ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মিরাজের সাক্ষাৎকার

আমরা সরাসরি বিশ্বকাপ খেলব

আমরা সরাসরি বিশ্বকাপ খেলব
×

ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ। ছবি: ক্রিকইনফো

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:০৫ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:২০

ওয়ানডে ক্রিকেট বাংলাদেশের পছন্দের সংস্করণ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে থেকে এখন পর্যন্ত যেটুকু সাফল্য পাওয়া গেছে, তা ৫০ ওভারের খেলায়। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে এ সংস্করণেই ভালো করতে পারছে না দল। ২০২৫ সালে মাত্র তিনটি ওয়ানডে জিতেছে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে। এ নিয়ে সমালোচনার ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের। শঙ্কা তৈরি হয়েছে সরাসরি আগামী বিশ্বকাপ খেলা নিয়েও। ওয়ানডে পারফরম্যান্স ও সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে মিরাজ একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সেকান্দার আলীকে। 

সমকাল: ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলের সংগ্রাম করার কারণ কী?

মিরাজ: প্রথম আমরা লম্বা বিরতিতে ওয়ানডে খেলছি। ধারাবাহিক ভালো করতে না পারার অন্যতম কারণ এটি। নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে উন্নতিটা দ্রুত হয়। ২০২৩ সাল থেকে আমরা সে সুযোগ পাচ্ছি না। অনিয়মিত সিরিজ খেলছি। লম্বা বিরতির কারণে ছন্দটাও হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কতটা ওয়ানডে খেলেছি? সামান্যই খেলা হয়েছে। এমনও হয়েছে, ছয় মাস বিরতি দিয়ে ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছি। বড় বিরতি পড়লে দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া কঠিন।

সমকাল: আপনার নেতৃত্বে দল ভালো করতে পারছে না কেন?

মিরাজ: আমি অফিসিয়ালি ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পেয়েছি এ বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে। আগের বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে টস করেছিলাম সহ-অধিনায়ক হিসেবে। নাজমুল হোসেন শান্তর চোট থাকায় উইন্ডিজে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলাম। ওই সিরিজে তিনটি ম্যাচই হেরেছি। হ্যাঁ, ম্যাচগুলোর হারের রেকর্ড আমার ক্যারিয়ারে যোগ হয়েছে। তবে আমি আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পাওয়ার পর ৯টি ম্যাচ খেলে তিনটি জিতেছি। আমাকে গোছানোর জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে। শ্রীলঙ্কা সিরিজে আমি তিন-চার দিন সময় পেলেও ম্যানেজমেন্ট ও ক্রিকেট বোর্ড থেকে সমর্থন  পেয়েছি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জিততে না পারলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাজে ক্রিকেট খেলেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো হয়েছে।

উইকেট বুঝতে মনোযোগী ওয়ানডে অধিনায়ক মিরাজ। ছবি: ক্রিকইনফোসমকাল: আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার কারণ কী?

মিরাজ: এই ব্যর্থতা আমার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে অন্তত সিরিজ জেতা উচিত ছিল। সমস্যা হলো আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটি ক্লান্তি নিয়ে খেলেছেন বেশির ভাগ খেলোয়াড়। টি২০ এশিয়া কাপ ও টি২০ সিরিজ মিলিয়ে প্রায় এক মাসের মতো আরব আমিরাতে খেলেছে। টি২০ সিরিজ শেষ হওয়ার দুই-তিন দিন পরই ওয়ানডে সিরিজ খেলেছি। টি২০ খেলা ক্রিকেটাররাই ওয়ানডে দলে ছিল। তিন-চারজন গেছে ঢাকা থেকে। এই জায়গায় মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়েছিল দল। এশিয়া কাপের পর একটা বিরতি পেলে হয়তো এ রকম হতো না। আফগানিস্তানের কাছে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার কারণ মানসিক অবসাদ হতে পারে। 

সমকাল: টার্নিং উইকেটেও কেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করা গেল না?

মিরাজ: আমরা প্রথম ওয়ানডেতে ভালো করেছি। দ্বিতীয় ম্যাচ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। অনেকে অনেক ধরনের মন্তব্য করেছে (হাসি)। অনেক সমালোচনা হয়েছে। আমরা খারাপ খেললে বা হারলে যে সমালোচনা হয়, সেটাকে আমি খারাপভাবে নিই না। কারণ প্রত্যেক মানুষ চায়, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ জিতি। যখন জিততে পারি না, তখন সমালোচনা করে। তাদের জায়গায় থাকলে আমিও সমালোচনা করতাম। আমি সমালোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে নিই। কারণ, তারা আমাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা করে। আমরা ভালো করলে দেশের সব মানুষ খুশি হয়। আমার অধিনায়কত্ব নিয়ে হয়তো সমালোচনা একটু বেশি হয়েছে (হাসি)। আমার খেলোয়াড়ি জীবনে এতটা সমালোচনা হয়নি, যতটা অধিনায়ক হওয়ার পর হয়েছে (হাসি)। প্রথম দিকে সমালোচনা নিতে একটু কষ্ট হলেও মানিয়ে নিয়েছি (হাসি)।  

সমকাল: ব্যাটিং ক্লিক করছে না কেন?

মিরাজ: ব্যাটিং ক্লিক না করার কারণ নিয়মিত ওয়ানডে ম্যাচ না খেলা। একটি সংস্করণ থেকে আরেক সংস্করণে খেলতে গেলে কিছুটা এলোমেলো থাকে। এই সময় মানসিকভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। নিজের ওপর যার নিয়ন্ত্রণ বেশি, সে তত সফল। এই জায়গায় আমাদের উন্নতি করতে হবে। আমাদের টপঅর্ডার ব্যাটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সাহসী হতে হবে। 

নেতৃত্বের পাশাপাশি মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করায় বাড়তি ভারও নিতে হচ্ছে মিরাজের। ছবি: ক্রিকইনফোসমকাল: মিরপুরের টার্নিং উইকেটে খেলে কোনো লাভ হলো?

মিরাজ: সব ধরনের উইকেটেই খেলতে হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি২০ বিশ্বকাপের উইকেট অতটা ভালো ছিল না। মিরপুরের মতোই ছিল। হ্যাঁ, উইকেট নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন; কিন্তু আমরা টার্নিং উইকেটেও ২৯৬ রান করেছি। ৩০০ রান ছাড়িয়ে যেতে পারত আর একটু ধরে খেলতে পারলে। উইকেট ভালো-খারাপ থাকবে, সেখানে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে ভালো খেলতে হবে। এই মানিয়ে নেওয়াটাই হলো স্মার্টনেস। ব্যাটাররা হলো দলের মেরুদণ্ড। তারা ভালো করলে বোলাররা মন খুলে বোলিং করতে পারে। আশা করব, সামনে ব্যাটাররা ধারাবাহিক হবে। 

সমকাল: আপনার অধিনায়কত্ব নিয়ে বাইরে সমালোচনা হচ্ছে। এ সময়ে ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কেমন সাপোর্ট পাচ্ছেন?

মিরাজ: বিসিবির সবাই আমাকে সমর্থন দিচ্ছে। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ থেকে অনেক সহযোগিতা করছে। পরিচালকদের সমর্থন পাচ্ছি। সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ভাই, সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ভাই সাহস দিয়েছেন।  ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে দ্বিতীয় ম্যাচ হারের পর সকলে উজ্জীবিত করেছেন। এটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আমরা অনেক দিন পর ওয়ানডে সিরিজ জিতেছি। প্রায় দেড় বছর পরে সিরিজ জেতায় সবাই খুশি। আসলে আমরা ক্রান্তিকালের ভেতর থেকে উত্তরণের দিকে যাচ্ছি। মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভাই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলে অবসরে গেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। 

সমকাল: আবার ছয় মাস পর ওয়ানডে সিরিজ খেলবেন। তখন কীভাবে ম্যনেজ করবেন?

মিরাজ: পরের সিরিজেও হয়তো কিছুটা সংগ্রাম করতে হতে পারে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে সিরিজে যেতে পারলে ভালো হবে। ২০২৬ সালে অনেক খেলা। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে খেলা। আয়ারল্যান্ডে খেলতে যাব। আমার মনে হয়, তখন সমস্যা হবে না।  

অনুশীলনে মিরাজ। ছবি: ক্রিকইনফোসমকাল: আপনারা কি সরাসরি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার মতো অবস্থানে আছেন?

মিরাজ: বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার সময় এখনও আছে। আমরা এখন ১০ নম্বরে আছি। ২০২৬ সালে বড় চারটি হোম সিরিজ খেলব, সেগুলো জিততে পারলে র‌্যাঙ্কিংয়ে ভালো উন্নতি হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ২০২৭ সালে আমরা সরাসরি ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলব। 

সমকাল: বর্তমান দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে। এই দলটাকে শক্তিশালী করতে কত দিন লাগবে?

মিরাজ: যারা আছে, তারা অভিজ্ঞ। সবাই নিজেকে ভালোভাবে প্রস্তুত করলে ভালো করা সম্ভব হবে। সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ এক যুগ হলো জাতীয় দলে। মুস্তাফিজুর রহমান ১১ বছর হলো। আমার ৯ বছর হয়ে গেছে। এখানে জুনিয়র ক্রিকেটার হাতেগোনা দুই-চারজন। এই দলটাকে এক সুতায় বাঁধা গেলে ভালো করা সম্ভব এবং সেটা করতে হবে।  

আরও পড়ুন

×