ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

অনুশীলনে আসছেন আরও ক্রিকেটার

অনুশীলনে আসছেন আরও ক্রিকেটার
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২০ | ০০:৩০

মুশফিকদের মাঠে ফেরার অভিজ্ঞতা দেশের অন্য ক্রিকেটারদেরও আগ্রহী করে তুলছে। নতুন করে একক অনুশীলন করতে আগ্রহ দেখালেন আরও তিন ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

এই তিন ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করে সাজানো হয়েছে একক অনুশীলনের নতুন সূচি। রানা ও তাসকিন ঢাকায় আর খুলনায় অনুশীলন করবেন মিরাজ। বিসিবির তত্ত্বাবধানে একক অনুশীলন করার সাহসী সিদ্ধান্ত নিলেন মোট ১২ জন ক্রিকেটার। ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য করোনাকালীন দৃষ্টান্ত।

দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটায় ক্রিকেটারদের উন্মুক্ত অনুশীলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বিসিবি। ক্রিকেটারদের আগ্রহে চার মাস পর সেখান থেকে সরে এসে রোববার দেশের চারটি ভেন্যুতে অনুশীলনের অনুমতি দেয় বোর্ড। একক অনুশীলনে নাম লেখান নয়জন ক্রিকেটার। মিরপুর শেরেবাংলা, সিলেট আন্তর্জাতিক, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী ও খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম জীবাণুমুক্ত করে অনুশলীনের জন্য প্রস্তুত করে দেয় বিসিবি।

হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছেন চারজন। প্রথম অনুশীলনের অভিজ্ঞতায় ঢাকার ভেন্যুর চার ক্রিকেটারই খুশি। মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন ও শফিউল ইসলাম অগ্রবর্তী দল হিসেবে প্র্যাকটিস করেন। বৃষ্টিস্নাত গতকাল সকালে ইনডোরে ব্যাটিং ও জিম করেছেন মিঠুন আর ইমরুল কায়েস। ইমরুল কালই প্রথম মাঠে নামেন। টপঅর্ডার এ ব্যাটসম্যান নিজের প্রথম অনুশীলনের অভিজ্ঞতা জানালেন ফোনে, 'অনেকদিন পর ব্যাটিং করে ভালো লেগেছে। এভাবে একক অনুশীলন হলে কোনো সমস্যা নেই। নিয়মিতই করা যাবে। আমার অভিজ্ঞতা ভালো।' টানা দ্বিতীয় দিন অনুশীলন শেষে মিঠুনের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে আরও খানিকটা, 'আমরা যেভাবে অনুশীলন করছি তাতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা না। একজন অনুশীলন করে বেরিয়ে গেলে ইনডোর নেট জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। আমার ভালোই লাগছে।'

বিসিবির ভেন্যু ছাড়াও খোলা মাঠে অনুশীলন করা ক্রিকেটার দেশে কম নয়। বিসিবির পুলের ক্রিকেটারদের একটা বড় অংশ মাঠে নেমেছেন অন্তত এক মাস আগে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি পুলের ক্রিকেটাররাও জেলা শহর বা গ্রামের মাঠ বা নদীর পাড়ে অনুশীলন করেন। মৌলভীবাজারের পেসার ইবাদত হোসেন মাধবকুন্ড ঝরনার খোলা জমিতে রানিং করেন। বাড়ির সামনের সড়কে পিচ তৈরি করে নিয়েছেন বোলিং অনুশীলনের জন্য।

ফেনীর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নিজে উইকেট তৈরি করে বোলিং ও ব্যাটিং প্র্যাকটিস করেন ফেনী জেলা কলেজ মাঠে। রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে নাজমুল হোসেন শান্ত, জহুরুল ইসলাম অমি, ফরহাদ হোসেন, ফরহাদ রেজা, মুক্তার আলী, সাব্বির রহমানরা ফিটনেসের পাশাপাশি স্কিল নিয়ে কাজ করেন। বাগেরহাটের রুবেল হোসেন দৌড়ান নদীতীরে। সাতক্ষীরার সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমানরাও আছেন মাঠের অনুশীলনে।

বিসিবির নির্ধারিত ভেন্যুতে অনুশীলন না করায় রুবেলরা তালিকাভুক্তও হচ্ছেন না। আপাতদৃষ্টিতে মাঠের অনুশীলনে নয় ক্রিকেটার মনে হলেও প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এলে দ্রুত ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে যেটা কাজে দেবে। নারায়ণগঞ্জের রনি তালুকদারদের মতো পুলের বাইরের ক্রিকেটাররাও নিয়ম করে অনুশীলন ধরে রেখেছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে। খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মাঠ ছাড়েননি পেসার সাহাদাত হোসেন। স্বেচ্ছায় ক্রিকেটারদের অনুশীলনে থাকা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর বিসিবির জন্য।

আরও পড়ুন

×