চ্যালেঞ্জ নিয়ে নামছেন রুট
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০ | ০১:৪০
পারিবারিক দায়িত্ব পালন শেষে জাতীয় দলে ফিরেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট। ৩২ বছর অপরাজেয় থাকার ঐতিহ্য ধরে রাখার কঠিন দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। রুট কি পারবেন ৩২ বছর দেশের মাটিতে উইন্ডিজের কাছে সিরিজ না হারার পরম্পরা ধরে রাখতে? আর করোনা বিরতির পর প্রত্যাবর্তনের টেস্টে চার উইকেটের জয় পাওয়া ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের সামনে ইতিহাস সৃষ্টির হাতছানি। দ্বিতীয় টেস্টটি জিতলেই ৩২ বছরের অচলায়তন ভাঙবেন তিনি। এমন দারুণ দুটি সমীকরণ নিয়ে আজ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শুরু হচ্ছে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।
১৯৮৮ সালের সেই গ্রীষ্ফ্মে ইংল্যান্ড দলে ছিলেন কিংবদন্তি কলিন কাউড্রে, মাইক গ্যাটিং, গ্রাহাম গুচ ও জন এম্বুরি। চার তারকা সমৃদ্ধ ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিয়ে পাঁচ টেস্টের সিরিজে ৪-০-তে জিতে নিয়েছিল ভিভ রিচার্ডসের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়কের নেতৃত্বে সেই দলের ব্যাটিং সামলেছিলেন গর্ডন গ্রিনিজ, ডেসমন্ড হেইন্স, গাস লোগিরা। আর ম্যালকম মার্শালের নেতৃত্বে পেস আক্রমণ শানিয়েছিলেন তরুণ কোর্টনি ওয়ালশ ও কার্টলি অ্যামব্রোস। সেই কিংবদন্তিদের ছোঁয়ার এক দারুণ সুযোগ জেসন হোল্ডার, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, জার্মেইন ব্ল্যাকউডদের সামনে।
দ্বিতীয় সন্তান জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য সাউদাম্পটনে খেলেননি রুট। তার বদলে স্বাগতিকদের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্বকাপ হিরো বেন স্টোকস। রুট ফেরায় স্বভাবতই ইংল্যান্ড একাদশে পরিবর্তন আসছে। জানা গেছে, কোপটা পড়ছে ফর্মে না থাকা জো ডেনলির ওপর। তবে রুট ফিরলেও তিনে ব্যাটিং করবেন না। তিনে প্রমোশন পাচ্ছেন গত টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৬ রান করা জ্যাক ক্রলি।
চারে নামবেন অধিনায়ক রুট। সাউদাম্পটনে দুই ইনিংসে অল্প রানে বাজেভাবে আউট হওয়া ডেনলিকে বাদ দেওয়ার ইঙ্গিতটা দিয়েছেন ইংলিশ কোচ ক্রিস সিলভারউড, 'আমরা সবাই মরিয়া হয়ে চাইছি জো (ডেনলি) যেন রানে ফেরে। কিন্তু সে এখন চাপের মুখে রয়েছে। আর জ্যাক (ক্রলি) ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে। আমার মনে হয়, সে পরিপকস্ফতা দেখিয়েছে এবং তার শেষ ইনিংসটি দারুণ ছিল।' তবে আরও একটি সুযোগ পাচ্ছেন জস বাটলার। আর সাউদাম্পটনে বাদ পড়ে রাগে-ক্ষোভে ফেটে পড়া পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডেও খেলনো হবে কিনা, সেটাও নিশ্চিত নয় এখনও। ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট বলছে, সাত সপ্তাহে ছয়টি টেস্ট খেলবে তারা। তাই পেস বোলারদের রোটেট করে খেলানোর পরিকল্পনা তাদের।
সাউদাম্পটনে জিতে আসা উইন্ডিজ একাদশে অবশ্য এখনও পরিবর্তনের খবর পাওয়া যায়নি। তবে গোড়ালির অস্ত্রোপচার থেকে ফিরে গত টেস্টে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের ফিটনেস নিয়ে একটু চিন্তিত ক্যারিবীয় শিবির। মাত্র তিন দিন পর দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হচ্ছে বলে তাদের এই শঙ্কা। এ ছাড়া বাকি সবাই ফিট আছেন। আর দুই রান তাড়ার নায়ক ব্ল্যাকউড তো এখনও আফসোসে মরছেন, সেদিন শেষ পর্যন্ত থাকতে পারেননি বলে। তবে ৯৫ রানে আউট হওয়া এ ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির জন্য কোনো আক্ষেপ নেই।
ম্যানচেস্টার বরাবরই ইংল্যান্ডের বিশ্বস্ত ভেন্যুগুলোর একটি। এখানে পেসার জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডের রেকর্ড বেশ ভালো। তবে এখানে বড় ভূমিকা নিতে হবে অফস্পিনার ডম বেজকে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের উইকেটে স্পিন ধরতে পারে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই মাঠ ক্যারিবীয়দেরও বেশ পরিচিত। ইংল্যান্ডে পৌঁছে এখানেই কোয়ারেন্টাইন করেছিলেন হোল্ডার-গ্যাব্রিয়েলরা। এখানে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলে গেছেন তারা। তাই লড়াইটা বেশ জমবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।