ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতির লুইস আর নেই

ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতির লুইস আর নেই
×

ছবি: গেটি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৪২

টনি লুইস এবং ফ্রাঙ্ক ডাকওয়ার্থ বিখ্যাত দু’জন গণিতবিদ। ক্রিকেটে বৃষ্টির কারণে কার্টেল ওভার এবং রান কিভাবে সমন্বয় হবে তার পদ্ধতি বের করেন এই ‍দু’জন। তাদের নামেই পদ্ধতিটা ডাকওয়ার্থ-লুইস নামেই খ্যাতি পায়। সংক্ষেপে যা ডি-এল পদ্ধতি এবং আমাদের কাছে বৃষ্টি আইন বলেও পরিচিত। ওই পদ্ধতির উদ্ভাবকের একজন টনি লুইস আর নেই। বুধবার ৭৮ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন।

ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) জানিয়েছে, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ইসিবি জেনেছে যে, টনি লুইস এমবিই ৭৮ বছর বয়সে মারা গেছেন।’

১৯৯৭ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্য গণিতবিদ সহগবেষক ফ্র্যাঙ্ক ডাকওয়ার্থকে নিয়ে এই পদ্ধতি বের করেন টনি লুইস। বৃষ্টি বিঘ্নিত ক্রিকেট ম্যাচে যারা পরে ব্যাটিং করে তাদের রানের লক্ষ্য কত হতে পারে সেটিই বের করা হয় এই উদ্ভাবিতে। ১৯৯৭ সালে জিম্বাবুয়ে-ইংল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয় এই আইন। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে ডি-এল পদ্ধতির অনুমোদন দেয়।

২০১৪ সালে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতি আধুনিক সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করেন অস্ট্রেলিয়ার অধ্যাপক স্টিভেন স্টার্ন। ডি-এল পদ্ধতির নাম পরিবর্তন করে তাই ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন বা ডিএলএস পদ্ধতি রাখা হয়। ১৯৯৭ সালের আগে প্রচলিত বৃষ্টি আইনে যত ওভার কাটা যেত, প্রথম ইনিংসে ব্যাট করা দলের সবচেয়ে কম রান ওঠা সেই কয় ওভারের রান বাদ যেত। রান তাড়া করা দলের সামনে মাঝেমধ্যেই অদ্ভুত লক্ষ্য দাঁড়াত।

১৯৯২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনালে ঘটে তেমনই এক অদ্ভূত ঘটনা। বৃষ্টির ১৩ বলে ২২ রান দরকার ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর হিসাব এলো প্রোটিয়াদের ১ বলে ২১ রান করতে হবে।

ডাকওয়ার্থ-লুইসের অন্যতম উদ্ভাবক ফ্র্যাঙ্ক ডাকওয়ার্থ জানান, ওই ম্যাচটি তাদের নতুন এবং কার্যকর পদ্ধতি বের করার অনুপ্রেরণা দিয়েছিল, “আমার মনে আছে ধারাভাষ্যকার ক্রিস্টোফার মার্টিন-জেনেকিন্সকে রেডিওতে বলছিলেন ‘নিশ্চয় কেউ কোথাও বসে এর চেয়ে ভালো কিছু বের করবে’। এরপরই আমার মনে হলো এই গাণিতিক সমস্যার একটি গাণিতিক সমাধানই দরকার।”

১৯৯২ সালে ‘ফেয়ার প্লে ইন ফাউল ওয়েদার’ নামের একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন ডাকওয়ার্থ। সেই কনফারেন্সে লুইসও উপস্থিত ছিলেন। ডাকওয়ার্থের প্রবন্ধে মুগ্ধ লুইস একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন। এরপর দু’জনে শুরু করেন হিসাবনিকাশ। যে ম্যাচে প্রথম আইনটি প্রয়োগ করা হয় ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ২০০ রানে অলআউট করে ইংল্যান্ড। এরপর ৪২ ওভারে লক্ষ্য পায় ১৮৬ রানের। ম্যাচটি ইংলিশরা হারে ৭ রানে। ক্রিকেট ও গণিতে অবদান রাখায় ২০১০ সালে ডাকওয়ার্থ ও লুইসকে এমবিই পদবি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×