কোচিংয়ে ‘তাদের’ অপেক্ষায় বিসিবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৫ | ১৪:১৮
‘আমার পরে বাংলাদেশ দলে বিদেশি কোচ নেওয়ার প্রয়োজন দেখি না। বর্তমান সিনিয়র ক্রিকেটারদের থেকে একজনের প্রধান কোচ হওয়া উচিত।’ জাতীয় দলের সাবেক প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো মিরপুরে এক আড্ডায় এভাবেই দেশের ভেতরে আন্তর্জাতিক কোচের সন্ধান দিয়েছিলেন তিন বছর আগে। বিসিবির চাকরি হারিয়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে গেছেন ২০২২ সালের শেষ দিকে।
ডমিঙ্গো বিদায় নেওয়ার আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান বা মাশরাফি বিন মুর্তজাদের কেউই জাতীয় দলে প্রধান কোচ হতে চাননি। তবে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ নিজেদের ইচ্ছার কথা বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে জানিয়ে রেখেছেন ভবিষ্যতের জন্য। পুরোপুরি খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর কোচিং পেশায় আসতে আগ্রহী তারা। তাদের সেই অপেক্ষাতেই রয়েছে বিসিবি।
দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে আড়ালে আছেন মাশরাফি। দেশে ফেরার সাহস করছেন না সাকিব। বাকি তিন ক্রিকেটার রিয়াদ, মুশফিক, তামিম খেলা থেকে অবসর নেননি। ক্রীড়া সামগ্রীর ব্যবসায় যুক্ত হওয়া তামিমের লক্ষ্য কোচিং নয়। তিনি স্বপ্ন দেখেন বিসিবি সভাপতি হওয়ার। রিয়াদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও আরও কিছুদিন বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে চান। মুশফিক এখনও টেস্ট ক্রিকেট খেলছেন। ফলে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে পঞ্চপাণ্ডবের কাউকে পেতে হলে আরও দুই তিন বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে বিসিবিকে।
যদিও বিসিবির একজন পরিচালক মনে করেন মাহমুদউল্লাহ জাতীয় দলের সহকারী কোচ হলে বিপিএলের চেয়েও বেশি আয় করতে পারতেন। কারণ তাদের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের জন্য কোচেস কোর্স করা বড় কোনো বিষয় না। বিসিবির সাহায্য নিয়ে ক্রিকেটখেলুড়ে যে কোনো দেশ থেকেই কোর্স করতে পারবেন তারা।
পঞ্চপাণ্ডবের কেউ কোচিং পেশায় না এলেও জাতীয় দলের অনেকে কোচ হয়েছেন। তাদেরই একজন হলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। লেভেল থ্রি কোচেস কোর্স করা সাবেক এ অধিনায়ক বিপিএল-ডিপিএলে কোচ ছিলেন। এবার জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) প্রধান কোচ হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে তাঁর। বিসিবি টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান গতকাল জানান, ২০২৫ সালের এনসিএলে বরিশাল বিভাগীয় দলের কোচ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আশরাফুলকে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোচ হিসেবে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা আশরাফুল লন্ডন থেকে ফোনে সমকালকে বলেন, ‘খালেদ মাহমুদ সুজন ভাই বা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন স্যার শুধু বিপিএল, ডিপিএলের কোচিং করান। তারা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট লিগের কোচ হলে ভালো হতো। আমি যেহেতু কোচিং পেশায় থাকব, তাই এনসিএলেও কাজ করতে চাই। বিসিবিকে ধন্যবাদ সুযোগ দেওয়ায়।’
সালাউদ্দিন, সুজন মিরপুরেই লেভেল থ্রি কোচেস কোর্স করেছেন এসিসির অধীনে। গেম ডেভেলপমেন্টের তত্ত্বাবধানে এখন চলছে বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের লেভেল ওয়ান কোচেস কোর্স। এই বিভাগের প্রধান হাবিবুল বাশার জানান, সামনে লেভেল ওয়ান ও লেভেল টু কোর্স করাবেন।
তিনি বলেন, ‘অনেকে এখনও খেলছেন, তারা হয়তো দুই বছর পর খেলা ছেড়ে কোচিংয়ে আসতে চান। তারা আবেদন করেছেন। খেলা ছেড়েছেন এমন অনেকে আবেদন করেছেন কোর্স করার জন্য; যেটি ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক।’ তিনি জানান, শামসুর রহমান শুভর মতো জাতীয় দলে খেলা অনেকে কোচিং পেশায় যোগ দিলে লাভবান হবে দেশের ক্রিকেট।
