হকির হাল-হকিকত
বিদ্যুৎ বিল বাঁচাতে ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি!
প্রিমিয়ার হকি লিগের ম্যাচ। ছবি: ফাইল
সাখাওয়াত হোসেন জয়
প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৪ | ১২:৩৮ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৪ | ১২:৫২
রমজান হওয়ায় বিকেলের ম্যাচে ফেডারেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা আর দু’দলের খেলোয়াড়-কর্মকর্তা ছাড়া খুব বেশি লোক মাঠে থাকেন না। আর খুব বড় ম্যাচ না হলে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিও থাকে না কিংবা থাকলেও হাতেগোনা কয়েকজন। এই সুযোগেই যত অনিয়ম হচ্ছে দেশের হকির সর্বোচ্চ আসর প্রিমিয়ার বিভাগে।
শিরোপা লড়াই থেকে দূরে থাকা ছোট দলগুলো রেলিগেশন এড়ানোর জন্য সমঝোতায় ম্যাচ খেলে থাকে। যেমনটি খেলার অভিযোগ উঠেছে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব ও বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যকার ম্যাচে। গত ১৫ মার্চ শেষ কোয়ার্টারের পুরোটা না খেলেই ২-২ গোলের ড্র মেনে নিয়ে মাঠ ছাড়ে আজাদ ও বাংলাদেশ স্পোর্টিং।
সেদিন উপস্থিত ম্যাচ-সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চতুর্থ কোয়ার্টারের খেলাই হয়নি। ইফতারের সময় হওয়ায় এবং দু’দলের ৯ খেলোয়াড় রোজা থাকায় আগেই খেলা শেষের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। অথচ ইফতারের পর ফ্লাডলাইটের আলোতে খেলা শেষ করা যেত; কিন্তু সেই পথে হাঁটেননি কেউই।
এর পেছনে অন্যতম কারণ বিদ্যুৎ বিল। আর বিদ্যুৎ বিল বাঁচাতে ফ্লাডলাইটের আলোতে খেলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন হকি ফেডারেশনের কর্তারা। যদিও লিগ কমিটির সম্পাদক খাজা তাহের লতিফ মুন্নার দাবি ফ্লাডলাইটের অপারেটর ছিলেন না সেদিন।
মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট বসানো হয় ২০১৭ সালে। নিয়মিত খেলা না হলেও যখনই কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হয়, তখন ফ্লাডলাইটের আলোতে প্রস্তুতি নেন খেলোয়াড়রা। এ কারণে বিদ্যুৎ বিলও বকেয়া ছিল অনেক। একটি সূত্র জানিয়েছে অতীতে ভারতে কোনো একটি টুর্নামেন্ট খেলার জন্য ভিসা করতে গিয়ে বেকায়দায় পড়তে হয়েছিল জাতীয় হকি দলকে। ভিসা জমা দেওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের কপি দেননি ফেডারেশনের কর্তারা। সেই সময় স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎ বিল বাবদ নাকি ৮৪ লাখ টাকা বকেয়া ছিল বলেই বিদ্যুৎ বিলের কপি জমা দেওয়া হয়নি।
শেষ পর্যন্ত টাকা পরিশোধ করে বিদ্যুৎ বিলের কপি জমা দিতে হয়েছিল ভারতীয় ভিসা সেন্টারে। এর পরই ভিসা পেয়েছিলেন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই কিনা ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে খেলা চালানোর পথে হাঁটেনি ফেডারেশন। যদিও ফেডারেশনের লিগ কমিটির সম্পাদক মুন্নার দাবি অন্য, ‘সেদিন দু’দলের খেলোয়াড় মিলে ৯ জন রোজা ছিলেন। ইফতারের সময় হওয়াতে উভয় দলের কর্মকর্তারা বলেছেন যে ড্র মেনে তারা খেলা শেষ করতে চান। তখন আমি বলেছি, পরদিন সকাল ৯টায় খেলার বাকি পাঁচ মিনিট রাখতে। কিন্তু তারা এই কম সময়ের জন্য মাঠে এসে খেলতে রাজি হননি। লিখিত আকারে বিষয়টি আমাদের অবহিত করেছেন।’
চাইলে সেদিনই তো খেলা শেষ করা যেত। কারণ ফ্লাডলাইট তো ছিল। ‘ফ্লাডলাইট চালানোর অপারেটর থাকার কথা ছিল, সে ছিল না। সে জন্য সেদিন আর ফ্লাডলাইট চালু করা সম্ভব হয়নি।’ তাই বলে একটা ম্যাচ সম্পূর্ণ করা ছাড়া দুই দলকে পয়েন্ট দেওয়া যায়? ‘আমরা কী করব। দুটি ক্লাবকে তো বুঝিয়েছি। আর আম্পায়াররাও তো সায় দিয়েছেন। তাই এটা নিয়ে করার কিছু ছিল না।’
প্রিমিয়ার হকির এবারের আসরে প্রতিটি ম্যাচই নির্দিষ্ট সময়ের অনেক দেরিতে শুরু হচ্ছে। দুপুর সোয়া ১টার খেলা ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর শুরু হচ্ছে। বিকেল সোয়া ৩টার খেলার অবস্থাও একই। গতকাল যেমন আবাহনী-অ্যাজাক্সের ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল সোয়া ১টায়। শুক্রবার জুমার নামাজের কারণে সেই ম্যাচ শুরু হয়েছে আড়াইটায়। একেক দিন একেক অজুহাতে দেরিতে খেলা শুরু করাকে যেন নিয়মের মধ্যে বানিয়ে ফেলেছেন হকি ফেডারেশনের কর্তারা।
এ জন্য নিজেদের দায় না দিয়ে ক্লাবগুলোকে দোষারোপ করেছেন মুন্না, ‘এই দেখেন আজকের (শুক্রবার) ম্যাচে তারা কত দেরিতে করেছে। আম্পায়াররা গড়িমসি করেন। আমি বলেছি, দু’দলের প্লেয়ারকে কার্ড দেখাতে। এভাবে তো হয় না। আমরা আর কত চেষ্টা করব।’
এর সঙ্গে আছে গোল নিয়ে ঝামেলা। অফিসিয়ালি সোহানুর রহমান সবুজের গোল দেখানো হয়েছে ১৭টি। তবে মেরিনার্সের এই খেলোয়াড়ের দাবি তাঁর গোলসংখ্যা ১৯টি। এমনও অভিযোগ আছে, গোল করেছেন একজন, কিন্তু স্কোরশিটে নাম লেখা আরেকজনের। এই বিষয়টি নাকি এখনও অবগত হননি লিগ কমিটির চেয়ারম্যান, ‘এমন অভিযোগ আমরা এখনও অফিসিয়ালি পাইনি। যদি পেয়ে থাকি, তখন দেখা যাবে। আর মাঠের আম্পায়াররা যে সিট দেয়, আমরা সেটা দেখেই গোলদাতার নাম লিখি।’
- বিষয় :
- প্রিমিয়ার লিগ হকি
