জাকের-শামীমে ফিনিশিংয়ে আস্থা
সেকান্দার আলী, কলম্বো, শ্রীলঙ্কা থেকে
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫ | ১০:৩৮
কম বলে বেশি রান এবং বিস্ফোরক ইনিংস খেলা– টি২০ ক্রিকেটের ব্যাটিং রসায়ন অনেকটা এভাবে চিন্তা করা হয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এই কৌশলের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পেরেছেন, সে দাবি করা লোক খুব কমই আছে। এই বাস্তবতা মেনেই গেম প্ল্যান ঠিক করেন কোচ ফিল সিমন্স। আজ সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে হয়তো সেভাবেই চিন্তা করতে হচ্ছে কোচকে। এ প্রথা থেকে বের হতে না পারলে টি২০ ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিকতা রাখা কঠিন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি জিততে হলে ব্যাটারদের ইমপ্যাক্ট ইনিংস খেলা জরুরি। সেখানে মিডলঅর্ডারে চার ও পাঁচ নম্বরে তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজকে কি পরিবর্তন করা হবে? শামীম হোসেন পাটোয়ারী বা জাকের আলীকে আরেকটু সময় দেওয়া হবে ব্যাট চালানোর জন্য?
দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের ইঙ্গিত অবশ্য পরিবর্তন না করার। ‘মিডলঅর্ডার ক্লিক করলে আমরা হয়তো ভালো খেলতে পারব। তবে এই মুহূর্তে খুব বেশি পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। বাইরে বিকল্পও নেই। আমি আশা করব, জাকের ও শামীম গেম শেষ করবে।’
পাওয়ার হিটিং করতে পারা এ দুই ব্যাটারকে মিডলঅর্ডারে নির্ধারণ করে দিচ্ছেন কোচ। অথচ টি২০ ম্যাচে ব্যাটিং অর্ডার খুব বেশি নির্ধারিত থাকে না। ওপেনিং জুটি ১০ ওভারে টিকে গেলে একাদশ ওভার থেকে শামীমের ব্যাট করার পক্ষে হাবিবুল বাশার। কারণ তিনি মাঠের চারদিকে সব ধরনের শট খেলতে পারেন। অধিনায়ক লিটন তিন নম্বরে খেলায় চারে ব্যাট করেন তাওহীদ হৃদয়। তিনি আগের মতো স্বভাবসুলভ ব্যাটিং করছেন না, যে কারণে ধরে খেলার একটা প্রবণতা দেখা যায় তাঁর মধ্যে। গত ম্যাচে ২৫ বলে ৩১ রান করা মিডলঅর্ডার এ ব্যাটারের কাছ থেকে স্পর্শকাতর একটি ইনিংস আশা করে দল।
যদিও তিনি পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করছেন বলে দাবি সালাউদ্দিনের, ‘প্রতিটি ছেলে দলের জন্য খেলে। উইকেট পড়ে গেছে ওই সময় চাইলে আক্রমণাত্মক খেলতে পারবেন না। যদিও চেষ্টা করা উচিত স্বাভাবিক খেলা খেলার। কিন্তু পরিস্থিতি সব সময় হাত খুলে খেলতে দেয় না। সে (হৃদয়) যখন তিন নম্বরে খেলত, তখন স্বাধীনভাবে খেলতে পারত। চারে নামার পর কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এগুলো নিয়ে কাজ করছি, আশা করি ঠিক হয়ে যাবে।’
প্রেমাদাসার কন্ডিশন বিবেচনায় একাদশে একটা পরিবর্তন করা হতে পারে। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের জায়গায় খেলতে পারেন তানজিম হাসান সাকিব। কারণ কাটা ঘাস ছিটিয়ে রোল করা হয়েছে পিচ। এ রকম কন্ডিশনে বোলাররা খুব বেশি সুবিধা নাও পেতে পারেন। তবে দেশের মানুষের চাওয়া থাকবে টি২০ সিরিজ জিতে দেশে ফিরবেন লিটনরা।
ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন ভালো করছেন না। ক্যান্ডির ম্যাচে ৪৬ রান করতে পারলেও ডাম্বুলায় তারা ৭ রানে আউট। এই জুটির কাছ থেকে একটি বড় ইনিংস আশা করতেই পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। তারা পাওয়ার প্লের ছয় ওভার ভালোভাবে খেলে দিতে পারলে বড় ইনিংসের ভিত তৈরি হবে। গত ম্যাচে বাংলাদেশ ১৭৭ রান করেছে ৭ উইকেটে। এই রানে যেতে তিনজন ব্যাটারের ভূমিকা ছিল। লিটন কুমার দাস মন্থর শুরু করে শেষে হাত খুলেছেন। এই স্কোয়াডে শামীম হোসেন পাটোয়ারী দারুণ ছন্দে আছেন। তাঁর ইনিংসগুলো বেশ কার্যকর। যদিও গতকাল প্রেমাদাসার অনুশীলনে ছিলেন না তিনি। চোটের কারণে প্রথম ম্যাচ খেলতে না পারা জাকের আলী গত ম্যাচে রান পাননি। প্রেমাদাসায় তাঁর কাছ থেকেও ভালো কিছু আশা করে দল।
