বাংলাদেশ-হংকং
তিন পেসারে আস্থা লিটনের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১০:৩২ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১০:৩৩
কাগিসো রাবাদা ২০২১ সালের টি২০ বিশ্বকাপে তাসকিন আহমেদকে রুমে ডেকে নিয়ে বোলিংয়ের প্রশংসা করেছিলেন। ওই বিশ্বকাপে সত্যিই ভালো বোলিং করেছিলেন তাসকিন। আবুধাবির যে মাঠে আজ বাংলাদেশ হংকংকে মোকাবিলা করবে, সেখানে তাসকিন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪ ওভারে ১৮ রানে নিয়েছিলেন দুটি উইকেট। ৮৪ রানে অলআউট হওয়া দলের একজন পেসারের এভাবে লড়াই করার মানসিকতা দেখাতে পারা বোলিং ইউনিটের জন্য প্রেরণা।
আবুধাবির শেখ আবু জায়েদ আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে চার বছর পর বাংলাদেশ এশিয়া কাপে যে টি২০ ম্যাচ খেলবে তাতে তাসকিনের প্রেরণা একুশের বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং ইউনিটের লিডার ভালো করলে বাকিরাও উজ্জীবিত হবেন। তপ্ত মরুর নাভিশ্বাস তোলা গরম জয় করে পেস বোলিং ইউনিটের জ্বলে ওঠা খুবই প্রয়োজন। কারণ, বাংলাদেশ দলের শক্তির জায়গা বোলিং হলে পেস ইউনিট তার নিউক্লিয়াস।
মঙ্গলবার আবুধাবি থেকেই এশিয়া কাপ টি২০ টুর্নামেন্টের পর্দা উঠেছে আফগানিস্তান ও হংকংয়ের ম্যাচ দিয়ে। উইকেট কিছুটা স্লো থাকলেও আফগান দল দারুণ খেলেছে। ব্যাটারদের কাছ থেকে ১৮৮ রানের পুঁজি পেয়ে বোলিং ইউনিট জ্বলে ওঠে সমন্বিতভাবে। যেখানে পেস বোলারদের কিছুটা এগিয়ে রাখতে পারেন। চার পেসার মিলে ১০ ওভার বোলিং করে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। ফজল হক ফারুকি ৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে পেয়েছেন দুই উইকেট। কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান নিজের বোলিং পরিকল্পনা সাজাতে বাঁহাতি পেসার ফজল হকের স্পেল পারফরম্যান্স অ্যানালিস্টের ল্যাপটপে দেখেছেন নিশ্চয়ই।
অভিজ্ঞতা আর সক্ষমতায় এগিয়ে থাকা মুস্তাফিজের তুলনা ফজলের সঙ্গে করা হচ্ছে না, বলা হচ্ছে বোলিংটা দেখে নিয়ে কৌশল জানানোর কথা। বুদ্ধিদীপ্ত ফিজের তাতে আপত্তি করার কথাও না। কঠিন চাপেও নিজের নার্ভ ধরে রাখতে পারা ফিজ হতে পারেন বোলিং তথা ম্যাচের ট্রাম্পকার্ড। হংকংয়ের বিপক্ষে বাঁহাতি এ পেসারের বাজিমাত করার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এশিয়ার এই দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবেন তিনি। তাসকিন, মুস্তাফিজের সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন তানজিম হাসান সাকিব। তিনি জোরে বল করেন, ব্যাটিংটাও ভালো। বাঁহাতি শরিফুল ইসলামের থেকে কিছুটা এগিয়ে রাখা হচ্ছে সাকিবকে সেমি-অলরাউন্ডার ভূমিকার কারণে।
বাংলাদেশ হংকংয়ের বিপক্ষে টি২০ ম্যাচ খেলেছে একবারই। ২০১৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে চট্টগ্রামে আপসেট ঘটিয়েছিল তারা। নিজেদের মাঠে হংকংয়ের কাছে হেরে গিয়েছিলেন সাকিব আল হাসানরা। ওই ম্যাচের কেউই লিটনের দলে নেই। তাই ১১ বছর আগের দুঃস্মৃতির ভূত তাড়া করার আশঙ্কা নেই। বরং লিটনের চেষ্টা থাকবে বোলিং ইউনিটকে কাজে লাগিয়ে সফল হওয়া। টাইগার দলপতির হাতে বোলিং বৈচিত্র্য থাকলেও পাওয়ার প্লে ও স্লগ ওভারগুলো ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে বোলার রোটেট করার মুনশিয়ানা থাকতে হবে।
লিটন বোলিং রোটেট বা ফিল্ড সেটআপ ভালোই করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করেছিলেন নেতৃত্ব কাজে লাগিয়ে। শ্রীলঙ্কায় সিরিজ জয়ের মূলে ব্যাটিং পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হলেও বোলিং ছিল বেশি কার্যকর। সিলেটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বোলারদের সময় মতো ব্যবহার করতে পেরেছেন অধিনায়ক। মাঝের ওভারগুলোতে ব্রেক থ্রু পেতে তাসকিনের হাতে তুলে দিয়েছিলন বল। অভিজ্ঞ এ পেসার বলের গতি কমিয়ে ‘ভেরিয়েশন’ কাজে লাগিয়ে শিকার করেছিলেন উইকেট। মুস্তাফিজ উইকেট কম পেলেও নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন রান। তাই এশিয়া কাপে বড় জয়ের শুরু পেতে প্লে বা স্লগের বাইরেও মাঝের ওভারে পেসারদের কাছ থেকে ভালো বোলিং চাইবেন লিটন।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ
- হংকং
- এশিয়া কাপ
- তাসকিন আহমেদ
