সাক্ষাৎকারে হাসান মুরাদ
‘টেস্টে দ্রুত মানিয়ে নিতে হয়’
হাসান মুরাদ
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ১১:৩৫ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:০৭
জাতীয় লিগের নিয়মিত পারফরমার হাসান মুরাদ জাতীয় দলের সঙ্গে আছেন দুই বছরের মতো। খেলার সুযোগ না পেলেও আন্তর্জাতিক ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছেন মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলামদের সঙ্গে। তিনি সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগালেন অভিষেক সিরিজে। গতকাল সমকালকে বাঁহাতি এ স্পিনার জানান মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে টেস্ট খেলার মধ্য দিয়ে। হাসান মুরাদের একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সেকান্দার আলী।
সমকাল: অভিষেক সিরিজে জয় পেলেন। অভিজ্ঞতা কেমন হলো?
হাসান মুরাদ: আলহামদুলিল্লাহ। ভালো লাগার অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। দুই বছর ধরে জাতীয় দলের সঙ্গেই ছিলাম। টেস্ট দলের সঙ্গে থেকে কাজ করেছি। কাছ থেকে সবকিছু দেখার সুযোগ হয়েছে। ম্যাচ না খেললেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিবেশটা বুঝতে পেরেছি। সিনিয়র খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতাগুলো নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তারা অনেক সহযোগিতা করেছেন। সব মিলিয়ে ভালো হয়েছে। ভলো অনুভূতি নিয়ে সিরিজটি শেষ করতে পেরেছি।
সমকাল: সিলেটে খুব ভালো উইকেট ছিল। সেখানে ভালো বোলিং করতে কী কৌশল নিয়েছিলেন?
হাসান মুরাদ: সিলেটে খুব ভালো উইকেট ছিল। প্রথম দিন থেকে ব্যাটিং স্বর্গ পেয়েছি। ওই কন্ডিশনে আমাদের স্পিনারদের রোল ছিল ধৈর্য ধরে লম্বা স্পেল করা। ছোট ছোট পরিকল্পনা করে ব্যাটারদের বিট করার চেষ্টা করে গেছি। ছোট ছোট স্পেলে বোলিং করে সফল হতে চেষ্টা করেছি।
সমকাল: ঢাকা টেস্টের উইকেট স্পোর্টিং ছিল। এটা কি আশা করেছিলেন?
হাসান মুরাদ: মিরপুরে সাধারণত এ রকম উইকেট দেখি না। এই মাঠে অনেক দিন পর টেস্ট ম্যাচ পাঁচ দিনে গেছে। উইকেট দেখার পর আমাদের মোটামুটি ধারণা হয়েছিল ম্যাচ লম্বা হতে পারে। সব বিভাগের জন্যই উইকেট ভালো ছিল। রান করতে পারবেন, ভালো বোলিং করলে উইকেট নিতে পারবেন। এখানে অনেক রান হয়েছে। স্পিনাররাও বোলিং ভালো করেছে। একটু চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে ভালো উইকেটে খেলা হয়েছে। টেস্টের জন্য আদর্শ একটি উইকেট ছিল।
সমকাল: মিরপুরে সাধারণত স্লো ও লো উইকেটে খেলে অভ্যস্ত আপনারা। গত ১০-১২ বছরের রেকর্ড তেমন ভালো না। সেই মাইন্ড সেট থেকে কীভাবে বের হলেন? আগের অভিজ্ঞতাগুলো কি সমস্যা করেছে?
হাসান মুরাদ: ভালো একটি প্রশ্ন করেছেন। আমরা এক ধরনের উইকেটে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গিয়ে ভালো উইকেট পেয়েছি। এই যে মানিয়ে নেওয়াটাই হলো ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পার্থক্য। যে রকম উইকেটেই খেলার অভিজ্ঞতা আগে হয়েছে, সেগুলোকে এক পাশে রেখে বর্তমান কন্ডিশনে ভালো খেলতে হবে। এই সুইচিংয়ের ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে। আপনাকে কম সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ভুলে যেতে হবে আপনি ঘরোয়া ক্রিকেট কেমন উইকেটে খেলেছেন আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ ভালো উইকেটে খেলছেন। দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার কৌশল জানতে হবে। টেস্টে প্রতিদিন, প্রতিটি ঘণ্টা, প্রতিটি সেশন নতুনভাবে ধরা দেবে। এই জিনিসগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই হলো টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য। মিরপুরে খেলতে নেমে খুব একটা ডিস্টার্ব বোধ করিনি। উইকেট দেখেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলাম।
সমকাল: ফ্ল্যাট উইকেটেও বল টার্ন করাতে পারেন আপনি। নিশ্চয়ই আরও নতুন স্কিল যোগ করবেন নিজেকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে?
হাসান মুরাদ: স্কিলের দিক থেকে প্রতিদিন উন্নতি করতে হবে। এখানে কোনো আপস নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে গেলে প্রতিমুহূর্তে উন্নতি করতে হবে। এ ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়। কারণ প্রযুক্তির যুগে আপনাকে প্রতিপক্ষ খুব সহজে পড়ে ফেলবে। সুতরাং আপনাকেও আপডেট হতে হবে। শক্তির জায়গাগুলো বাড়াতে পারলে সফল হওয়ার সুযোগ থাকবে।
সমকাল: ২০২৬ সালে অনেকগুলো সিরিজ আছে দেশে-বিদেশে। ওই সিরিজগুলো নিয়ে এখন থেকেই তো পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিতে চান?
হাসান মুরাদ: সামনের বছর অনেকগুলো টেস্ট আছে। দেশের মাটিতে বেশ কিছু টেস্ট ম্যাচ পাওয়া যাবে। আমি সবে শুরু করলাম। এই সিরিজ খেলার পর আমার মনে হয়েছে, বেশ কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। সেগুলো নিয়ে কাজ করব জাতীয় লিগ থেকেই। সামনে সুযোগ এলে যাতে দলের জন্য অবদান রাখতে পারি।
সমকাল: আয়ারল্যান্ড অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দলগুলো বেশি শক্তিশালী। তাদের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মতো মানসিক প্রস্তুতি আছে?
হাসান মুরাদ: পদ্ধতি ঠিক থাকলে যে কোনো দলের বিপক্ষে লড়াই করতে পারবেন। সামনে লম্বা বিরতি আছে। চেষ্টা করব দলের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে। যেটা হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেট বলেন বা আন্তর্জাতিক খেলা কোনো দলই ছোট না। আয়ারল্যান্ডকে আমরা ছোট করে নিইনি। ওরা যেভাবে পঞ্চম দিন বিকাল পর্যন্ত লড়াই করেছে, তা ছিল রোমাঞ্চকর। তারা চ্যালেঞ্জ দিয়েছে আমাদের। প্রতিটি দল এই চ্যালেঞ্জ দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। আমরা দল হিসেবে উন্নতি করার চেষ্টা করছি। আগেও আমরা বড় বড় দলের বিপক্ষে জিতেছি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোমে টেস্ট জিতেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে সিরিজ ড্র করেছি। সামনেও ভালো হবে ইনশাআল্লাহ।
সমকাল: জাতীয় লিগ ও টেস্ট ক্রিকেটের মধ্যে পার্থক্য কেমন?
হাসান মুরাদ: ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পার্থক্য সব সময়ই থাকে। একটা বড় পার্থক্য থাকে। একটি টেস্ট দলে সাতজন ব্যাটার খেলেন, তাদের অ্যাভারেজ থাকে ৪০ প্লাস। ওই দিক থেকে বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ। টেস্ট খেলেন একটি দেশের সেরা ব্যাটাররা। তাদের বিপক্ষে বোলিং করতে হয়। লিগে তা নয়। এখানে নিজেদের মধ্যে খেলা হয়। টেস্ট দলের মতো ব্যাটার এখানে অত বেশি থাকে না। সেদিক থেকে দেখলে অনেক পার্থক্য। টেস্টে মেন্টাল চ্যালেঞ্জটা বেশি থাকে।
সমকাল: অভিষেকে প্রথম উইকেট পাওয়ার পর অনুভূতি কেমন ছিল?
হাসান মুরাদ: প্রতিটি খেলোয়াড়ের লক্ষ্য থাকে দেশের হয়ে খেলার। আমি সেই সুযোগটা পেয়েছি। আমার স্বপ্ন ছিল টেস্ট খেলব, দলের জন্য অবদান রাখব। ম্যাচ জেতাব। অতটা ভালো করতে না পারলেও চেষ্টা করেছি প্রথম সিরিজে। ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ পরার পর থেকে আমার দায়িত্ব বেড়ে গেছে। ক্রিকেটার হিসেবে মর্যাদাও বেড়েছে। প্রথম উইকেটটা খুবই স্পেশাল। ধৈর্য নিয়ে লম্বা সময় বোলিং করার পর উইকেট পেয়েছি। উইকেট পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আমি চেষ্টা করেছি দল থেকে যে রোল দেওয়া হয়েছে, সেটা অনুসরণ করতে।
সমকাল: জাতীয় দলের সবার কাছ থেকে কেমন বাহবা পেলেন?
হাসান মুরাদ: সবাই খুব সাপোর্ট দিয়েছে। আমাদের দল অনেক অভিজ্ঞ। মুশফিক ভাই ১০০ টেস্ট খেলেছেন, সৌরভ ৭৫টি টেস্ট খেলা, মিরাজ ভাই, লিটন ভাই অনেক টেস্ট খেলা প্লেয়ার। গত দুই বছর তাদের সঙ্গে দলে ছিলাম। তারা সব সময় সাপোর্ট দিয়ে গেছেন। কীভাবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হয়, সেই ফ্লেভারটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা।
সমকাল: স্পিন কোচ মুস্তাক আহমেদ কতটা সহযোগিতা করেছেন?
হাসান মুরাদ: যতটা পেরেছি তাঁর কাছ থেকে শিখতে। সিরিজ শুরু হয়ে গেলে শেখার সুযোগ থাকে না। যেহেতু দলের সঙ্গে ছিলাম, তাঁকে তিনটি সিরিজে পেয়েছি। সে সময়ে কাজ করেছি। স্কিল ও মেন্টর হিসেবে অনেক কিছু দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি আমাকে কিছু জিনিস দেখিয়ে দিয়েছেন, আমি সেগুলোতে উন্নতি করার চেষ্টা করছি।
সমকাল: টেস্ট তো শেষ, এবার কি জাতীয় লিগে ফিরে যাবেন?
হাসান মুরাদ: হ্যাঁ, জাতীয় লিগে পরের রাউন্ড থেকে খেলব।
- বিষয় :
- হাসান মুরাদ
