ডার্বিতে উৎসব মোহামেডানের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১১:৪০
ম্যাচের ৫৮ মিনিটের মধ্যে ৩ গোলের লিড মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে জয়টা তখন খুব সহজই মনে হচ্ছিল সাদা-কালো জার্সিধারীদের। কিন্তু লড়াইটা যখন দেশের দুই ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাবের, যেখানে শেষ না হওয়া পর্যন্ত ম্যাচের গল্প লেখা যায় না, সেই ম্যাচে উত্তাপ ছড়াবে না, তা কি করে হয়।
সোমবার কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে মোহামেডান ও আবাহনীর লড়াইয়ের পরতে পরতে ছিল উত্তেজনা। পিছিয়ে পড়া আকাশি নীল জার্সিধারীরা ৫ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করলে জমে ওঠে ম্যাচ। মোহামেডান শিবিরে তখন আকাশের কালো মেঘ ঘনীভূত। উজ্জীবিত আবাহনী শেষ দিকে প্রভাব বিস্তার করে খেলেছে। কিন্তু গতকালের ডার্বিটা যে মোহামেডানেরই। আলফাজ আহমেদের দল আর গোল করতে না পারলেও আবাহনীকে দেয়নি সমতা ফেরানোর সুযোগ। তাতে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের প্রথম ডার্বিতে হাসল মোহামেডান। আবাহনীকে ৩-২ গোলে হারিয়ে এবারের মৌসুমে লিগে প্রথম জয় পেয়েছে মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি। আর এটা আবাহনীর দ্বিতীয় হার। তিন ম্যাচে একটি করে জয়, ড্র ও হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডানের পয়েন্ট ৪। সমান ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট ১।
মোহামেডানের হোম ভেন্যুতে শুরুটা দারুণ ছিল আবাহনীর। প্রথম ১০ মিনিট মোহামেডানের সীমানায় একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে এ কে এম মারুফুল হকের দল। ব্রাজিলিয়ান ব্রুনো মাতোসের পায়ের জাদুতে ছড়িয়েছে মুগ্ধতা। তৃতীয় মিনিটে হাসান মুরাদের দূরপাল্লার শট প্রায়ই চলে যাচ্ছিল মোহামেডানের জালে, তবে দলটির গোলরক্ষক সুজন হোসেন লাফিয়ে উঠে তা ঠেকান। খেলার ধারার বিপরীতে ২০ মিনিটে এগিয়ে যায় সাদা-কালো জার্সিধারীরা। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠা স্যামুয়েল বোয়াটেংকে ঠেকাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন আবাহনী গোলরক্ষক মিতুল মারমা। তিনি কোনো চ্যালেঞ্জ জানানোর আগে কাটব্যাক করেন বোয়াটেং। যদিও তা গিয়ে পড়ে ইয়াসিন খানের পায়ে। তাতে আবাহনীর বিপদ কেটে গেছে বলেই ধরা হচ্ছিল। কিন্তু সুযোগসন্ধানী ফরোয়ার্ডের মতো ইয়াসিনের কাছ থেকে ছোঁ মেরে বল কেড়ে নেন রহিম উদ্দিন। এরপর ফাঁকা পোস্টে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি তিনি। ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় মোহামেডানের। মুজাফফরভের উড়ন্ত কর্নারে শুধু পা ছুঁয়ে দেন এলি কেকে এমানুয়েল। আবাহনী গোলরক্ষক মিতুল মারমার তাতে কিছুই করার ছিল না। ৪২ মিনিটে সুযোগ আসে আবাহনীর সামনে। তবে ব্রুনো মাতোসের নিখুঁত ফ্রিকিক অসাধারণ দক্ষতায় ফেরান গোলরক্ষক সুজন।
প্রথমার্ধে ২ গোলের লিড নেওয়া আলফাজ আহমেদের দল বিরতির পর করে আরও এক গোল। ৫৮ মিনিটে জাহিদ হাসান শান্তর ক্রসে মাথা ছুঁয়ে গোল করেন বোয়াটেং। ৩ গোলে এগিয়ে যাওয়া মোহামেডান শিবিরে তখন স্বস্তি বইতে থাকে। কিন্তু আবাহনীও হাল ছাড়ার দল নয়। ৭২ মিনিটে কাজেম শাহের পাসে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ গোল করেন পাপন সিংহ। ৭৮ মিনিটে জটলার মধ্য থেকে শেখ মোরছালিন গোল করলে ব্যবধান গিয়ে কমে একে। সমতা ফেরাতে মরিয়া আবাহনী একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আর পারেনি।
এক মাসের বেশি সময়ের পর শুরু হওয়া লিগে গতকাল অন্য খেলায় জয় পেয়েছে বসুন্ধরা কিংস। মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কিংস ২-০ গোলে হারায় আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে। বসুন্ধরার দুটি গোলই করেন ডোরেয়েল্টন। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ পুলিশ এফসি ও ফর্টিস এফসির মধ্যকার ম্যাচটি গোলশূন্যভাবে শেষ হয়েছে। আরেক খেলায় মুন্সীগঞ্জে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের বিপক্ষে ব্রাদার্স ইউনিয়ন জিতেছে ২-০ গোলে। গোল করেছেন সানিশ শ্রেষ্ঠা ও অরিক বিস্তা।
