তারিকের প্রেরণায় বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৭ জুন ২০২৩ | ০৬:৪২
বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তেরেভা স্টেডিয়াম থেকে টিম হোটেলে যেতে সময় লাগে ৩০ মিনিট। রোববার মালদ্বীপের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর বাসেই সুরের তালে নেচেছিলেন বিশ্বনাথ ঘোষ-তপু বর্মণরা। ২০ বছর পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বীপ দেশের বিপক্ষে জয়ের সেই উচ্ছ্বাসটা বাস থেকে হোটেল পর্যন্ত ছিল। ম্যাচ খেলার ক্লান্তিও কাউকে এতটুকু স্পর্শ করেনি।
টিম হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়েই আবার আনন্দ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার দলের। এই উৎসবের মধ্যমণি ছিলেন বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার গোল করা তারিক রায়হান কাজী। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ার পর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটলেও বসুন্ধরা কিংসের এ ডিফেন্ডার পায়ের যন্ত্রণাও যেন ভুলে গেছেন জয়ের আনন্দে।
কেক সামনে রেখে সবাই যখন জয়ের সেলিব্রেশন করছেন, তখনই সবাইকে থামিয়ে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে পাশে বসিয়ে তারিক দিলেন প্রেরণাদায়ক বক্তব্য, ‘বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হারার পর আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সাফে আমরাও সেটা করে দেখাব।’ তাঁর এই ছোট্ট বক্তব্যের পর সবাই ‘ইয়েস, ইয়েস’ বলতে থাকেন। একটি জয়ে মেলেছে স্বপ্নের ডানা, বেড়েছে ২০০৯ সালের পর সাফের সেমিফাইনালে খেলার জোরালো সম্ভাবনা। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে পুরো দলই এখন আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। একটি জয়ে বদলে গেছে দৃশ্যপট, পাল্টে গেছে পুরো দলের চেহারা। এখন শুধু সেমিফাইনালই নয়, ২০০৫ সালের পর ফাইনালের স্বপ্নও দেখছেন শেখ মোরসালিন-রাকিব হোসেনরা।
লেবাননের কাছে প্রথম ম্যাচে হারের পরও মনোবল হারাননি জামালরা। এমনকি মালদ্বীপের বিপক্ষে শুরুতে গোল হজম করলেও ভেঙে পড়েনি দল। সাহসী ফুটবলে মুগ্ধতা ছড়িয়ে ৩-১ গোলের অবিস্মরণীয় জয়ে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা প্রমাণ করেছে কতটা ক্ষুধার্ত তারা।
আগামীকাল লেবাননের সঙ্গে মালদ্বীপ ড্র করলে, দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রয়োজন ভুটানের বিপক্ষে জয়। তাতেই মিলে যাবে সেমির টিকিট। চাপের মুখে ভেঙে না পড়ার যে মানসিকতা নতুন করে দেখা দিয়েছে বাংলাদেশ দলে, তাতে ভুটান বড় কোনো বাধা হওয়ার কথা নয়। মালদ্বীপ বধের পর সোমবার অনুশীলনেও সবার চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আত্মবিশ্বাসের ছাপ। একে অপরের সঙ্গে খুনসুটি করছেন। সবার মুখে ছিল হাসি। সবাই যখন বিবিএফএস অ্যারেনায় অনুশীলনে ব্যস্ত, তারিক কাজী তখন হোটেলেই বিশ্রামে কাটিয়েছেন।
পায়ের ইনজুরি কতটা গুরুতর, আরেকটি এক্স-রের পর সেটা পরিষ্কার হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন টিম ম্যানেজার আমের খান। ‘সে আজকেও (সোমবার) অনুশীলনে আসতে চেয়েছিল। তাকে জোর করে হোটেলে রেখে এসেছি। আমরা বলেছি, তুমি বিশ্রাম নাও। যেহেতু আজ থেকে মেডিকেশন শুরু হচ্ছে। সেটা নাও। তার পর আমরা দেখব।’
