ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকারে রিজান

‘আমরা সব জায়গায় সিরিজ জিতেছি, লক্ষ্য এবার বিশ্বকাপ’

‘আমরা সব জায়গায় সিরিজ জিতেছি, লক্ষ্য এবার বিশ্বকাপ’
×

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিজান

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ | ১২:২২

৯৫ রানে আউট হয়ে আক্ষেপ হচ্ছিল তাঁর। বোলিংয়ে ৫ উইকেট শিকারের পরও সে আক্ষেপ দূর হয়নি। পেস বোলিং কোচ ডলার মাহমুদ জানান, হাতের আঙুলে সেলাই নিয়েও ফাইনালে বোলিং করেছিলেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিজান। হারারে থেকে সমকালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০২৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যের কথা জানান রিজান হোসেন। শুনেছেন সেকান্দার আলী

সমকাল: নিশ্চয়ই শুনেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে বিশ্বে ৯ জন ক্রিকেটার হাফ সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট পেয়েছেন। সে তালিকার সর্বশেষ সদস্য আপনি।
রিজান: সেঞ্চুরিটা হলে বেশি ভালো লাগত। ১০০ রান করার আনন্দ অন্যরকম। রানআউটটা হয়নি, ক্রিজে ঢুকে গিয়েছিলাম। ৯৫ রানের সঙ্গে ৫ উইকেট শিকারও একটি অর্জন। 

সমকাল: বাংলাদেশের আল আমিন জুনিয়র ও আফিফ হোসেন হাফ সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট পেয়েছিলেন। ৯ জনের তিনজন বাংলাদেশি কেমন লাগে?
রিজান: এটা তো খুব ভালো। বাংলাদেশ উন্নতি করছে। রেকর্ডগুলো তো থেকে যায়। সবাই যখন দেখবে তিনজন বাংলাদেশির রেকর্ড, তখন অন্যরা উজ্জীবিত হবে। 

সমকাল: দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাটিতে সিরিজে হারালেন, জিম্বাবুয়েতে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতলেন। এই অভিজ্ঞতা নিয়ে জানতে চাই। 
রিজান: দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাঠে হারানো দারুণ ব্যাপার। এককথায় একটা বড় অর্জন। জিম্বাবুয়েতে ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হলাম, এটা ভালো একটা অভিজ্ঞতা হলো। জানুয়ারিতে এখানেই বিশ্বকাপ হবে। বিশ্বকাপ ভেন্যুতে ভালো একটা প্রস্তুতি হয়ে গেল। 

সমকাল: বিশ্বকাপে নিজেদের কোথায় দেখতে চান?
রিজান: আমরা সব জায়গায় সিরিজ জিতেছি। এখন পর্যন্ত নেতিবাচক ফল হয়নি। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যা যা করা দরকার, আমরা ওই প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্যাররা আমাদের ভালোভাবে গাইড করছেন। এভাবে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিক থাকলে বিশ্বকাপে ভালো ফল হবে। 

সমকাল: আপনার অলরাউন্ডার হয়ে ওঠার গল্পটা শুনতে চাই। 
রিজান: আমি অনূর্ধ্ব-১৫ দল থেকে খেলছি। তখন থেকেই অলরাউন্ডার। ডানহাতি ব্যাটার ও মিডিয়াম পেস বোলিং করতাম। এভাবে চলতে চলতে অনূর্ধ্ব-১৯ এ এসে বেশি ফোকাস দিচ্ছি। আমি স্যারদের সর্বোচ্চ মনোযোগ পাচ্ছি। তারা ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়ে জোর দিচ্ছেন। এ কারণেই অলরাউন্ডার হয়ে ওঠা। বিশ্বে অলরাউন্ডারদের মধ্যে বেন স্টোকসকে খুব ভালো লাগে। তাঁর ব্যাটিং-বোলিং মনোযোগ দিয়ে দেখি ও উপভোগ করি। 

সমকাল: আপনাদের তো মনোবিদ ক্লাস নিয়েছিলেন। সেগুলো কোনো কাজে দিচ্ছে?
রিজান: বিসিবি খুব ভালো একটা সুযোগ করে দিয়েছিল মনোবিদের সঙ্গে কাজ করার। মনোবিদ যেটা বলেছেন, সেগুলো নিয়ে মাঠে কাজ করেন কোচরা। তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার কৌশল বলে দিচ্ছেন। আমরা নিজেদের এভাবেই পরিণত করছি। 

সমকাল: পেস বোলিং কোচ ডলার মাহমুদ কেমন সহযোগিতা করছেন?
রিজান: ডলার স্যার হাতে ধরে শেখাচ্ছেন পেস বোলারদের। সুইং শেখাচ্ছেন। আগের ম্যাচে তিন উইকেট পেয়েছিলাম। স্যার আমাকে বলে বলে দিচ্ছিলেন কোন ডেলিভারি দিলে সফল হতে পারব। সেভাবে মাঠে বোলিং করায় সফল হয়েছি। 

সমকাল: দলের সবচেয়ে শক্তিশালী কোন বিভাগ?
রিজান: তিন বিভাগই ভালো। অলরাউন্ডাররা ভালো করছেন। আমাদের যে অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম, সে অলরাউন্ডার। আমি আছি, পেস বোলার ফাহাদ ভালো করেছে। সব মিলিয়ে দলটা ভালো।

সমকাল: ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে সেটা কোনো প্রেরণা জোগাবে?  
রিজান: ২০২০ সাল অনেক আগে হয়ে গেছে। আমরা ২০২৬ সালে বিশ্বকাপ খেলব। এখন নতুন করে কিছু করতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা চ্যাম্পিয়ন হব, এই প্রত্যাশা আছে এবং বিশ্বাস আছে। 

সমকাল: আপনি কোথায় পড়ছেন?
রিজান: এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ছি, টাঙ্গাইল মামুনুল হাসান জেনারেল কলেজে।

আরও পড়ুন

×