বিদায় বেলায়ও বর্ণবাদের প্রতিবাদ খাজার
বিদায়ী ঘোষণায় উপস্থিত ছিল উসমান খাজার পরিবার। দুই মেয়ের সঙ্গে ফ্রেমবন্দী তিনি। ছবি: এএফপি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:২৬
গুঞ্জনটা কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। সিডনি টেস্ট শুরুর দুই দিন আগে গতকাল যখন উসমান খাজা সংবাদ সম্মেলনে আসার কথা জানানো হলো, তখনই বিষয়টা আঁচ করতে পেরেছিল সবাই। সেই গুঞ্জনকে সত্যি করে সংবাদ সম্মেলনে অবসরের ঘোষণা দিলেন খাজা।
রোববার থেকে সিডনিতে শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজের শেষ টেস্ট দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার। অবসরের ঘোষণায় একটি গুরুতর অভিযোগও করেন ৩৯ বছর বয়সী খাজা। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি।
২০১১ সালে কিংবদন্তি রিকি পন্টিং চোট পাওয়ায় এই সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই (এসসিজি) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল খাজার। এখানেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক টি২০তে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। সেই মাঠকেই অবসরের জন্য বেছে নিলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এ ক্রিকেটার। কিছু দিন ধরে চেনা ফর্মে ছিলেন না খাজা। দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল।
সেই বিতর্কের মাঝেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবনের দাঁড়ি টেনে দিলেন খাজা। এসসিজি’র প্রেস কনফারেন্স রুমে স্ত্রী র্যাচেল ও দুই কন্যাসন্তানকে পাশে নিয়ে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার সময় কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি, ‘অবসরের ভাবনাটা কিছু দিন ধরেই মাথায় ঘুরছিল। অ্যাশেজ শুরুর সময়ও ভেবেছি, এটিই হয়তো আমার শেষ সিরিজ।’
উসমান খাজা
ফরম্যাট ম্যাচ রান গড় সেঞ্চুরি
টেস্ট ৮৭ ৬২০৬ ৪৩.৩৯ ১৬
ওয়ানডে ৪০ ১৫৫৪ ৪২.০০ ২
টি২০ ৯ ২৪১ ২৬.৭৭ –
খাজা জানিয়েছেন, চলতি অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টে দলে জায়গা না পাওয়ার পরই নাকি তিনি বুঝে যান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়ে গেছে।’ অস্ট্রেলিয়ান এ তারকা বলেন, ‘দ্বিতীয় টেস্টে দলে জায়গা না পাওয়া আমার কাছে একটা ইঙ্গিত ছিল। তখনই মনে হয়েছিল, এবার সামনে এগোনোর সময়।’
আগামী বছর পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলতে ভারত সফরে যাবে অস্ট্রেলিয়া। সে সিরিজে খেলার ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সংবরণ করেন।
অবসরের ঘোষণার সময় বর্ণবিদ্বেষের শিকার হওয়া নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন খাজা, ‘মিডিয়া এবং সাবেকরা আমাকে যেভাবে আক্রমণ করেছে, সেটি হয়তো আরও কিছু দিন সহ্য করতে পারতাম। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে চলল ব্যাপারটা। আমার প্রস্তুতি নিয়েও আক্রমণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আমি দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নই, শুধু নিজের কথা ভেবে ক্রিকেট খেলি, কঠোর অনুশীলন করি না। গলফ খেলি, অলস, স্বার্থপর। এগুলো বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের মতোই। একটা সময় ভাবতাম, এসব বিষয়কে আমরা পেছনে ফেলে এসেছি। এখন মনে হচ্ছে, এখনও আমাদের মাঝে ওই রকম মানসিকতা খানিকটা রয়ে গেছে। আমার আগে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্রিকেটারকে এই ধরনের আক্রমণের শিকার হতে হয়নি।’
ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি বিমানের পাইলটও ছিলেন খাজা। নিজের ধর্ম নিয়েও গর্বিত তিনি, ‘আমি পাকিস্তান থেকে আসা একজন শ্যাম বর্ণের গর্বিত মুসলিম। যাকে বলা হয়েছিল, কখনও অস্ট্রেলিয়া দলের হয়ে খেলতে পারবে না। এখন আমাকে দেখুন, এই কাজ আপনিও করতে পারবেন।’
খুব ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে অস্ট্রেলিয়া চলে যান খাজা। একসময় তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা একমাত্র এশিয়ান। এজন্য তাঁকে রোল মডেল হিসেবেও দেখা হয়।
৮৭ টেস্টে ৪৩.৩৯ গড়ে ১৬টি সেঞ্চুরিসহ ৬২০৬ রান করা খাজা এসসিজি’র পাশে কুক রোডে বসবাস করতেন। মাঠটি তাই এক অর্থে তাঁর ‘হোম গ্রাউন্ড’।
সেই প্রিয় মাঠে বিদায়ী টেস্ট খেলতে পারছেন বলে বেশ খুশি তিনি, ‘এসসিজি–যে মাঠটিকে আমি ভালোবাসি, যেখানে একটু মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিতে পারছি বলে আমি খুশি। তবে সিরিজের শুরুটা আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল।’ টেস্ট ছাড়লেও ব্রিজবেন হিটের হয়ে বিগ ব্যাশে খেলবেন তিনি। কুইন্সল্যান্ডের হয়ে শেফিল্ড শিল্ডেও খেলতে চান খাজা।
- বিষয় :
- অ্যাশেজ সিরিজ
