ধর্মঘট নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলেন ডমিঙ্গোও
ছবি: ফাইল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ০১:১৮
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বৃহস্পতিবার ঢাকা আসার কথা কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর। মিরপুরে শুক্রবার শুরু হওয়ার কথা ভারত সফরের ক্যাম্প। সমকালের সঙ্গে যোগাযোগে জোহানেসবার্গ থেকেই কোচ শুধু জানতে চাইছেন- কী অবস্থা চলছে এখন মিরপুরে? ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়নি- ঢাকার বিমানে ওঠার আগে এমনটাই শুনেছেন তিনি। অপেক্ষায় আছেন কবে ভাঙবে এ ধর্মঘট।
বুধবার মিরপুরে এসেছিলেন ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারানেও। ক্রিকেটারবিহীন সুনসান মিরপুরে কিছুক্ষণ অবস্থান করে তিনিও চলে যান- 'অপেক্ষা করছি ভালো কোনো খবরের জন্য।' রাতে মারিও নিশ্চয় সুখবরটি শুনেই ঘুমাতে গিয়েছিলেন। শুক্রবার থেকেই যে আবার আগের মতো ক্রিকেটারদের পাবেন তিনি।
তবে গল্পের শেষে এসে 'নটে গাছটি মুড়োলে'ও সারাদিনে টেনশন কিন্তু কম ছিল না। আগের দিন এক ঘণ্টা ছত্রিশ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে কিছু ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত ব্যাপার তুলে এনেছিলেন বিসিবি সভাপতি। হুমকির সুরে জানিয়েছিলেন, ক্রিকেটারদের মধ্যে দু-একজন ষড়যন্ত্রের ব্যাপারটি জানেন। নাজমুল হাসানের ওই আগ্রাসী ভঙ্গিতে কথা বলার ধরন মেনে নিতে পারেননি অনেক ক্রিকেটার। তবে গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে আসার পর সুর নরম করেছেন নাজমুল হাসান পাপন। বলেছেন, 'আমরা খেলোয়াড়দের সব দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরও ফোন ধরছে না। আমরা বলেছি সব দাবি মানার মতো, এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ওরা কোনো যোগাযোগ করছে না। তাহলে করবটা কী বলুন?'
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে কী কথা হয়েছে সেটাও জানান পাপন। 'প্রধানমন্ত্রী তো সবই জানেন। গত পরশুও তার সঙ্গে ছিলাম। কাল সকালে মাশরাফি এসেছিল। এখন আমি তাকে (প্রধানমন্ত্রীকে) আপডেটটা জানাতে এলাম।' এ মুহূর্তে বিসিবির প্রথম চিন্তা ভারত সফর। পাপন মনে করছেন, ক্রিকেটারদের আন্দোলনের কারণে যদি সফরটা মিস হয়ে যায়, তাহলে অনেক ক্ষতি হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের। 'ওরা কি এ জিনিসটা বোঝে না যে, এই ট্যুরটায় গেলাম না, তাতে কী হবে? বাংলাদেশ যদি স্যাংশনে পড়ে। খেলা বন্ধ হয় এক বছরের জন্য, তাতে খেলোয়াড়দের কী লাভ? জিনিসটা তো খেলোয়াড়দের আগে বুঝতে হবে। আমি তো বলেইছি, তাদের এমন কোনো দাবি নেই যেটা মানা যাবে না। দাবি নিয়ে এলেই পুরো ব্যাপারটা সঙ্গে সঙ্গে শেষ। ওদের তো আসতে হবে।'
এরপর মিরপুরের বিসিবি কার্যালয়ে অপেক্ষা করেছিলেন তিনি। দুপুর পর্যন্ত বিসিবি কর্তারাও আশাবাদী ছিলেন, ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হয়ে কেউ আসবেন সেখানে। কিন্তু সেই অপেক্ষা গড়ায় রাত ৯টা অবধি। গুলশানে এক আইনজীবীর মুখ দিয়ে '১৩ দফা' ঘোষণা করে এবং বিসিবিতে ই-মেইল পাঠিয়ে তবে মিরপুরের বিসিবি কার্যালয়ে আসেন সাকিবরা। মানে প্রায় একশ' ক্রিকেটার! প্রায় দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয় বিসিবির বোর্ড রুমে।
সেখানেই সাকিবকে পাশে বসিয়ে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, 'সব মিলিয়ে আলোচনা আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে, হয়তো শুরুতে ওদের কাছে তা মনে হয়নি। কারণ আমি কিছুটা রাগই করেছিলাম, তবে এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। ওদের কিছু সমস্যার কথা প্রথম শুনলাম, যা আমি আগে জানতাম না। কিছু প্রথম বিভাগের ক্রিকেটার এসেছে এখানে। ওদের অনেক সমস্যার কথা শুনলাম, ওদেরকে আশ্বস্ত করেছি একেক করে সব ঠিক করে দেবো। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। পারিশ্রমিক, যাতায়াত ভাতাসহ যা ছিল সব বাড়ানো হবে। এসব ব্যাপারে কোনো কাপর্ণ্য করব না।'
- বিষয় :
- খেলা
- ক্রিকেট
- বাংলাদেশ
- ক্রিকেটারদের ধর্মঘট
- ডমিঙ্গো
