ক্রিকেটারদের পারিবারিক সমস্যাও দেখতে হয় বিসিবির
ছবি: ফাইল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ০৩:১৭
বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ১১ দফা দাবিতে সোমবার ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার বোর্ড পরিচালকরা ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের প্রেক্ষিতে করেছেন বৈঠক। সামনে ভারত সিরিজ। পরিচালকদের জরুরি বৈঠক দেখে ধারণা করা হয়েছিল, কিছু কিছু দফা অন্তত মেনে নেওয়া হবে। অন্যগুলো পূরণের আশ্বাস দেওয়া হবে। তবে বিসিবি গেছে হার্ডলাইনে। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ক্রিকেটারদেরও আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সামনে ভারত সিরিজের অনুশীলন ক্যাম্প। আমরা দেখতে চাই কে কে অনুশীলনে আসে। ক্যাম্প সময় মতোই হবে। যারা আসবে তারা আসবে, না আসলে নাই। এছাড়া ক্রিকেটাররা পাঁচ হাজার টাকা পারিশ্রমিক বাড়ানোর জন্য খেলা বন্ধ করে দেবে বিশ্বাস করতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন পাপন।
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আয়ের একটা ফিরিস্তিও দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। জাতীয় দলকে ২৪ কোটি টাকা বোনাস দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের আয় কত জানেন? যদিও ক্রিকেটারদের অধিকাংশ দফাই ঘরোয়া লিগ এবং ঘরোয়া লিগ কেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো নিয়ে। তবে ক্রিকেটাররা সবচেয়ে বেশি মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজনের ব্যক্তিগত বিষয়কে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করায়।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, শুধু আর্থিক সুযোগ-সুবিধাই নয়, তাকে নাকি ক্রিকেটারদের পারিবারিক সমস্যাও সমাধান করতে হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইমরুল কায়েসের পুত্রসন্তানের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের ভিসা দ্রুত করে দেওয়া, বিমানবন্দরে ভিআইপি টার্মিনাল ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দেওয়া, মুশফিকের মামার জমি উদ্ধার, মিরাজের খালার সমস্যার কথা তুলে ধরেন নাজমুল হাসান।
কিছুটা ব্যঙ্গ করেই বিসিবি সভাপতি বলেন, 'কার ভাইকে এসপি-ডিসি মেরেছে, রাতে সেই এসপিতে ফোন দিয়ে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। এক খেলোয়াড়কে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বলছে, মেরে ফেলবে। বিদেশ থেকে এসব থামাতে হয়। কার মামার জমি দখল করে নিয়ে গেছে উত্তরায়, সেটি উদ্ধার করতে হয়েছে। মুশফিকের বাবা, মিরাজের খালা কোন গ্রামে কাকে মেরেছে, সেটার সমাধান আমাকে করতে হয় বিদেশ থেকে।' বিসিবি সভাপতি এসব নিয়ে এভাবে কথা বলায় ক্রিকেটারদের অনেকেই হতবাক হয়ে গেছেন। এর পরও ক্রিকেটাররা আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক আছেন বলেই জানা গেছে।
