ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ঘটনাবহুল লা লিগার 'ভিন্ন' এক সমাপ্তি

ঘটনাবহুল লা লিগার 'ভিন্ন' এক সমাপ্তি
×

--

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২০ | ০১:৪০

রিয়ালের ফেরা

রিয়াল সর্বশেষ তাদের লা লিগার শিরোপা জিতেছে ২০১৬-১৭ মৌসুমে। এরপর টানা দুই বছর স্প্যানিশ লিগে রাজত্ব করে বার্সেলোনা। অবশেষে সেই রাজত্ব ভাঙল। লম্বা সময় পর হলেও প্রিয় লিগের সিংহাসন দখলে নিল লস ব্লাঙ্কোসরা। এ তো দারুণ এক কামব্যাক। বিশেষ করে আগের মৌসুমে সব হারিয়ে এবার পুরোপুরি বাজিমাত।

বেনজেমার চমক

মেসিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে ছিলেন। অন্তত এই মৌসুমে সেরা গোলদাতা হিসেবে নামটা প্রায় লিখিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু শেষ দিকে এসে কিছুটা খেই হারিয়ে মেসিকে ছোঁয়া হয়নি তার। তবু চমৎকার মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগে এই বেনজেমাই ছিলেন অন্যতম ত্রাতা। নিয়মিত গোল করেছেন, দেখিয়েছেন চমকও। বেশ কয়েকটি ম্যাচের নায়কও এই বেনজেমা। অথচ গত কয়েক মৌসুমে তাকে খুঁজেই পাওয়া যেত না। এবার তার ছন্দে ফেরাটা রিয়ালের শিরোপা জেতার জন্য বাড়তি সহায়ক হয়ে ছিল।

পিচিচি মেসির

বার্সার হঠাৎ ছন্দপতনে মন খারাপ হয় লিওনেল মেসির। স্বপ্নের লিগ শিরোপা হাতছাড়া করে মনের অজান্তেই হয়তো পুরো টিমকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান তিনি। তবে শেষটা যখন একটা মধুময় হয়, তখন বোধ হয় কিছুটা হলেও না পাওয়া বেদনা ভুলে থাকা যায়। মেসির বেলায় তেমনটাই হচ্ছে। মৌসুমের শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম- দুই গোল সঙ্গে অ্যাসিস্ট। তাতে আবারও পিচিচি ট্রফি যাচ্ছে তার ঘরে। এ নিয়ে ক্যারিয়ারে সপ্তমবার এই পুরস্কার পেলেন তিনি। এতদিন যে ঘরে যৌথভাবে তেলমো জারার সঙ্গে নাম্বার ওয়ান ছিলেন মেসি। এবার তাকে টপকালেন।

বিতর্কিত সেতিয়েন

শুরু থেকে শেষ; বিতর্ক তার পিছু ছাড়েনি। হুটহাট নিজ দলের খেলোয়াড়দের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা, মাঝেমধ্যে টেকনিকে ভুল করা। আবার খেলোয়াড় বদলি করা নিয়ে কোনো রকম মানদ ফলো না করা। এসব কারণে বার্সার ড্রেসিংরুমে দিনে দিনে তিনি হয়ে ওঠেন চোখের বালি। একপর্যায়ে খেলোয়াড়রাও তার প্রতিপক্ষ হয়ে যান। অনুশীলন ক্যাম্পে তার কথা শোনাও বন্ধ করে দেন অনেকে। ম্যাচের বিরতিতে কোনো টিপস দিতে এলে এড়িয়ে যান তারকা খেলোয়াড়রা।

নাটকীয় ম্যাচ

খুব একটা নাটকীয় ম্যাচ ছিল না এবারের মৌসুমে। তার পরও কিছু ম্যাচ ছিল যা কিনা অনেকেরই মনে দাগ কেটেছে। মার্চ, ২০২০ সেভিয়ার মাঠে অতিথি হয়ে যায় ওসাসুনা। দু'দলের মধ্যে তফাতটা যোজন যোজন। অথচ ওই ম্যাচটা হয় বাঘে-সিংহের লড়াইয়ের মতো। দুই গোলে এগিয়ে থাকা সেভিয়াকে হঠাৎ চাপে ফেলে ওসাসুনা। দুই গোল শোধ করে ফেলে তারা। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে এক গোল দিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেভিয়া। এমন টানটান উত্তেজনার আরেকটি ম্যাচের দেখা মেলে ফেব্রুয়ারিতে।

বেতিসের বিপক্ষে খেলতে নামে বার্সা। দুর্বল দল কিন্তু বেতিস শুরুতেই বার্সাকে এক গোল দেয়। কিছু সময় পর সমতায় ফেরে বার্সা। আবারও লিড নেয় বেতিস। এরপর তারা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। সেখান থেকে বার্সা আবারও স্কোর সমান করে। আর শেষ দিকে ম্যাচের নায়ক বনে যান কাতালান ডিফেন্ডার লেংলেট। তিন পয়েন্ট নিয়ে ন্যু ক্যাম্পে ফেরে বার্সাও।

আরও পড়ুন

×