ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকারে ফর্টিস এফসির সভাপতি

ক্লাবগুলোতে করপোরেটের আসা উচিত

ক্লাবগুলোতে করপোরেটের আসা উচিত
×

ছবি- সমকাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৪ | ১৪:১১ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৪ | ১৪:৩০

ফর্টিস ফুটবল ক্লাবের খেলোয়াড়-কোচিং স্টাফদের আবাসস্থলটিতে আধুনিকতার ছোঁয়া। ক্লাব ভবন থেকে ৫ মিনিট হাঁটার দূরত্বে অবস্থিত ফর্টিস এফসি গ্রাউন্ড। পাশেই আছে চোখ ধাঁধানো রিসোর্ট; যেখানে দর্শনার্থীর ভিড় লেগেই থাকে। তিন মৌসুম ধরে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে খেলা ফর্টিস এফসির ফুটবলে আসা ও স্বপ্ন নিয়ে ক্লাবটির সভাপতি মো. শাহীন হাসান কথা বলেছেন সমকালের সঙ্গে।

সমকাল: দেশের ফুটবলের সেই সুদিন এখন আর নেই। তার পরও কেন ফুটবলে আসা ফর্টিস এফসির?
শাহীন:
ফুটবল আমাদের রক্তে মিশে আছে। আমরা খেলাটাকে হৃদয়ে ধারণ করে আছি। আমাদের কর্ণধার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ফর্টিসের) শাহাদাত ভাই। তিনি ফুটবলকে অনেক ভালোবাসেন। নিজেরা ফুটবল খেলার জন্য এখানে (ফর্টিস) একটা ছোট্ট মাঠ করি। 

সমকাল: ফর্টিসের গ্রাউন্ড করার পরই কি ফুটবলে আসার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন?
শাহীন:
ফুটবল নিয়ে আমাদের অনেক আগে থেকেই স্বপ্ন ছিল। এখানে (ফর্টিস) একাডেমি করার উদ্দেশ্যই হলো নতুন নতুন খেলোয়াড় বের করে আনা। যে রকম বার্সেলোনা নিজের লা মাসিয়া একাডেমিতে ফুটবলার তৈরি করে। একাডেমি থেকে বের হয়ে অনেক ফুটবলার কিন্তু বার্সার মূল দলে খেলে আসছে।

সমকাল: একাডেমি থেকে ফুটবলার তৈরি করার প্রক্রিয়াটা কতদূর পর্যন্ত গড়িয়েছে?
শাহীন:
আমাদের তো পরিসর ছোট। আপনাকে ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতে হবে। আমাদের একাডেমিতে ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী পর্যন্ত ফুটবলার আছে। মূল দলের সঙ্গে ১৭-১৮ বছরের যারা আছে, তাদের আমরা বিসিএল খেলিয়েছি। সেখান থেকে বিভিন্ন টিমে খেলিয়েছি। একাডেমিতে বেড়ে ওঠা ছয় ফুটবলার আমাদের ক্লাবের হয়ে এবারের বিপিএলে খেলতে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে আমরা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করি এবং ট্রেনিংটাও হয় দীর্ঘমেয়াদি। উদ্দেশ্যই হলো প্লেয়ার তৈরি করা। এ বছর বিপিএলে চলে আসছে ছয়জন, পরের বছর হয়তো আরও চারজন আসবে।

সমকাল: বিশ্বব্যাপী ফুটবল বাণিজ্যিকীকরণ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা আদৌ সম্ভব কিনা?
শাহীন:
অবশ্যই সম্ভব। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে দেশে আপনি ফুটবল কখনও টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। একঘেয়েমি কখনও ভালো লাগে না। আপনি নিজের পকেট থেকে প্রতি বছর ৫ কোটি টাকা খরচ করলেন; কোনো লাভ হলো না। যদি আপনি ফুটবলকে ব্যবসা হিসেবে নেন, তাহলে দলটা ভালো করতে পারবে। যেমন আমাদের ছোট্ট একটা একাডেমি আছে, যেখানে প্রতিজনের কাছ থেকে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা করে নিই। যারা সুবিধাবঞ্চিত আছে; যেমন কড়াইল থেকে আসে, তাদের আমরা বিনা টাকায় ট্রেনিং করাই। আমরা বাণিজ্য করে এখান (একাডেমি) থেকে একটা টাকা নিচ্ছি। এই টাকা আসছে বলে আমি কোচের খরচ দিতে পারছি। আর আমাদের দেশে সেভাবে ফুটবলারদের জার্সি বিক্রি হয় না বলে এখান থেকে ক্লাবগুলো আয়ও করতে পারে না। যেমন হামজা চৌধুরীর মতো ফুটবলার বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আসার আগেই তাকে নিয়ে একটা হাইপ উঠেছে। শুধু ফ্যাশনে ফুটবল চলবে না, ব্যবসা হিসেবে নিতে হবে। আমাদের একাডেমির ফুটবলারদের বিক্রি করি বা না করি, সেটা কোনো বিষয় নয়। অন্য ফুটবলারদের নিতে হলে আমাকে প্রতিবছর খরচ করতে হবে ৫ কোটি টাকা। এখন নিজের ফুটবলার হওয়াতে দুই কোটিতেই দল গোছানো সম্ভব।

সমকাল: ফর্টিস ফুটবলের মতো অনেক ক্লাবেরই এমন অবকাঠামো নেই। এর পেছনে কারণ কী?
শাহীন:
অন্যান্য ক্লাবের ভালো অবকাঠামো না থাকার জন্য ক্লাবের দোষ নেই। দু-তিনটা ছাড়া আমাদের দেশের ক্লাবগুলোর বেশির ভাগই চলে ব্যক্তি ডোনেশনের মাধ্যমে। সব সময় ডোনেশন করা সম্ভবও হচ্ছে না। এসব ক্লাবকে যদি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাহলে অবশ্যই আবাসন থেকে শুরু করে ক্লাবগুলোর অবস্থা ভালো হবে।

আরও পড়ুন

×