ঘুমের মধ্যেও তামিমের কাছে মার খান মাশরাফি!
ছবি: ফাইল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২০ | ০৩:৪১
বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক তামিম ইকবাল এবং সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার অনলাইন লাইভে আলাপই শুরু হলো ঠাট্টা দিয়ে। মাশরাফি প্রযুক্তির দিক থেকে বেশি এক্সপার্ট বলে লাইভে আসতে তাদের আধ ঘণ্টার মতো দেরি হলো বলে জানান তামিম। অভিযোগ স্বীকার করে নিলেন মাশরাফিও। জানিয়ে দিলেন, এতটাই এক্সপার্ট যে, দুটো মোবাইলে তিনি ক্যামেরা চালু করতে পারেননি। একটা মোবাইল তাই ধার করে নিয়ে লাইভে এসেছেন।
তাদের লাইভ ওই আলাপে উঠে আসে ক্রিকেটের নানান দিক। দু'জন বেশ মজাও করেন। মাশরাফি বিট্রিশ আমলের ফোন ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ তামিমের। তবে মাশরাফি তার আইফোনটা দেখিয়ে দেন। তামিম সাবেক অধিনায়ককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ভাই জানি না, আপনার সঙ্গে বেয়াদবি করছি কি-না। কিন্তু আপনি যা বলেন তাই খেটে যায়। আপনি বাথরুমে লিখে দিয়েছেন, আমি ছয় মাস পরে সেঞ্চুরি পাবো। তামিমের কথা শেষ না হতেই মাশরাফি বলেন, সেঞ্চুরি পাইছিস ছয় মাস তিন দিন পরে।
পরক্ষেণেই তামিম প্রশ্ন করেন, ভাই আমার সঙ্গে এমন করেন কেন। মাশরাফি এবার হেসে দেন, 'তোর সঙ্গে মতের অমিল আমার যতো হইছে। কিন্তু তারপরও আমরা ভালো বন্ধু। যাই বলি, মন থেকে বলি। দলের জন্য হলেও আমি সবসময় চেয়েছি তুই অনেক রান কর। আর ওগুলো ফাজলামি। তোর সঙ্গে হয়ে যায়। তবে এরপরে তুই দেখিস, অনেক রান করবি।' কারণটাও জানিয়ে দেন মাশরাফি, নেতৃত্ব তামিমকে আরও ভালো ব্যাটসম্যান করে তুলবে।
তামিম এবার পরের অভিযোগে যান, ভাই আপনি যে আমার কাছ থেকে ব্লাকমেইল করে ব্যাটগুলো নেন। বলেন ব্যাট দিলেই সেঞ্চুরি করবি। রান করবি। এর কারণ কী। শেষ সিরিজেও আমি আপনাকে ব্যাট দেওয়ার জন্য সেঞ্চুরি করছি। কারণটা কী ভাই। মাশরাফি উত্তরে বলেন, 'একটা ব্যাটের দাম ৫০ হাজার টাকা। আমি ভাবি, এতো টাকা দিয়ে ব্যাট কেনার দরকারটা কী। আর তামিম আমি তোর ব্যাট দিয়ে ছাড়া খেলতে পারি না। আমি সিক (অসুস্থ) হয়ে গেছি।'
মাশরাফির শেষ নেতৃত্বের ম্যাচের কথা স্মরণ করে তামিম বলেন, 'ভাই আপনকে কাঁধে নিয়েই আমি আর দাঁড়াতে পারছিলাম না। চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম, ক্যামেরার সামনে লজ্জায় পড়ে যায় কি-না। অবশ্য দাঁড়ানোর পরে ঠিক হয়ে গিয়েছিল। তবে আমি আপনার ভার নিতে পেরে গর্বিত।' মাশরাফি ধন্যবাদ জানান তামিমকে। বলেন, তোকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য বলেছিলাম। কাঁধে নিয়ে পড়ে গিয়ে আবার তোর ইনজুরি না হয়।
এরপর ম্যাশকে খোঁচা দিয়ে তামিম বলেন, এটা মজার কথা না। একশ' ভাগ সত্যি। ভাবি আমাকে বলেছে, আপনি না-কি ঘুমের মধ্যে তামিম-তামিম করে চিৎকার দিয়ে ওঠেন। কারণ ঘরোয়া ক্রিকেটে আমি আপনার বলে এতো পিটাইছি। শেষে ভাবলাম, দু'একবার আপনার বলে আউট হয়ে যায়, সেজন্য দু' একবার মনে হয় আউট করতে পারছেন।
মাশরাফিও মজার জবাব দেন তামিমের কথার, 'দেখ, তোর ক্যারিয়ার দাঁড় করানোর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার। যখন দেখলাম তুই এমনি রান করিস না, তোকে তো রান করার সুযোগ দিতে হবে। তোর সে সামর্থ আছে। তুই সৈয়দ রাসেলের বলেও রান করিস না, যে কি-না ১২০ গতিতে বল করে। আউট হয়ে যায়। সেজন্য তোকে সুযোগ দিলাম। কিন্তু তুই মারতে মারতে এমন পর্যায়ে গেলি, সেজন্য তোকে শেষে বলে কয়ে তিনবার আউট করলাম। বুঝিয়ে দিলাম, বাচ্চা বাচ্চাই থাকো।' তামিম জানিয়ে দেন, সামনের বিপিএলে যদি দু'জন আলাদা দলে খেলেন তবে মাশরাফিকে দেখিয়ে দেবেন।
- বিষয় :
- মাশরাফি
- তামিম
- লাইভ আলোচনা
- করোনা
- খেলা