কোচ-অধিনায়ক উপেক্ষিত
বাবুর হাতে ট্রফি কেন?
ছবি- বাফুফে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৪ | ০৯:২১
সেই কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে যে ট্রফি হাতে নিয়েছেন তিনি, সেটা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ছিল। সোমবার বিমানবন্দরের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে অনূর্ধ্ব-১৬ নারী সাফের শিরোপা জেতা বাংলাদেশ দলকে যখন বাফুফের কর্তারা ফুল দিয়ে বরণ করছেন, তখনও সোনায় মোড়ানো ট্রফিটা ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবুর হাতে। বিমানবন্দরে যাওয়া সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ট্রফি হাতে মেয়েদের দেখতে চাইলেও, নিজের কোলেই ট্রফি রাখেন বাবু।
গতকাল বাফুফের পাঠানো ছবিতেও ছিল বাবুর সরব উপস্থিতি। যারা দেশকে সাফল্য এনে দিয়েছেন, সেই সুরভী-ইয়ারজানরা ছিলেন উপেক্ষিত। বিশ্ব ফুটবলে কোনো দল ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরলে ট্রফি থাকে অধিনায়ক, কোচ কিংবা খেলোয়াড়দের হাতে। কিন্তু বাংলাদেশে হলো ব্যতিক্রম। এখানে লাইমলাইটে থাকার জন্য বাবুর মতো একজন ম্যানেজার আছেন, যিনি কিনা সব জায়গাতেই নিজের উপস্থিতি দেখতে চান। হিমালয়ের দেশে শিরোপা জেতা ট্রফি তাঁর হাতে থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সব জায়গাতে সমালোচনা হচ্ছে। সবারই একটা প্রশ্ন– ম্যানেজার বাবুর হাতেই শুধু ট্রফি কেন।
বিমানবন্দরে ট্রফি নিয়ে এবারই প্রথম এমন কাণ্ড করেননি নারী ফুটবল দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু। কয়েক বছর আগে একটা টুর্নামেন্ট খেলে ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে এক নারী ফুটবলারকে কোলে নিয়ে বসেন তিনি; যা দেখে সবাই বিস্মিত হয়েছিলেন। আর ঢাকায় ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৮ প্রতিযোগিতায় শিরোপা জেতার পর এ নারী ফুটবলারকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।
দলের একজন লজিস্টিক ম্যানেজারের কাজ ট্রাভেল ও হোটেল বুকিং নিশ্চিত করা, সেখানে কোনোভাবেই তিনি টেকনিক্যাল ম্যান নন। কোচিং স্টাফেরও সদস্য নন। অথচ ম্যাচের আগে-পরে মিডিয়ার সামনে তাকেই বেশি কথা বলতে দেখা যায়। সংবাদ সম্মেলনে কোচ ও অধিনায়কের মাঝের চেয়ারে বসে থাকেন তিনি। অনুযোগ আছে, সংবাদ সম্মেলন কিংবা মিডিয়া ব্রিফিংয়ের পর তাঁকে ফোকাস করার জন্য চেনা সাংবাদিকদের বিশেষ অনুরোধ করেন।
বাবুর এমন কাণ্ডে বাফুফের ভেতরে অনেকেই বিব্রত। তারা কিছু বলতে পারেন না, বাবু নাকি মেয়েদের ফুটবলে অনেক অর্থ লগ্নি করেন। যদিও কেমন অর্থ দেন, সেটা অনেকের কাছেই অজানা। এই বিষয়গুলো জানতে চাইলে হাস্যকর উত্তর দিয়েছেন আমিরুল ইসলাম বাবু, ‘ট্রফির ওজনটা তো দেখতে হবে আপনাকে। মেয়েরা ভারী ট্রফিটা নিতে পারবে না বলেই তো আমি সেটা বহন করেছি।’ কিন্তু পুরস্কার মঞ্চে তো মেয়েরা ট্রফি হাতে নিয়েছে। ‘সেখানেও ট্রফি ধরতে আমি তাদের সহযোগিতা করেছি।’ তাহলে ট্রফির ওজন কত? এর উত্তরে বাবু, ‘আমি ওজন করি নাই। অনুমান করেও বলতে পারব না। ২০০৩ সালে ম্যানেজার হওয়ার পর থেকে কত ট্রফি জিতেছি! এটা কি সবাই ভুলে গেছে?’
- বিষয় :
- সাফ অনূর্ধ্ব–১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ