শিরোপা জিতেই উদযাপন করতে চায় স্পেন
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ১৩:০৩
মাত্র একটি ধাপ বাকি। শেষ ধাপ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে কঠিন। স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় ফাইনাল, যেখানে তারা তাদের জার্সিতে দ্বিতীয় তারকাটি যুক্ত করার স্বপ্ন দেখছে। বছরের পর বছর দলের খেলোয়াড়রা এই স্বপ্নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন দলের অধিনায়ক রদ্রি হার্নান্দেজ। টুর্নামেন্টে দলের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তাঁর খেলারও দারুণ উন্নতি হয়েছে। প্রথমদিকে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত সূচনা করলেও রদ্রি নিজেকে মেলে ধরেছেন এবং এখন তিনিই পুরো দলের খেলা পরিচালনা করছেন। মাঠ ও মাঠের বাইরে– সবখানেই তিনি একজন সত্যিকারের নেতা, যিনি অনবরত একটি কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘আমি এখানে বিশ্বকাপ জিততে এসেছি।’
দল যেমন বিশ্বাস করে, তেমনি অন্যরাও বিশ্বাস করে, তবে তারা নিজেদের শান্ত রেখেছেন। ঠিক টুর্নামেন্টের শুরুর মতোই শান্ত। সম্প্রতি মিকেল ওয়াইরসাবাল বলেন, ‘কেপ ভার্দে ম্যাচের পর যখন পরিস্থিতি খুব একটা ভালো ছিল না, প্রথম দিন আমার যেমন শান্তভাব ছিল, এখনও আমি ঠিক তেমনই শান্ত আছি।’
আর এই শান্ত বা ধীরস্থির মনোভাবটিই স্পেনের ড্রেসিংরুমের অতিউচ্ছ্বাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখছে। কারণ এটি সত্যি যে ইতিহাসের একটা অংশ লেখা হয়ে গেছে, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি এখনও বাকি। রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েই শিরোপা উদযাপন করতে চায় লা ফুরিয়া রোজারা।
অতিউচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা অনেক সময় বাইরের মানুষের চিন্তাভাবনাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, কিন্তু স্পেনের ড্রেসিংরুমের ভেতরের পরিবেশ মোটেও বদলায়নি। সেখানে কোনো মাত্রাতিরিক্ত উদযাপন নেই, কোনো বড় পার্টি নেই এবং লক্ষ্য অর্জন হয়ে গেছে এমন ভেবে মাতোয়ারা হওয়ার কিছু নেই। প্রতিটি ম্যাচ জেতার পর ২৬ জন খেলোয়াড় শুধু একটি কথাই ভাবেন– ক্ষণিকের জন্য থামা, ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠা এবং পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।
এই প্রসঙ্গে রদ্রি বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন অংশটি এখনও বাকি। সবাই বিশ্বাস করে কী ঘটতে পারে, তবে তারা প্রক্রিয়ার ওপরও আস্থা রাখছে। তারা জানে যে প্রতিটি পদক্ষেপ সাবধানে ফেলতে হবে, কারণ কোনো ধাপ এড়িয়ে গেলে বিশ্বকাপ কাউকে ক্ষমা করে না। আমরা এটি কল্পনাও করিনি, তবে আমরা এখন গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি।’
এই নিয়ন্ত্রিত উচ্ছ্বাসের এক চমৎকার প্রতিফলন হলো পাউ কুবার্সি। ফ্রান্সকে বিদায় করার পর মৃদু হেসে তিনি বলেছিলেন, ‘ভেতর থেকে আমি খুবই আনন্দিত, কিন্তু আমি শান্ত আছি।’ তাঁর এই নম্রতা ও ধৈর্য দলের অন্য খেলোয়াড় যেমন– উনাই, লাপোর্তে, ওয়াইরসাবাল ও খোদ রদ্রির মধ্যেও দেখা যায়। তাদের দেখে মনে হয়, জয় পাওয়াটা যেন তাদের দৈনন্দিন রুটিন ও প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।
কুবার্সি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘খুব বিশেষ কিছু দিন সামনে আসছে, আমরা নিউইয়র্ক যাচ্ছি, স্বপ্নটি এখনও বেঁচে আছে এবং আমরা ম্যাচটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমরা সবাই একই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। দলের জন্য আমাদের যা কিছু আছে, তার সবটুকু বিলিয়ে দেওয়াই আসল কথা। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ছোটবেলায় কেউ এমনটি কল্পনাও করতে পারে না। আমরা এটি ভাবতেও পারিনি, কিন্তু এখন আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি।’
- বিষয় :
- স্পেন
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
- ফাইনাল