দেম্বেলের বদলে যাওয়ার নেপথ্যে
ছবি- এএফপি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১২:০৬
রোনালদিনহো মঞ্চে উঠতেই উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠে যায়। যদিও ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি খাম খুলে বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগেই দর্শক সারিতে স্লোগান উঠে যায় ‘উসমান উসমান’! রোনালদিনহো ‘দেম্বেলে’ বলার আগেই যেন প্যারিস জানত বিজয়ী কে। রোনালদিনহোর ঘোষণার পর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লামিনে ইয়ামাল, সদ্য সাবেক সতীর্থ জিয়ানলুইজি দোন্নারুমাকে আলিঙ্গন করে ধীর পদক্ষেপে মঞ্চে ওঠেন ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে। কয়েক বছর আগেও যিনি চোট ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য শিরোনাম হতেন, সেই দেম্বেলের হাতে ব্যালন ডি’অর দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। কীভাবে হলো এই পরিবর্তন!
সোমবার রাতে প্যারিসের ‘থিয়াত্র দ্যু শাতলে’তে এক জমকালো অনুষ্ঠানে দেম্বেলের হাতে তুলে দেওয়া হয় ব্যালন ডি’অর। মাকে পাশে নিয়ে ট্রফিটা বুঝে নেন ২৮ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ড। মঞ্চে উঠে সবার আগে অতিথিদের সারিতে বসা মাকে বলেছেন, ‘আমরা একসঙ্গে এটা করেছি।’ আবেগে দেম্বেলের চোখ বেয়ে তখন অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। বিখ্যাত ডাচ ফুটবলার রুড গুলিতের সঙ্গে থাকা আরেক সঞ্চালক কেট স্কট মঞ্চে দেম্বেলের মাকে ডেকে আনার পর ধাতস্থ হন তিনি। নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে এই পিএসজি ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন। পিএসজিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই ২০২৩ সালে আমাকে সই করানোর জন্য। এটা একটা ব্যক্তিগত ট্রফি ঠিকই, তবে আমরা সবাই মিলে এটা জিতেছি।’
দেম্বেলের নাম ছড়িয়ে পড়েছিল বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে খেলার সময়। সেখান থেকে মোটা ট্রান্সফার ফিতে ২০১৭ সালে তাঁকে দলে নেয় বার্সেলোনা। বার্সায় ছয় বছরের ক্যারিয়ারে খেলার চেয়ে চোটের কারণেই শিরোনাম হয়েছেন তিনি। তবে পিএসজিতে এসে কোচ লুইস এনরিকের ছোঁয়ায় দুরন্ত হয়ে ওঠেন। এনরিকেকে পিতৃতুল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেম্বেলে। তবে বার্সায় থাকার সময় তাঁর নামের পাশে অপরিণত, অপেশাদার, বিগড়ে যাওয়া প্রতিভা– এসব অপবাদ থাকত। তাঁর বদলে যাওয়ার পেছনে দুই নারীর অবদান আছে। একজন হলেন তাঁর মা ফাতিমা দেম্বেলে। আরেকজন হলেন তাঁর স্ত্রী রিমা এদবাউচে।
এক সময় সামাজিক মাধ্যম তারকা এই মুসলিম নারী দেম্বেলেকে বিয়ের পর পুরোপুরি পর্দার অন্তরালে চলে যান। ২৬ বছর বয়সী এই নারীর ছোঁয়াতেই নাকি দেম্বেলে ছেলেমানুষী অভ্যাসগুলো বাদ দিয়ে পরিণত মানুষ হয়ে ওঠেন। মাঠে উচ্ছৃঙ্খলতা, অনলাইন গেম আসক্তি এবং ঘন ঘন চোটে পড়ায় ফরাসি এ তারকার ক্যারিয়ারই হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছিল। মরক্কোয় জন্ম নেওয়া রিমা বিয়ের পর টিকটক ছেড়ে স্বামীকে সব ধরনের বদঅভ্যাস থেকে মুক্ত করার লড়াইয়ে নামেন। দেম্বেলেকে প্রাত্যাহিক জীবনে ইসলাম ধর্ম পালনে পুরোপুরি মনোযোগী করে তোলেন। কিছু দিনের মধ্যেই নাকি সব অনিয়ম থেকে বের হয়ে আসেন দেম্বেলে। নিজের প্রতিভার স্ফুরণ ঘটানোর প্রতিও মনোযোগী হয়ে ওঠেন তিনি। যার ফল এই পুরস্কার।
পিএসজির প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়, লিগ ওয়ান জয় ও ফরাসি কাপ জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। গত মৌসুমে পিএসজির এ তারকা সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৩ ম্যাচে ৩৫ গোল করেছেন, সে সঙ্গে ১৬টি গোলে সহায়তা করেছেন। দ্বিতীয় হওয়া লামিনে ইয়ামালও গত মৌসুমে ভীষণ উজ্জ্বল ছিলেন। বার্সার লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে মূল ভূমিকা রেখেছেন তরুণ এ স্প্যানিশ উইঙ্গার। মৌসুমজুড়ে ৫৫ ম্যাচে ১৮টি গোল করার পাশাপাশি ২৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
রেমন্ড কোপা, মিশেল প্লাতিনি, জ্যাঁ পিয়েরে পাঁপিন, জিনেদিন জিদান ও করিম বেনজেমার পর ষষ্ঠ ফরাসি ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতলেন দেম্বেলে। টানা তৃতীয়বারের মতো মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন বার্সার স্প্যানিশ মিডফিল্ডার আইতানা বোনামাতি। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা তাঁর হাতে ট্রফি তুলে দেন। লামিনে ইয়ামালও খালি হাতে ফেরেননি, অনূর্ধ্ব-২১ বয়সীদের বর্ষসেরা ‘কোপা ট্রফি’ জিতেছেন এ স্প্যানিশ। পিএসজি কোচ এনরিকে জিতেছেন বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার ইয়োহান ক্রুইফ ট্রফি, পিএসজি হয়েছে বর্ষসেরা ক্লাব।
- বিষয় :
- উসমান ডেম্বেলে
- ব্যালন ডি’অর
