কে হবেন লিটনদের সেই ‘কেউ একজন’?
ছবি- বিসিবি
সঞ্জয় সাহা পিয়াল, চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:২৮
এল ক্ল্যাসিকোর সেই কলতলার ঝগড়াটুকু বাদ দিয়ে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স ধরলে চট্টগ্রামের গতকালের ম্যাচে দুজনের একজনকে ভিনিসিয়ুস, অন্যজনকে দিব্যি ইয়ামাল বলা যায়! প্রথম জন রোভম্যান পাওয়েল, শেষ ওভারে ২২ রান নিয়ে যিনি ‘রিয়ালের ভিনি’ হয়ে উঠেছিলেন। অন্যজন তানজিম সাকিব, সেই বাইশ রানের দুঃখ ভুলিয়ে শেফার্ডকে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ২৭ বলে ৩৩ রান তুলে ‘বার্সার ইয়ামাল’ হয়ে উঠেছিলেন।
এদের দুজনই ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন। ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচে সেরা হওয়ার গর্ব ছিল রোভম্যানের চোখেমুখে। অন্যদিকে তানজিম সাকিবের কণ্ঠে অনুযোগের সুর। ‘যদি আমাদের মিডল ওভারের কেউ একজন দাঁড়িয়ে যেত, তাহলে হয়তো অন্যরকম কিছু হতো। আসলে পাওয়ার প্লেতে চার উইকেট যাওয়ায় সমস্যাটা হয়ে যায়। ওখানে যদি দুটি উইকেটও পড়ত, তাহলেও হতো। এই মাঠেই আমরা বিপিএলে ১৮০ রান তাড়া করি, সেখানে ১৬৬– অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল।’ তানজিম সাকিবের আফসোস কেউ একজন হাল না ধরায়।
ম্যাচটিতে যখন ২৪ বলে ৪৭ রানের দরকার ছিল, তখনও যে আতঙ্কে ছিল ক্যারিবীয়রা, সে কথা খুলেই বলেছেন রোভম্যান পাওয়েল। ‘আমরা ধরেই নিয়েছিলাম শেষ দিকে বাংলাদেশের কেউ একজন কার্যকরী কোনো ইনিংস খেলবে। কিন্তু সেটা না হওয়ায় জিতে গেছি আমরা।’ ইঙ্গিতটা ছিল তাঁর রিশাদ হোসেনের দিকেই। বিশেষ করে, ওয়ানডেতে তিনি যেমন ব্যাটিং করেছিলেন শেষ দিকে, তা দেখার পর। কিন্তু রিশাদের জায়গায় এদিন সেই ‘একজন’ হতে পারতেন তানজিম সাকিব নিজে। ‘ইনিংসের শেষ পর্যন্ত যদি আমি থাকতে পারতাম, আরও গভীরে ইনিংসটি নিয়ে যেতে পারতাম; তাহলে হয়তো হতো। আমি যখন ব্যাটিং করছিলাম, তখন নাসুম ভাইও ভালো খেলছিল। আসলে একটি খারাপ দিন গেছে আমাদের। কেউ ইনিংসটি লম্বা করতে পারেননি।’
এই ইনিংস লম্বা করার দায়িত্ব যাদের ছিল, সেই মিডল অর্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এদিন ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন শামীম হোসেন। পাঁচ নম্বরে নেমে জেসন হোল্ডারের বলে পুল করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন তিনি। অথচ সেই সময় ওই শট খেলার ঝুঁকি না নিলেও পারতেন তিনি। তাঁর এই দায়িত্বহীনতা নিয়ে নিজের হতাশা লুকিয়ে রাখেননি অধিনায়ক লিটন দাস। পুরস্কার মঞ্চে গিয়ে শামীমের নাম ধরেই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
‘আমি শামীমের ব্যাটিংয়ে হতাশ। আরও দায়িত্ব নিয়ে তার ব্যাটিং করা উচিত ছিল। তার ওভাবে আউট হওয়াটা হতাশ করেছে আমাকে। ম্যাচের শেষ ওভার পর্যন্ত সম্ভাবনাটা ছিল আমাদের। যদিও পাওয়ার প্লেতে অতগুলো উইকেট পড়ে যাওয়ার পর চ্যালেঞ্জিং ছিল, কিন্তু ম্যাচটি জেতা অসম্ভব ছিল না।’ এভাবে লিটনকে দলের কারও নাম ধরে অভিযোগ করতে দেখা যায়নি কখনও। ইনজুরি থেকে ফেরার পর এদিন তিনি নিজেই রান পাননি, আশা করেছিলেন শুরুর তিনটি উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মিডল অর্ডারের কেউ এসে হাল ধরবেন। কিন্তু লিটনও সেই ‘কেউ একজন’কে খুঁজে পাননি।
মিরপুরের মতো চট্টগ্রামের এই পিচ নিয়ে কোনো অনুযোগ ছিল না কারও। বরং রাতের শিশির যে ব্যাটসম্যানদের সুবিধা করে দিয়েছিল, সেটাও স্বীকার করেন তানজিম সাকিব। ‘আমরা জানতাম শিশিরের কারণে বোলারদের চ্যালেঞ্জ বাড়বে। সেখানে ব্যাটাররা সুবিধা পাবে। কিন্তু আমরা সেটা কাজে লাগাতে পারিনি।’
রোভম্যান পাওয়েলের মুখেও ছিল শিশির নিয়ে চ্যালেঞ্জের কথা। ‘এখানকার উইকেট ক্রিকেটের জন্য বেশ ভালো। এখানে বোলাররা ভালো করে উইকেট পেয়েছে, যেটা আমরা করে দেখিয়েছি। আবার ব্যাটারদের জন্যও সুযোগ করে দিয়েছে।’ ম্যাচ জিতে রিয়াল মাদ্রিদের মতো উদযাপন না করলেও জেসন হোল্ডার-রোভম্যান পাওয়েলদের আনন্দ কম ছিল না। সাতটি সিরিজ হারার পর যে তারা যে এখন সিরিজ জয়ের অপেক্ষায়।
