স্ট্রেইট ড্রাইভ
শামীমের নামটি না তুললেও পারতেন লিটন
ফাইল ছবি
সঞ্জয় সাহা পিয়াল, চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | ১৪:৩০ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | ১৫:১৬
সব কথার দর যুক্তিতে বাড়ে না, সব সত্য সবসময় প্রিয়ও হতে পারে না। চরম পেশাদারিত্বের মাঝেও কিছু ‘উচিত’ আড়ালের কৌশল নিতে হয়। কিছু আত্মোপলব্ধি চাপা রাখতে হয় সংশোধনের সম্ভাবনা বাচিয়ে রেখেই।
মঙ্গলবার সাগরিকায় ম্যাচটি হারার পর পুরস্কার মঞ্চে দাড়িয়ে অধিনায়ক লিটন কুমার দাস যে কথা গুলো বলেছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারীকে নিয়ে, তা নিশ্চয় শামীমের কানে অপ্রিয় শুনিয়েছে। ‘শামীম হোসেনের ব্যাটিং নিয়ে আমি খুব হতাশ। তাকে ব্যাপারটি নিয়ে ভাবা উচিত। আপনি সব সময় ক্রিজে এসে ব্যাটিং উপভোগ করতে পারবেন না। আপনাকে দায়িত্ব নিতে হবে।’
শেষ পাঁচটি ম্যাচের তিনটিতেই শূন্য, চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচে ১ রান আর আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলেছিলেন ৩৩ রানের ইনিংস। শামীম হোসেন পাটোয়ারির সাম্প্রতিক এই পারফরম্যান্স কোন অধিনায়কের কাছেই প্রত্যাশিত না। তাছাড়া তিনি যখন দেখছেন টপ অর্ডারে অতগুলো উইকেট পরে গেছে, সেখানে মিডল অর্ডারে অ্যাঙ্করিংয়ের ভূমিকা পালন করাটাই বুদ্ধিমান ক্রিকেটারের দায়িত্ব। সেখানে শামীম কিনা পুল হাঁকাতে গেলেন ! কালে কালে কম দিন তো হয়নি তার, চার বছর ধরে আন্তর্জাতিক টি২০ খেলছেন। ম্যাচের পরিস্থিতি আর কন্ডিশনকে সম্মান দেখিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই দায়িত্ব।
লিটন হয়ত সেটাই ইঙ্গিত করেছেন। কিন্তু যেভাবে এবং যে মঞ্চে এসে তিনি তা করেছেন তা মোটেই অধিনায়ক হিসাবে তার সঙ্গে যায়নি। ‘লিটন ওভাবে লাইভ টেলিকাস্টে এসে শামীমের নামটি না বললেই পারতেন।’ দলের সঙ্গে থাকা এক কর্মকর্তা এর বেশি বলতে চাইলেন না পরিনিতি বোধ দেখিয়ে। যে কথা ড্রেসিংরুমে বলার, সেটা লিটন বলছেন বাইরে এসে।
মিডিয়া থেকে সতীর্থদের আগলে রাখাটাই যেখানে অধিনায়কদের কাজের একটি অংশ। সেখানে তিনিই কিনা প্রকাশ্যে কাঠগড়ায় দাড় করালেন শামীমকে। তাছাড়া এদিন তিনি নিজেও তো সফট ডিসমিসাল হয়েছেন। তানজিদ আউট হওয়ার পর ৮ বলে ৫ রান করেছেন মাত্র। তার কি শামীমের দিকে আঙ্গুল তোলার মতো পারফরম্যান্স ছিল এদিন ?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সওয়াল জবাবের মুখে পরতে হয়েছে লিটনকে। মাঠে তার অধিনায়কত্ব প্রশংসা কুড়িয়েছে এশিয়া কাপে। টানা চারটি সিরিজ জিতে দক্ষতার সাক্ষীও রেখেছেন তিনি। কিন্তু এদিন চট্টগ্রামে তার এমন কড়া কড়া কথায় অবাকই হয়েছেন অনেকে। সাংবাদিক সম্মলনে এসে তানজিম সাকিবও মিডল অর্ডারে আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলার কথা বলছেন। তাহলে কি এটাও ড্রেসিংরুমেরই কৌশল ছিল? যেখানে একসঙ্গ সব জায়গাতে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে।
তবে সেটি কৌশল থাকলেও লিটন বোধহয় পরিনিতি বোধ তুলে ধরতে পারেননি দলের ব্যর্থতার জন্য নির্দিষ্ট কারো ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে। তিনি নিশ্চয় ভুলে যাননি বর্তমান দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনই একবার বিপিএলে তার দল কুমিল্লার ব্যাটসম্যান লিটনের ‘মাথায় কিছু নেই’ বলে মিডিয়াতে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। তাও আবার টুর্নামেন্ট চলাকালেই। তখন নিশ্চয় তা লিটনের ভালো লাগেনি।
শামীমেরও লাগেনি, তাই গতকাল ইনস্টাগ্রামে লিটন দাসকে আনফলো করেছেন শামীম। অবশ্য শুনতে অপ্রিয় বলেই শামীমের জন্য শোনাটা জরুরি। তবে কান দিয়ে ‘শোনা’ আর ‘কর্ণপাত’ করাটা বোধহয় এক না। শামীমকে কর্ণপাত করতে হবে আত্মশুদ্ধির জন্যই। ছেলেমানুষি তাড়াহুড়া না করে দায়িত্বটা এবার নিতে হবে।
