারই অবদান আছে এই ব্যাচের পেছনে। আমরা ছয় বছর এখানে কোচিং করতে পেরেছি, সত্যিই গর্বের।

প্রশ্ন: করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের সব জায়গায় খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আপনি কি মনে করেন, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগও বন্ধ হওয়া উচিত?

মুশফিক: এটা বিশ্বে খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়েছে। আমাদের দেশে কয়েকজনের হয়েছে; কিন্তু খুব বেশি ছড়ায়নি। যত সতর্কতা অবলম্বন করা যায় তত ভালো। আমরা খেলোয়াড়, খেলাধুলা না থাকলে আমাদের চলবে না। ব্যক্তিগতভাবে আমরা সবাই সতর্ক থাকলে নিজের এবং অন্যের ভালো হবে। আমি মনে করি, সতর্কতা অবশ্যই অবলম্বন করা উচিত। বিশ্বব্যাপী হয়তো দর্শকশূন্য মাঠে খেলা চলবে।

প্রশ্ন: তামিম নতুন অধিনায়ক হয়েছে, তার জন্য কোনো পরামর্শ?

মুশফিক: পরামর্শের তেমন কিছু নেই। তার অধীনে আগেও আমরা খেলেছি। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা গত ১৫ বছর ধরে একসঙ্গে খেলছি। আমরা জানি সে কী রকম এবং তার সামর্থ্য কতটা। সে দায়িত্ব পেয়েছে, আমরা সবাই সাপোর্ট করছি। কয়েক বছর ধরে সে খুব ভালো খেলছে। পুরো দলকে সেভাবে এগিয়ে নেবে- সে প্রত্যাশা আমার।

প্রশ্ন: বর্তমান দল নিয়ে কতটা আশাবাদী?

মুশফিক: এখন যারা আছে তাদের অনেকেই ধারাবাহিক। বিসিবি গত পাঁচ-ছয় বছর এদের পেছনে বিনিয়োগ করেছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের আগেও কিন্তু এদের ধারাবাহিকতা নিয়ে অনেকে কথা হচ্ছিল। এটা একটা সময়ের ব্যাপার, অনেকে এক বছরে ধারাবাহিক হয়। অনেকের পাঁচ-ছয় বছর লাগে। আমি বিসিবিকে অবশ্যই ধন্যবাদ দেবো যে, এই ছেলেগুলোর পেছনে তারা বিনিয়োগ করায় এখন ফল পাচ্ছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও পারফরম্যান্সকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এই দলটির বিপক্ষে অনেক চাপ নিয়ে ভালো খেলতে হয়। জিতলে কোনো কৃতিত্ব নেই, হারলে সমালোচনা হয়। সেদিক থেকে বলব, এটা অনেক বড় একটা অর্জন। অনেকে ধারাবাহিক রান করেছে। আশা করব, ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। রিয়াদ ভাই সব সময় যেটা বলেছেন, এটাই আমাদের মানদণ্ড। এখান থেকে আমরা যাতে নিচে না যাই। বরং ধাপে ধাপে উপরে যেতে হবে।

প্রশ্ন: এই দল নিয়ে ২০২০ টি২০ বিশ্বকাপ আর ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে কত দূর যাওয়া সম্ভব?

মুশফিক: ২০২০ টি২০ বিশ্বকাপ এখনও অনেক দেরি। আমাদের পরবর্তী খেলা হচ্ছে ডিপিএল। ডিপিএলের পর পাকিস্তান সফর, তারপর আয়ারল্যান্ড। আমার মনে হয়, আগে এগুলো নিয়ে চিন্তা করলে ভালো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমাদের মানসিকতায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং তার প্রতিফলন মাঠে দেখা যাচ্ছে। আমরা যেন এর ধারাবাহিকতা রাখি। আর বিশ্বকাপ অবশ্যই বিশেষ কিছু। ওটার জন্য টিম ম্যানেজমেন্ট নিশ্চয়ই পরিকল্পনা করছে। আমি চেষ্টা করব, নিজেকে ওই দলের একজন সদস্য করতে।

প্রশ্ন: সমর্থকরা টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে আপনাদের কাছ থেকে কতটা প্রত্যাশা করতে পারে?

মুশফিক: আমাদের টি২০ শুরুটা এখন ভালো হচ্ছে। এর মানে এটা না যে, সামনে যত খেলা আছে জিতে যাব। টি২০তে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা খুবই কঠিন। এই চ্যালেঞ্জ আমাদের নিতে হবে এবং সামনে অনেক কঠিন সফর আছে যেগুলোকে দেখিয়ে দেবে আমরা কোনদিকে যাচ্ছি। এই যে ফলাফল আমরা করেছি, তা যদি এক থেকে পরের পাঁচ বছর ধরে রাখতে পারি তাহলে টি২০তে একটা ধারাবাহিকতা আসবে। হ্যাঁ, আমরা আউটস্ট্যান্ডিং একটা সিরিজ খেলেছি, তবে এটা একটা সিরিজ মাত্র। এটার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।

প্রশ্ন: ২৩ গড়কে ৩৭-এ নিয়ে যাওয়ার পেছনে রসায়ন কী?

মুশফিক: আমি তো মনে করি এটা খুবই সামান্য। এখনকার ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে আমার কাছে এই গড় কিছুই না। ব্যক্তিগতভাবে আমার আরও অনেকে কিছু অর্জন করা বাকি। তবে গত পাঁচ-সাত বছর ধরে আমি যেভাবে খেলছি; পরের কয়েকটা বছর যদি ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি তাহলে আশা করি অবসর গ্রহণ করার আগে রেকর্ডকে বড় করতে পারব।

প্রশ্ন: আবাহনীতে প্রথমবার খেলছেন এবং অধিনায়ক হিসেবে, কেমন লাগছে?

মুশফিক: এ রকম একটা দলে খেলা সম্মানের। আবাহনী অনেকবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গত বছরও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আবাহনীতে খেলা অন্যরকম একটা চাপ থাকে। আমি সত্যিই সৌভাগ্যবান, এ রকম একটা চ্যাম্পিয়ন দলে খেলার সুযোগ পেয়েছি। চেষ্টা করব, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে। আর চ্যাম্পিয়নশিপটা যেন ধরে রাখতে পারি।

প্রশ্ন: আপনার হাত ধরে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে কিনা?

মুশফিক: দেখেন, আমি অনেক জায়গায় শুনেছি, এবার ডিপিএলে ছয়-সাতটা দল খুবই ভারসাম্যপূর্ণ। এখনই বলতে পারবে না, কে চ্যাম্পিয়ন হবে। সেরা ছয় দল কারা হবে, এটা বলাও কঠিন। তবে আবাহনী কখনও দুই বা তিন নম্বর হওয়ার জন্য দল করে না। সব সময় চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দল গড়ে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। প্রথমে লক্ষ্য থাকবে, সেরা ছয়ে যেন যেতে পারি। এরপর আমরা যেন চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য লড়াই করতে পারি।

আরও পড়ুন

×