ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকার

বাবার প্রেরণায় আজ ক্রিকেটার 

বাবার প্রেরণায় আজ ক্রিকেটার 
×

বিপিএলে ফরচুন বরিশালে প্রোটিয়া ব্যাটার কেশব মহারাজ।

সেকান্দার আলী, চট্টগ্রাম থেকে

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১০:১১ | আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১০:২৯

ড্রেসিংরুম থেকে সংবাদ সম্মেলন কক্ষের দূরত্ব বড় জোর ২০০ মিটার। যাওয়া-আসায় ১০ মিনিটের পথ। এই সময়টুকুতে না বলা কত কথাই না শোনালেন কেশব মহারাজ। পারিবারিক পরিবেশ, ক্রিকেট ক্যারিয়ার এবং দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে কথার ঝাঁপি খুলে দিয়েছিলেন তিনি। কথা বলার আন্তরিকতায় খুব আপন মনে হবে তাঁকে। জন্মসূত্রে দক্ষিণ আফ্রিকান আর স্বভাবে ভারতীয় কেশব কথার জাদু দিয়ে শ্রোতাকে আটকে রাখতে জানেন। বিপিএলের দল ফরচুন বরিশালে খেলা দক্ষিণ আফ্রিকান স্পিনার কেশবের গল্প শুনেছেন সেকান্দার আলী

সমকাল: বাংলাদেশে তো আগেও ক্রিকেট খেলেছেন। সেই ২০১০ সালের কথা মনে আছে?

কেশব: অবশ্যই। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের সফর ছিল। তখন নতুন দেশে জয় করার চ্যালেঞ্জ ছিল। বোলিং ভালো করতে দেখিয়ে দেওয়ার একটা ব্যাপার কাজ করেছে। বোধ হয় বোলিং ভালোই হয়েছিল (হাসি)। চার দিনের দুটি ম্যাচ খেলে ১৩ উইকেট নিয়েছিলাম।

সমকাল: তখন তো আপনার সম্পর্কে তেমন কেউ জানতেন না। এখন তো এ দেশেও পরিচিত... 

কেশব: হ্যাঁ, এখন মানুষ চিনে ফেলে। অনেকে সেলফি তোলে। আমার ভালো লাগে। সবাই আন্তরিক। জাতীয় দলে খেলার কারণে মানুষ চেনে।

সমকাল: জাতীয় দল নিয়ে তাহলে একটা প্রশ্ন করি– বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো খেলার রহস্য কী?

কেশব: কোনো রহস্য নেই। শুধু ভালো খেলার চেষ্টা করি। কখনও সফল হই, কখনও হই না। বাংলাদেশের বিপক্ষে আমার রেকর্ড ভালো। দেশের মাটিতে দুটি টেস্ট সিরিজ খেলেছি। ২০১৭ সালে তেমন ভালো করতে পারিনি। প্রথম টেস্টে সাত উইকেট পেয়েছিলাম। ২০২২ সালের সিরিজটা খুব ভালো গেছে। ডারবানে নিজের মানুষদের সামনে বোলিং করে দলকে জেতাতে পারা দারুণ অভিজ্ঞতা। আমার পরিবার গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছিলাম। পরের টেস্টেও ছন্দটা ধরে রাখতে পেরেছিলাম। দুই ম্যাচে ম্যাচসেরা, সিরিজসেরার পুরস্কার উজ্জীবিত করে। নিজের আত্মপ্রকাশের জন্য এর থেকে ভালো মঞ্চ হতে পারে না। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই সিরিজটি জীবনভর মনে থাকবে।

সমকাল: ওই রকম পারফরম্যান্সের পর আপনার বাবা কী বলেছিলেন?

কেশব: খুব খুশি হয়েছিলেন। বাবা আমার প্রেরণা। তিনি উইকেটরক্ষক ব্যাটার ছিলেন। কাওয়াজুলু নাটালে খেলেছেন বাবা। আমারও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক নাটালে। বাবা আমার প্রেরণা। তাঁর কাছ থেকেই এই খেলায় আগ্রহী হয়েছি।

সমকাল: দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে ভারত ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে?

কেশব: অবশ্যই। ডারবানে প্রচুর ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। জোহানেসবার্গ, কেপটাউনে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতরা থাকে। সেটেলারদের সন্তানরা ক্রিকেট খেলে। যদিও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো ক্রিকেটার এখনও দেখিনি। আশা করি সামনে হবে।

সমকাল: এ বছর তো দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশে আসবে। বিপিএলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার পরিকল্পনা নেই তো?

কেশব: হাসি..। দুটি ভিন্ন খেলা। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে টি২০ খেলছি। একটা ভালো অভিজ্ঞতা হচ্ছে। চট্টগ্রামের উইকেট ভালো। মিরপুরে খেললে বুঝতে পারব কেমন। তবে আমার মনে হয়, আগে যে রকম উইকেটে খেলেছি, সে রকমই হবে।

সমকাল: বিপিএলে কেমন লাগছে?

কেশব: খুবই ভালো। সবাই খুব আন্তরিক। আমার তো খুলনার সঙ্গে কথা হয়েছিল। কিন্তু এজেন্ট কথা ফাইনাল করেছে বরিশালের সঙ্গে। পরে তামিম ভাই ফোন করে বললেন– তুমি বরিশালে খেলবে, চলে আস। এর পর আর কোনো দিকে তাকাইনি। তামিমের মতো ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলতে পেরে ভালো লাগছে। বরিশাল দলটি খুবই ভালো।

সমকাল: ক্রিকেট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, পরিবার সম্পর্কে জানতে চাই?

কেশব: আমার পরদাদা গিয়েছিলেন ডারবানে কাজ করতে। সেখানেই পাকাপাকি থেকে গেলেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন তিন প্রজন্মের বাস। আমরা দক্ষিণ আফ্রিকান হলেও ভারতীয় সংস্কৃতিটা কিন্তু রয়ে গেছে।

সমকাল: হিন্দি বলতে পারেন?

কেশব: অল্প অল্প। বাড়িতে নিজেদের মধ্যে একটু একটু হিন্দিতে কথা হয়।

সমকাল: আপনার পূর্বপুরুষ তো ভারতের উত্তর প্রদেশের সুলতানপুরের। সেখানে কখনও গিয়েছিলেন?

কেশব: না, কখনও যাওয়া হয়নি। তবে অনেক গল্প শুনেছি।

আরও পড়ুন

×